পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পিতা ঢাকাতে শীতকালে ৫টার পর, গ্ৰীষ্মকালে ৬টার পর বাসায় ফিরিয়া আসিতেন । নিত্যাক্রিয়াদি সমাপন করিতে সন্ধ্যা হইয়া যাইত। তাহার পর্যন্ত্র মজলিল। ঘোরতর মজলিস। তবে আরম্ভে উলার মজলিস হইতে ঢাকা প্রভৃতি স্থানের মজলিসের প্রভেদ এই যে, মুনসেফি অবস্থায় উলা প্ৰভৃতি পল্লীগ্রামে, প্রধানত পল্লীস্থ ভদ্র লোক লইয়াই মজলিস। আর সবজজ পদে সদরে থাকিতে হয়, সুতরাং ঢাকা, যশোহর প্রভৃতি স্থলে, পদস্থ, শিক্ষিত সম্প্রদায়কে লইয়া মজলিস ৷ ঢাকার মজলিসে প্রায় থাকিতেন সব জজ নফরচন্দ্ৰ ভট্ট, এনজিনিয়ার রাখালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, BDDDB GDBBBDBK DDD SS S SDBDB uDDt DLDBD DBDkSS BDBB BDYB DBBBz পরেশনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বাবু ইত্যাদি ইত্যাদি । এই সান্ধ্য সমিতিতে অবশ্য নানা সৎকাথায়ই আলোচনা হইতে ; কিন্তু কোন একটি বিষয়ে গম্ভীর রূপে আলোচনা হইবার পূবে, সেই দিবসের ঢাকার ঘটনাবলীর বিজ্ঞাপন ও আলোচনা হইত। তাহার পর ক্ষ ণ-মাহাত্ম্য অনুসারে কোন দিন সমাজতত্ত্ব, কোন দিন সাহিত্য, কোন দিন ধৰ্ম্মতত্ত্ব সবস গল্পের সঙ্গে সঙ্গে, এই সকল বিষয়ের আলোচনা আলোড়ন হইত। পরনিন্দা যে একেবারে হইত না, এমন কথা বলি না ; অথবা পরনিন্দা পিণা ত্যজ্য করিয়া কুখিয়াছিলেন, তঁহার মজলিসে পরনিন্দা উঠিকেই পারিত না, এমন কথাও বলি না। পরনিন্দা আরম্ভ হইলে, বাবা অল্পের মধ্যে কথাটা কি শুনিয়া লইয়া, একবার বেশ করিয়া শুনিয়া লইয়া, একটু গম্ভীর স্বরে, একটু প্ৰভুত্বব্যঞ্জক স্বরে “যাক ও কথা” বলিয়া সহাস্য বদনে, আর একটি কথার অবতারণা করিতেন ; ব্ৰাহ্ম সমাজের সাম্বাৎসরিক উৎসব কি ভাবে কেমন করিয়া হইবে, তাহার পরামর্শ আঁটিবার মন্ত্রণা-গৃহ এই মজলিস। আবার ঢাকায় কলের জল বসাইতে হইলে, কি রূপে দরখাস্ত করিতে হইবে, মিউনিসিপ্যালিটিকে অন্তত কত টাকা দিতে হইবে, নবাব সাহেবকে কিরূপে হাত করিতে হইবে-এ সকল পরামর্শেরও সেই কেন্দ্ৰস্থল। অৰ্দ্ধবঙ্গ তোলপাড় করিয়া রমাবাই ঢাকায় গিয়া উপস্থিত, কিরূপে তাহার অভ্যর্থনা হইবে, ঢাকায় কোন পণ্ডিত বেশ সংস্কৃত কথা কহিতে পারেন-এ সকল যেমন সেই সান্ধ্য সমিতির ভাবনা, আর বসাক মহাশয় স্কুলপাঠ্য পাটীগণিত প্ৰণয়ন করিয়াছেন ; তিনি ঢাকার ইন্সপেক্টর অফিসে প্রধান কৰ্ম্মচারী, ঢাকা সার্কলে তঁহার বই ত rচলিবেই। এ সকল কথারই পরামর্শ সেই সান্ধ্য-সমিতিতে হইতেছে ; আব্ব পরামর্শ-দাতাগণের শীর্ষস্থলে সাব-জজ গঙ্গাচরণ সরকার মহাশয়ই আছেন । বিচার কাৰ্য্যে পিতার বিশেষ দক্ষত ছিল এবং বিপুল সুনামও ছিল । তাহার ৫৫ বৎসর বয়ঃক্রম হওয়ার পর, ৮০ সালের ২৬শে আগষ্ট গবরমেণ্ট তাহাকে অতিরিক্ত, WS