পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অতি সামান্য মালধন সবল করিয়া তিনি এক ঔষধ তৈয়ারীর কারখানা প্রতিষ্ঠিত করিলেন। বাঙ্গালী যবেকগণকে ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী হইবার জন্য নানা ব্যবসায় ও নব নব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পথ করিয়া দিলেন। দারিদ্র্যের পাশবশক্তির বিরুদ্ধে এই নতন ধরণের যন্ধের আহবানে বাংলার যুবকেরা আন্তরিকভাবে সাড়া দিল এবং কমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সম্প্রতিষ্ঠিত করিতে অগ্রসর হইয়া আসিল। আচাষ দেবের চেষ্টায় বাংলার শিপেক্ষেত্রে নতন করিয়া প্রাণ সঞ্চার হইল। এই শীর্ণকায় মানষেটি কারখানার উন্নতিকলেপ সমস্ত শক্তি ও ইচ্ছা কেন্দ্রীভূত করিয়াছিলেন। এই কারখানাটি পরে একটি লিমিটেড কোম্পানীতে পরিণত করেন। ইহা বতমানে ভারতের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম। এই কারখানা হইতে প্রতিদান যাহা পাইয়াছেন তাহা হয় কারখানার শ্রমিকদের জন্য ব্যয়িত হইত নয় অন্য এক তহবিলে জমা হইত, যাহা নিঃশেষে আত্যের সেবায় লাগিয়া যাইত। বাংলার সমাজ জীবন ও রাজনীতি ক্ষেত্র হইতেও তিনি দরে সরিয়া থাকেন নাই। সমাজের অনাচার, অত্যাচার, দুবলতা, কাপুরুষতা তাঁহাকে পীড়িত করিয়া তুলিত। তিনি তাঁহার গভীর অন্তদস্টির সাহায্যে, বন্ধি বাংলার সমাজ জীবনে এক নতন চেতনা আনিয়া দিলেন। যবেককাল হইতে বন্ধকাল পর্যন্ত তিনি বাংলার অতীত ও বর্তমান সমাজচেতনাকে তাঁহার রচনার মধ্যে পঞ্জীভূত করিয়া জাতীয় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করিয়া তুলিয়াছেন। এই সাহিত্য তাঁহার দরদী মনের দীঘ তথ্যপণে ইতিহাস। তাঁহার স্বদেশ প্রেমের আর একটি নিদশন ভারতীয় রাসায়নিক শাস্ত্রের ইতিহাস আলোচনা করা। তাঁহার মনে দঢ় বিশ্বাস ছিল তাঁহার রচিত এই বিস্মত অতীতের গৌরবময় সংস্কৃতির কাহিনী দেশের ভবিষ্যত চিত্তকে সঞ্জীবনীর রসধারায় অভিষিক্ত করিবে। পরাধীনতার জবালা আচাৰ্য প্রফুল্লচন্দ্রের মনকে চঞ্চল করিয়া তুলিয়াছিল। স্বরাজের স্বপন তিনি দেখিতেন—স্বরাজ পাইবার জন্য তিনি পাগল হইয়া উঠিলেন। বাংলার যবে শক্তি দেশকে মন্ত করিবার জন্য যে বৈপ্লবিক কম প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল তাহাতে আচাষ রায়ের সহানুভূতি ও অনুপ্রেরণা কম নহে। আচায* রায়ের আবাসস্থল সায়াস কলেজ হইতে গোপনে শৈলেন ঘোষের আমেরিকা যাত্রা ইহার একটি দন্টান্ত। উপনিষদে কথিত আছে যিনি এক তিনি বলেন, “আমি বহন হইব।” সস্টির মলেই আত্মবিসর্জনের ইচ্ছা। আচাষ প্রফুল্লচন্দ্রও নিজের চিত্তকে বহমানবের দুঃখের মধ্যে নিমজিত করিয়া রাখিয়াছিলেন। দেখিয়াছি বিজ্ঞানের মায়া কাটাইয়া তিনি রাজপথে বাহির হইয়াছেন ভিক্ষার ঝুলি লইয়া। দযোগে, সঙ্কটে, ভূমিকম্পে, জলপ্লাবনে আতের পরিত্রাণের জন্য তাঁহার প্রাণ ব্যাকুল হইয়া উঠিয়াছে। দেশের আবাল-বন্ধ-বণিতাকে টানিয়া লইয়াছিলেন এই জনসেবার কাজে। ধনীরা দিয়াছে প্রচুর অথ। সহস্ৰ সহস্ৰ গহ হইতে আসিয়াছে মটিভিক্ষা ও রাশি রাশি বসন্ত্র। দলে দলে যুবকেরা স্বেচ্ছাসেবকরপে তাঁহার পাশে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে খলনা, দামোদর, উত্তর বঙ্গ ও বিহারে অন্নবস্ত্র ও ঔষধ বিতরণের জন্য। আচাৰ্যদেবের আগমন দগতদের দিয়াছে শান্তির প্রলেপন, দিয়াছে এ সন্দের ভুবনে বাঁচিয়া থাকিবার আশা।