পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছিলেন। ফটবল খেলার প্রসঙ্গে তিনি বলিয়াছিলেন, উহাতে দই পক্ষের বাইশজন খেলোয়াড়েরই কোন শারীরিক ব্যায়ামের সযোগ হয়। কিন্তু যে হাজার হাজার লোক খেলা দেখে তাহাদের কি ? (১) এই জাহাজযাত্রা আমার পক্ষে বড় ক্লাতিজনক হইল। আমি উদরাময়ে ভুগিতে লাগিলাম, তৎপশ্চাবে প্রায় পনর দিন যাবৎ আমি ঐ রোগে আক্ৰান্ত হইবার আশন্কা করিতেছিলাম। আমার পাকস্থলী বড়ই দাবাল এবং তাজা খাদ্যদ্রব্য না পাইলে উহা বিগড়াইয়া যায়। সাধারণতঃ, মাংস, মাছ এবং শাকসব্জী "কোড স্টোরেজে" রাখা হইয়া থাকে বটে, কিন্তু তাহাদের গণের কিছ হ্রাস হয় এবং বলিতে গেলে বাসি’ হইয়া যায়। ঐ সব খাদ্য খাইলে আমার পরিপাক শক্তির বিকৃতি ঘটে। আমি অত্যন্ত অসুবিধা বোধ করিতে লাগিলাম, এ আশঙ্কাও হইল যে লন্ডনে গিয়া আমার অবস্থা আরও খারাপ হইবে। কিন্তু লন্ডনে পে'ছিয়া ২৪ ঘণ্টা হোটেলে থাকিবার পরই আমি পেটের অসখের কথা একেবারে ভুলিয়া গেলাম। তারপরেও কয়েকবার আমি ইংলন্ডে গিয়াছি, কিন্তু প্রতিবারেই সমুদ্রবক্ষে জাহাজে আমার ঐরপে শোচনীয় অবস্থা হইয়াছে। ফলে আমাকে বাধ্য হইয়া বোম্বাই হইতে মাসেলিস পর্যন্ত ডাকজাহাজে ভ্রমণ করিতে হইয়াছে, উদ্দেশ্য জাহাজে যতদ্র সম্ভব কম সময় থাকা। লন্ডনে কয়েকদিন থাকিবার পর আমার মনে অস্বসিত বোধ হইতে লাগিল। সহরের নানারপে দশ্য দেখিয়া বেড়াইবার জন্য আমার মনে কোন আকর্ষণ ছিল না। বস্তুত ছাত্রজীবনের আমি এই বিশাল লন্ডন সহরে কয়েকমাস মাত্র কাটাইয়াছি। দৈনিক কয়েকঘণ্টা করিয়া লেবরেটরিতে কাজ করিতে যাহারা অভ্যস্ত, হাতে কাজ না থাকিলে সময় কাটানো তাহাদের পক্ষে কঠিন হইয়া পড়ে। সুতরাং আমি কোন লেবরেটরিতে গবেষণা করিবার সযোগ খুজিতে লাগিলাম। জগদীশচন্দ্র বস পাবে ডেভি-ফ্যারাডে রিসাচ্চ’ লেবরেটরিতে কাজ করিয়াছিলেন। অধ্যাপক ক্লাম ব্রাউন এবং স্যর জেমস ডেওয়ারের সাহায্যে আমিও সহজে ঐ লেবরেটরিতে কাজ করিবার সযোগ লাভ করিলাম। আমি এখন কাজে মগ্ন হইয়া পড়িলাম। মাঝে মাঝে ইপিরিয়াল কলেজ অব সায়েন্স এবং ইউনিভাসিটি কলেজের লেবরেটরিগুলি দেখিয়া আসিতাম। ডেওয়ার কয়েক বৎসর ধরিয়া তাঁহার যুগান্তকারী গ্যাস সম্বন্ধীয় গবেষণায় লিপ্ত ছিলেন। ঐ সময় তিনি, আগন, নিওন এবং জেননকে কিরাপে বায় হইতে পথক করা যায়, তৎসম্বন্ধে পরীক্ষা করিতেছিলেন। আমি তাঁহার এই সমস্ত পরীক্ষাকাষ দেখিবার সযোগ লাভ করিলাম। ইউনিভাসিটি কলেজ লেবরেটরিতে স্যর উইলিয়াম র্যামজে বায়রে উল্লিখিত উপাদানসকল পথকীকরণের জন্য তাঁহার ও ডাঃ ট্রাভাস কর্তৃক পরিকল্পিত যন্মের কাষ আমাকে দেখাইলেন। এইরপে আমি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ রাসায়নিকগণের ঘনিষ্ঠ সংস্পশোঁ আসিবার সযোগ পাইলাম। ১৯০৪ সালে বড়দিনের ছটাঁর সময় এডিনবাগে কাটাইলাম এবং একটি সভা করিয়া আমাকে সম্বন্ধনা করিলেন। অধ্যাপক ক্লাম ব্রাউন ঐ সভার সভাপতির আসন গ্রহণ করেন। (২) রয়েল সোসাইটি অব এডিনবাগ আমাকে একটি ভোজসভায় (১) সম্প্রতি (১৯২৬) যাঁহারা এ বিষয়ে বলিবার অধিকারী এমন কোন কোন ব্যক্তিও উত্তরপ মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছেন —যথা “আমরা খেলিবার পরিবতে' খেলা দেখি”—এম. এন. জ্যাকসন, হেডমাস্টার, মিল হিল। (২) সম্প্রতি (১৯৩১ সালে) আমি জানিতে পারিয়াছি যে, ডাঃ আনসারী ঐ সভায় ভারতীয় ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন।