বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
আদেশ পালন
৭৫

আমার প্রিয়জন বলিয়া মনে হইল। আর আমার “অন্ধকার”? আহা, সে-ও তো বাঙ্‌লাদেশের মাটিতে জন্মিয়াছে!

 মনে করিলাম, বিলাত পৌঁছিয়া তাহাকে পত্র দিব। কিন্তু সেখানে গিয়া তাহাকে পত্র দেওয়া দূরে থাক, জন্মভূমির প্রতি আমার যে মনের ভাব ছিল, তাহারো পরিবর্ত্তন হইয়া গেল! পোষ্যপুত্র যেমন পালিকা মাতার বাহিরের বিভব দেখিয়া তাহাতেই আব্বষ্ট হইয়া আপনার স্নেহময়ী দুঃখিনী মাতাকে অবজ্ঞার চোখে দেখিতে থাকে, আমার দশাও কতকটা সেইরূপ দাঁড়াইয়াছিল। ইংলণ্ড আর ভারতবর্ষ! স্বর্গ আর মর্ত্ত্য! তখন ভুলিয়া গিয়াছিলাম, ইংলণ্ডে এ স্বর্গের সৃষ্টি কাহার ধনরত্নে হইয়াছিল!

 পড়াশুনায়, আমোদ-আহ্লাদে, বিলাস-বিভ্রমে তিন বৎসর কাটাইয়া দিলাম। বিলাতে থাকিবার সময় আমার দুই কুল (পিতৃ ও শ্বশুর) হইতে চিঠিপত্র আসিত। আমিও নিয়মমত উত্তর দিতে ক্রটী করিতাম না। আমার “অন্ধকার” ও আমায় দুইখানি চিঠি লিখিয়া তাহার উত্তর না পাইয়া আর আমায় চিঠি লিখিয়া অনুগৃহীত করেন নাই! আমিও