পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রেসিডেন্সি কলেজে ভূতত্ত্বের লেকচারার ছিলেন। তিনি অনুগ্রহপব’ক কতকগুলি ধাতুর নমনা আমাকে দিতে চাহিলেন। আমি এই বিষয়ে নতন গবেষণা আরম্ভ করিলাম। Crookes' Select Methods in Chemical Analysis to asso 2NW গ্রন্থ ছিল এবং তাহারই অনুসরণ করিয়া আমি গবেষণা করিতে লাগিলাম। আমি গবেষণা কাষে কিছদরে অগ্রসর হইয়াছি, এমন সময় আমার রাসায়নিক জীবনে এক অপ্রত্যাশিত পরিবতন ঘটিল। মাকিউরাস নাইট্রাইটের আবিকার দ্বারা আমার জীবনে এক নতন অধ্যায়ের সত্রপাত হইল। ষেরুপ অবস্থায় এই আবিস্কার হইল, তাহা এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রথম বিবৃতির ভূমিকা হইতে উদ্ধত করিতেছি – “সম্প্রতি পারদের উপর অ্যাসিডের ক্লিয়ার দ্বারা মাকিউরাস নাইট্রেট প্রস্তুত করিতে গিয়া, আমি নীচে এক প্রকার পীতবণের দানা পড়িতে দেখিয়া কিয়ং পরিমাণে বিসিমত হইলাম। প্রথম দস্টিতে ইহা কোন বেসিক সল্ট বলিয়া মনে হইল। কিন্তু এরপ প্রক্লিয়া বারা ঐ শ্রেণীর সিলেটর উৎপত্তি সাধারণ অভিজ্ঞতার বিপরীত। যাহা হউক, প্রাথমিক পরীক্ষা দ্বারা ইহা মাকিউরাস সল্ট এবং নাইট্রাইট উভয়ই প্রমাণিত হইল। সতরাং এই নতন মিশ্র পদার্থ গবেষণার যোগ্য বিষয় মনে হইতেছে।” মাকিউরাস নাইট্রাইট ও তাহার আননষঙ্গিক বহুসংখ্যক পদার্থ এবং সাধারণ ভাবে মাকিউরাস নাইট্রাইট সম্বন্ধে গবেষণার প্রকৃত বিবরণ দেওয়ার প্রয়োজন এখানে নাই, কেন না তৎসম্বন্ধে শতাধিক নিবন্ধ রসায়নশাস্ত্র সম্বন্ধীয় সাময়িক পত্র সমাহে প্রকাশিত হইয়াছে। একটির পর একটি নতন মিশ্র পদাৰ্থ আবিস্কৃত হইতে লাগিল, আর আমি অসীম উৎসাহে তাহা লইয়া পরীক্ষা করিতে লাগিলাম। নব্য রসায়নী বিদ্যার অন্যতম প্রবতক অমরকাতি’ শীলের ভাষায় আমিও বলিতে পারিতাম—“গবেষণা হইতে যে আনন্দ হয়, তাহার তুলনা নাই, ইহা হৃদয়কে উৎফুল্ল করে।” এই নবোমন্ত গবেষণার ক্ষেত্রে বিচরণ করা এবং তাহার অজ্ঞাত স্থান সমহ আবিস্কার করা, ইহাতে প্রতি মহেতেই মনে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার হইত। শিকারীরা জানেন যে শিকারকে হাতের মধ্যে পাওয়ার চেয়ে শিকারের অনুসরণ করাতেই অধিক আনন্দ। রস্কো, ডাইভাস বাথোলো, ভিক্টর মেয়ার, ফলহাড এবং অন্যান্য বিখ্যাত রাসায়নিকদের নিকট হইতে প্রাপ্ত সম্প্রবন্ধনাজ্ঞাপক পুত্রাবলী আমার মনে যে কেবল উৎসাহের সঞ্চার করিল তাহা নহে, আমার কমেও অধিকতর প্রেরণা দান করিল। এই সময়ে অধ্যয়ন ও লেবরেটরিতে গবেষণা—এই দুইভাগে আমি আমার সময়কে বণ্টন করিয়া লইলাম। বেঙ্গল কেমিক্যাল ওয়াকসের জন্যও কতকটা সময় নিদিষ্ট থাকিল। অনিদ্রা রোগের জন্য, আমাকে অধ্যয়ন পাহা সংযত করিতে হইত। গত ৪৫ বৎসরের মধ্যে সন্ধ্যার পর আলোতে আমি কোন পড়াশনা বা মানসিক পরিশ্রমের কার্য করিতে পারি নাই। এইরুপ কোন চেষ্টা করিলেই তাহার ফলে আমাকে অনিদ্রায় কাটাইতে হইত। “সকাল সকাল শয়ন করা ও সকাল সকাল ওঠা" এই নিয়ম আমি চিরদিন পালন করিয়াছি এবং আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখিয়াছি যে, সকাল বেলা একঘণ্টা অধ্যয়ন সন্ধ্যার পর বা রাত্রিকালে দইঘণ্টা বা ততোধিক সময় অধ্যয়নের তুল্য; বিশেষতঃ বাহাকে দিনের অধিকাংশ সময় রন্ধবায় লেবরেটরিতে কাটাইতে হয় বাস্থ্যরক্ষাথ তাহার পক্ষে প্রত্যহ অন্ততঃ দুইঘণ্টাকাল খোলাবাতাসে থাকা উচিত। শীত প্রধান দেশে অবস্থা বিশেষে এই নিয়মের অবশ্য পরিবতন করিতে হইবে। এডিনবারা বা লন্ডনে শীতকালে স্যার সময় দুই ঘণ্টাকাল লঘ, সাহিত্য পাঠ করা আমার পক্ষে কিছই ক্ষতিকর হইত না।