বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:আঙুর - পাঁচুলাল ঘোষ (১৯১১).pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কাঙ্গাল
৮৭

 ভাবিলাম, ডুবিতে ত বসিয়াছি, সত্য যা ঘটিয়াছে, একবার বলিয়া দেখি—যদি সাহেবের দয়া হয়—রক্ষা পাই!

 এমন সময়ে আবার লছমন আসিয়া সেলাম করিয়া দাঁড়াইল। বলিল, “হুজুর! একঠো কসূর হো গিয়া!”

 সাহেব্‌ রুক্ষ স্বরে কহিলেন, “কেয়া কসূর?”

 লছমন তখন অপরাধীর স্বরে বলিল, “হামরা খেয়াল নেহীথা—বাবুজী এক মাহিনাকা যাস্তি হো গিয়া হামরা পাস্ দেড় শো রূপেয়া রাখা হ্যায়। একদম্‌সে খেয়াল নেহী থা! রূপেয়া হাম্ লে আয়া হুজুর!”

 লছমন এমন স্বাভাবিক ভাবে অভিনয় করিল যে, আমি স্তম্ভিত হইয়া গেলাম! এবার সাহেবও লছমনের চাতুরী ভেদ করিতে পারিলেন না! তিনি লছমনের কথা বিশ্বাস করিলেন, এবং শান্তভাব ধারণ করিয়া আমার দিকে চাহিয়া বলিলেন, “বাবু! কিছু মনে করিও না।”

 আমি সেলাম করিয়া সাহেবের ঘর হইতে বাহির হইলাম। বাহিরে আসিয়া, আমি লছমনের হাত ধরিয়া বলিলাম, “লছমন! আজ তুমি না থাক্‌লে আমার কি হত?”