পাতা:আজাদী সৈনিকের ডায়েরী - মুলকর.pdf/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১০৮

আজাদী সৈনিকের ডায়েরী

 নাগা বস্তির বাহিরে আমরা তাঁবু খাটাইলাম। সর্দার ও তাহার সঙ্গীদের সরল ব্যবহার খুব ভালো লাগিল। এরা সাহসে দুর্জয়— হিংস্র পশুর মত, অথচ কত সরল, ঠিক শিশুর মত।

 আজ সন্ধ্যায় একটা নূতন জিনিষ দেখিলাম নাগাদের নাচ। গ্রামের মধ্যে একটু সমতল জায়গা; সেইখানে নাচের ব্যবস্থা হইয়াছে। অনেকগুলি স্ত্রীপুরুষ—বালক বালিকা—যুবক যুবতী সমবেত হইয়াছে।

 নাগাদের পেশীবহুল দেহ ও বিচিত্র সমরসজ্জা চোখের সম্মুখে এক স্বপ্নলোক সৃষ্টি করিল। পুরুষদের ডান হাতে বল্পম, বাম হাতে ঢাল। বল্লম লোহার তৈয়ারী—ধরিবার অংশটী ছাগলের লোম দিয়া বাঁধা। সাজ অদ্ভুত—পরিধানে গাছের ছাল, গলায় কড়ি ও শাঁকের মালা, মাথায় মুকুট। কয়েক জনের মুকুটের সঙ্গে দুটী শিং বাঁধা।

 নাগা মেয়েদের সাজও বিচিত্র। গলায় নানা রঙের পুঁথির মালা, কাণে কাণবালা, হাতে চুড়ি, মাথার খোঁপায় বন্য ফুল।

 কয়েকটী বড় বড় ঢোল বাজিয়া উঠিল। স্ত্রীপুরুষ সবাই মিলিয়া একত্রে তালে তালে নাচিতে লাগিল। তারপর পুরুষেরা একদিকে দল বাঁধিয়া দাড়াইল—অন্য দিকে দাঁড়াইল মেয়েরা। মেয়েরা গান গাহিতে লাগিল।

 এবার পুরুষের একা নাচিতে লাগিল—শিকারীর নাচ। বল্লম উচ্চে তুলিয়া বিভিন্ন ভঙ্গীতে নাচ চলিল। মাঝে মাঝে উচ্চে লাফ দিতেছিল। যেন বন্য পশুর সহিত যুদ্ধের অভিনয়।

৪ঠা এপ্রিল ১৯৪৪: কোহিমার পথে:

 পার্বত্য পথে চলিয়াছি। পথ প্রদর্শক লালতুই। চারিদিক নিস্তব্ধ। উচ্চ নীচ টিলা, উপত্যকা, বনরাজি, পার্বত্য তটিনী পার হইয়া