তাহাতে তখন বিশেষ দুঃখিত হইয়াছিলাম বলিয়া ত মনে হয় না। তাঁহার পত্রের এক স্থানে লেখা ছিল, “বাড়ী ফিরিবার আগে আমায় খবর দিয়ো।” আমি কিন্তু কথা মত কাজ করি নাই—আর করিলেই কি হইত!
ব্যারিষ্টার হইয়া দেশে ফিরিলাম। ফ্লোরা সঙ্গে আসিবার জন্য বড়ই ব্যস্ত হইয়াছিল, নানা কারণে তাহার ইচ্ছা পূর্ণ করিতে পারিলাম না। আমার মনে হইয়াছিল যেন প্রাণের আধখানা সেই শ্বেতদ্বীপে রাখিয়া আমি স্বদেশে ফিরিতেছিলাম। ফ্লোরা আমার কে? আজ সে আমার কেহ নয়!
প্রবাস হইতে যেদিন বাঙালী বাঙ্লা দেশের কোলে ফিরিয়া আসে, সেদিন তাহার কি আনন্দ! কিন্তু আমার মত দুর্ভাগ্যের কপালে সে আনন্দলাভ ঘটে নাই! বিদেশের লতাকে প্রাণে জড়াইয়া বিদেশেই ফেলিয়া আসিত হইলে, বুঝি, মানুষের কপালে স্বদেশের স্নেহলাভ তেমন ঘটে না!
কলিকাতায় পৌঁছিয়া দেখি, আত্মীয়-স্বজনেরা আমার জন্য অপেক্ষা করিতেছেন। দেখিয়া ভাবিলাম বাড়িতে অবরোধের মধ্যে কতগুলি হৃদয় আমার