পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রীক সাহিত্যের প্রভাব পণেরপে বিস্তৃত হইয়াছিল। এরিস্টেটল, লেটো, গ্যালেন, টেলেমী এবং নব্য প্লেটোনিষ্ট লোটিনাস ও পোরফিরির গ্রন্থাবলী মল গ্রীক এবং সরিয় ভাষা হইতে অনুদিত হইয়াছিল। ফালাসিফা-পন্থীদের (অর্থাৎ যাহারা মল গ্রীক ভাষা হইতে গ্রহণ করিয়াছিলেন) মধ্যে আলকিন্ডী, আল ফোরাবি, ইবন সিনা, আল রাজি এবং স্পেনীয় দাশনিক ইবন রসদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। “বাণিজ্য বধির সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানরাজ্যেরও প্রসার হইতে লাগিল—প্রাচ্যে তৎপশ্চাবে যাহা কখনও দেখা যায় নাই। বোধ হইল যেন খলিফা হইতে আরম্ভ করিয়া অতি সাধারণ লোক পৰ্যন্ত সকলেই শিক্ষাথী এবং সাহিত্যের উৎসাহদাতা হইয়া উঠিল। জ্ঞানের অন্বেষণে লোকে তিনটি মহাদেশ ভ্রমণ করিয়া গহে ফিরিত। মধমক্ষিকা যেমন নানা স্থান হইতে মধ্য আহরণ করিয়া আনে, ইহারাও তেমনি নানা দেশ হইতে অমল্য বিদ্যা আহরণ করিয়া আনিত,–শিক্ষাথীদের দান করিবার জন্য। কেবল তাহাই নহে,—তাহারা অক্লান্ত অধ্যবসায় সহকারে বিরাট বিশ্বকোষসমুহ সঙ্কলন করিতে লাগিল—যেগুলি বলিতে গেলে অনেকসথলে বর্তমান বিজ্ঞানের জন্মদাতা।” (নিকলসন, আরব সাহিত্যের ইতিহাস, ২৮১ পং)। মধ্যযুগে আরবেরা গণিত ও দশনের জ্ঞানভাণ্ডারে যাহা দান করিয়াছিল,— এখানে তাহার উল্লেখ করিবার প্রয়োজন নাই। আরবেরা ষে আবার গণিত ও চিকিৎসাবিদ্যার জন্য ভারতের নিকট ঋণী, সে কথাও এখানে বলা নিম্প্রয়োজন (১) আরবদের চরম উন্নতির সময়ে, তাহারা মধ্যযাগের ইউরোপে জ্ঞানের প্রদীপ বহন করিয়া লইয়া গিয়াছিল এবং ল্যাটিন সাহিত্যের উপর অশেষ প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল। জ্ঞানরাজ্যে এসিয়া ও ইউরোপের পরস্পর আদান প্রদানের উপর একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ই লেখা যাইতে পারে। উইলিয়াম কেরী ও তাঁহার প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য গোষ্ঠীর সময় হইতে (১৮oo-২৫) উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আলোচনা করিলে দেখা যাইবে যে, এই সময়ে যে সমস্ত গ্রন্থ লিখিত হইয়াছিল, তাহার অধিকাংশই উচ্চশ্রেণীর ইংরাজী সাহিত্যের অনুবাদ, কতকগুলি আবার সংস্কৃত, পারসী এবং উদ্য গ্রন্থের অন্যবাদ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম বয়সের লেখা “বেতাল পঞ্চবিংশতি” হিন্দী গ্রন্থ এবং তাঁহার পরিণত বয়সের লেখা “শকুন্তলা” ও “সীতার বনবাস” কালিদাস ও ভবভূতির গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের “কথামালা” “ঈসপস ফেবলস"-এর আদশে রচিত। তাঁহার “জীবন চরিত” বহুলাংশে চোবাসের “বাইওগ্রাফির” অন্যবাদ। সেক্সপীয়রের নাটকাবলীও বাংলাতে অনদিত হইয়াছিল। প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক অক্ষয়কুমার দত্তই প্রথমে জ্যোতিষ ও প্রাকৃত বিজ্ঞানের গ্রন্থ অনুবাদ করিয়া বাংলা ভায়াকে সমন্ধ করেন। রাজেন্দ্রলাল মিত্র প্রাকৃতিক ভূগোল, ভূবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ক গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেন। কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বিদ্যা কপদম”-এর নাম পাবেই উল্লেখ করিয়াছি। ইহা বাংলা ও ইংরাজী ভাষায় লিখিত সংগ্রহ-গ্রন্থ। মল ইংরাজী গ্রন্থ হইতে উংকৃষ্ট অংশসমহ বাছিয়া বাংলা অনুবাদসহ ইহাতে প্রকাশ করা হইয়াছিল। এইরুপ হওয়াই উচিত। প্লটকের গ্রন্থ যদি নথ ইংরাজীতে অনুবাদ না করিতেন, তবে ಫgজলিয়াস সিজার, কোরিওলেনাস, এবং অ্যান্টনি ও ক্লিওপেট্রা’ নাটক লিখিত হইত না। লেখক গ্র্যামাটিকাসের গ্রন্থ যদি ইংরাজীতে অনদিত না হইত, তবে (১) হিন্দ রসায়নের ইতিহাস-৬ষ্ঠ অধ্যায়, ভারতের নিকট আরবের ঋণ-দুষ্টব্য। 학