পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার হিন্দ রসায়ন শাস্ত্রের ইতিহাসে সিলভ্য লেভিকে আমি বৌদ্ধ সাহিত্য সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ এবং প্রামাণিক ব্যক্তি বলিয়া উল্লেখ করিয়াছিলাম। কলিকাতা হইতে তাঁহার সঙ্গে আমি পত্র ব্যবহারও করিয়াছিলাম। তাঁহার কক্ষে প্রবেশ করিয়া দেখিলাম যে তিনি পতঞ্জলির “মহাভাষ্য" (সম্ভবতঃ গোল্ডস্টকোরের সংস্করণ) অধ্যয়নে নিমগ্ন আছেন। সিস্থর হইল যে পরদিন সকালে আমি “কলেজ ডি ফ্রান্সে” তাঁহার সঙ্গে দেখা করিব এবং তিনি তাহার সহাধ্যাপক মসিয়ে বাথৌঁলোর সঙ্গে আমার পরিচয় করাইয়া দিবেন। আমি নিদিষ্ট সময়ে কলেজ ডি ফ্রান্সে উপসিথত হইলাম এবং ঘটনাক্লমে কয়েক মিনিট পরেই বাথোলো প্রাঙ্গণের বিপরীত দিক দিয়া তাঁহার গবেষণাগারে প্রবেশ করিলেন। অধ্যাপক লেভি উক্ত বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের সঙ্গে পরিচয় করাইয়া দিলেন, আমার সবাঙ্গে যেন বিদ্যুৎ প্রবাহ বহিয়া গেল। মনে হইল আমি অবশেষে সেই বিখ্যাত মনীষী এবং বিজ্ঞানাচাযের সম্মথে উপস্থিত হইয়াছি যিনি সমস্ত জীবন পাশ্চাত্য রসায়ন বিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ইতিহাসের রহস্য ভেদ করিতে ব্যয় করিয়াছেন এবং যিনি "সিনথেটিক রসায়ন শাসের”— অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা বলিয়া গণ্য। বাথোলো আমাকে তাঁহার লেবরেটরিতে লইয়া গেলেন এবং তাঁহার আবিস্কৃত কাচাধারে রক্ষিত যন্ত্রাদি সযত্নে দেখাইলেন। অধৰ্ম শতাব্দী পাবে সিনথেটিক কমপাউণ্ড' সমুহ বিশেলষণের জন্য তিনি এই সমস্ত যন্ত্র ব্যবহার করিয়াছিলেন। তাঁহার আমন্ত্রণে তাঁহার বাড়ীতে আমি গেলাম। 'একাডেমি অব সায়েন্সের তিনি সথায়ী সেক্রেটারী ছিলেন এবং সেই হিসাবে ইনস্টিটিউটেরই একাংশে তাঁহার বাসস্থান নিদিষ্ট ছিল। বাথোলো পাব হইতেই তাঁহার এক পত্রকে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত থাকিবার জন্য আমন্ত্ৰণ করিয়াছিলেন। পত্র কিছুদিন বিলাতে কেত্ৰিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করিয়াছিলেন। সুতরাং ইংরাজীতে বেশ কথাবাত বলিতে পারিতেন। সুতরাং তাঁহার সাহায্যে বাথোলোর সঙ্গে আমি প্রায় এক ঘণ্টাকাল কথাবাত বলিলাম। বাথোলো আমাকে একাডেমীর অধিবেশনে উপসিথত থাকিবার জন্যও নিমন্ত্ৰণ করিলেন। ৭১ বৎসর বয়স্ক প্রেসিডেন্ট প্রসিদ্ধ রাসায়নিক মাসিয়ে ট্রন্টের সঙ্গেও তিনি আমার পরিচয় করাইয়া দিলেন। ‘লা নেচার’ পত্রে ঐ অধিবেশনের যে বিবরণ বাহির হইয়াছিল তাহাতে আমার সম্বন্ধে উল্লেখ ছিল। পারিতে থাকিবার সময় আমি মাসিয়ে সিলভ্যাঁ লেভির ঘনিষ্ঠ সংস্পশে আসিয়াছিলাম। তিনি আমাকে একটি সাধ্য বৈঠকে নিমন্ত্রণ করেন, এবং আমার হোটেলে আসিয়া আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই স্থানে ম’সিয়ে পামির কডিয়ারের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। ইনি ফরাসী চন্দননগরে কয়েক বৎসর কাজ করেন এবং তিব্বতীয় ভাষা শিক্ষা করেন। বৌদ্ধ সাহিত্যের উপর ভিত্তি করিয়া তিনি ভারতীয় চিকিৎসা বিদ্যা সম্পবন্ধে কয়েকখানি গ্রন্থ লিখেন। আমার যতদর মনে পড়ে পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সহযোগে তাঁহার সঙ্গে কলিকাতায় আমার পরিচয় হয়। আমি বৈজ্ঞানিক ময়সানের লেবরেটরিও দশন করি। সাধারণের নিকট তিনি কারবাইড অব ক্যালসিয়ম এবং কৃত্রিম হীরকের আবিকতারাপেই অধিকতর পরিচিত। উক্ত প্রসিদ্ধ রসায়নবিং অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিম হীরকের কণাসমহে আমাকে দেখাইয়াছিলেন। আমি দেখিয়া বিস্মিত হইয়াছিলাম ষে, ময়সান তাঁহার অজৈব রসায়ন সম্প্রবন্ধীয় সবাহৎ সংগ্রহ গ্রন্থে (এনসাইক্লোপিডিয়া) মৎকৃত মাকিউরাস নাইট্রাইট বিষয়ক গবেষণার বিস্তৃত বিবরণ দিয়াছেন। বাথোলো এবং তাঁহার বহুমুখী প্রতিভার কিঞ্চিৎ পরিচয় না দিলে আমার পারি. দর্শনের বিবরণ অসম্পাণ থাকিয়া যাইবে। অধৰ্ম শতাব্দীরও অধিককাল তিনি রসায়ন