পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই সময়ে আমি আমার প্রিয় বিষয় রসায়ন শাসের ইতিহাস এবং প্রসিদ্ধ রসায়নাচার্যদের জীবনী সম্বন্ধে আলোচনা করিতেছিলাম। কপের "ইতিহাস” দরহ গ্রন্থ, ইহার সমাসযন্ত লম্বা লম্বা পদগলি পাঠ করা সুখকর নহে, কিন্তু বিষয়টি এমনই যে আমি ঐ গ্রন্থ নিয়মিত ভাবে পড়িতাম। আমি আমার মল্যবান সকাল বেলা এই গ্রন্থ পাঠে ব্যয় করিতাম। আমি বেশ জনিতাম, আমাদের কবিরাজগণ বহন ধাতব ঔষধ ব্যবহার করিতেন; উদয়চাঁদ দত্তের Materia Medica of the Hindus নামক গ্রন্থে ইহার বিবরণ আছে। এই গ্রন্থে যে সমস্ত মল সংস্কৃত গ্রন্থের নাম করা হইয়াছে, আমি কৌতুহলের বশবতী হইয়া তাহার কয়েকখানি পড়িলাম। tzfrIgfrī FUGTE HÊTaïHTS 2Irā Berthelot's L'Alchimistes Grecs নামক গ্রন্থও পড়িলাম। তাহাতে আমার কৌতুহল আরও বধিত হইল। এই সময়ে উক্ত প্রসিদ্ধ ফরাসী রাসায়নিক বাথোলোর সঙ্গেই আমার পত্র ব্যবহার হইল। আমি তাঁহাকে লিখিয়াছিলাম, তিনি বোধ হয় জানেন না যে, প্রাচীন ভারতবর্ষেও আলকেমী শাস্ত্রের বিশেষ চর্চা হইত এবং এ বিষয়ে সংস্কৃতে বহ গ্রন্থ আছে। তিনি আমাকে যে উত্তর দেন, তাহা তাঁহারই যোগ্য। আমি নিম্নে ঐ পত্রের অংশ বিশেষের ইংরাজী অনুবাদ দিলাম। * বড়ই দুঃখের বিষয় এই সময়ে বহল প্রসিদ্ধ রসায়নবিদের নিকট হইতে আমি যে সব পত্র পাইয়াছিলাম, তাহা রক্ষা করি নাই। বাথৌঁলোর পত্ৰখানি ঘটনাক্রমে নস্ট হয় নাই। প্রেসিডেন্সি কলেজে আমার বিশ্রামগহে জঞ্জালাধারে কতকগুলি কাগজ আমার চোখে পড়ে। উহারই মধ্যে বাথোলোর পত্র ছিল। এই পত্র আমার মনের উপর অসীম প্রভাব বিস্তার করিল। এই একজন শীষপথানীয় রসায়নবিং জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হইয়াছেন, অথচ যৌবনের উৎসাহে রসায়ন বিজ্ঞানের ইতিহাসের একটি নতন অধ্যায় সম্বন্ধে জ্ঞান লাভের জন্য আগ্রহান্বিত, আর আমি যবেক হইয়াও যথোচিত উৎসাহ সহকারে কাজে অগ্রসর হইতে পারিতেছি না! আমার শরীরে যেন বিদ্যুৎপ্রবাহ বহিয়া গেল এবং কাষে নতেন উৎসাহ আসিল। বাথোলোর অনুরোধে আমি রসেন্দ্রসারসংগ্রহের ভূমিকার উপর নিভর করিয়া একটি প্রবন্ধ লিখিলাম এবং তাঁহার নিকট উহা পাঠাইয়া দিলাম। আরও বেশি আলোচনার ফলে আমি দেখিতে পাইলাম যে হিন্দ রসায়ন শিক্ষাথীদের পক্ষে রসেন্দ্রসারসংগ্রহ খাব বেশি মল্যেবান নহে। বাথোলো আমার প্রবন্ধ অভিনিবেশ সহকারে পড়িলেন এবং তাহা অবলম্বন করিয়া Journal des Savants পত্রে একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ লিখিলেন। তিনি ঐ মাদ্রিত প্রবন্ধের এক কপি এবং সিরিয়া, আরব ও মধ্য যাগের রসায়ন সম্বন্ধে তিন খণ্ডে সমাপ্ত তাঁহার বিরাট গ্রন্থও একখানি পাঠাইলেন। আমি সাগ্রহে ঐ গ্রন্থ পড়িলাম এবং সকল্প করিলাম যে ঐ আদশে হিন্দ রসায়নের ইতিহাস আমাকে লিখিতেই হইবে। আরও একটি কারণে আমার মনে উৎসাহ বধিত হইল। একদিন সন্ধ্যাকালে এসিয়াটিক সোসাইটির সভায় যোগ দিয়াছিলাম। সভাগহে টেবিলের উপর একখানি Journal des Savants দেখিতে পাইলাম এবং তাহাতে বাথোলোর লিখিত একটি প্রবন্ধের প্রতি আমার দস্টি আকৃষ্ট হইল। পড়িয়া রোমাঞ্চিতকলেবর হইলাম। আমি একজন রসায়নশাস্ত্রের নবীন অধ্যাপক। to

  • "আপনার গবেষণার চিত্তাকর্ষক ফলাফলের সংবাদে পলকিত হইলাম। ইউরোপ এবং পামেরিকার ন্যায় এশিয়া খণ্ডেও যে বিজ্ঞানের সাবভৌম এবং নৈব্যক্তিক রপের সমাদর ও চর্চা চলিয়াছে তাহা জানিয়া আনন্দ হইল”—