পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভাগে ও নৌবিভাগে তাহার প্রবেশ করিবার সযোগ থাকে না। বাংলার মস্তিক এ পর্যন্ত কেবল আইন ব্যবসায়ে সফতিলাভ করিবার সযোগ পাইয়াছিল, সেই কারণে বাঙালীদের মধ্যে বড় বড় আইনজ্ঞের উদ্ভব হইয়াছিল। যাহারা নবন্যায়ের জন্ম দিয়াছিলেন, এবং তকশাসের সক্ষমাতিসক্ষম বিশেলষণে অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করিয়াছিলেন, তাঁহাদেরই বংশধরেরা সবভাবত আইন ব্যবসায়ে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিয়াছিলেন। তক-শাস্ত্র এবং আইনের কট আলোচনার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ। সতরাং গাঙ্গেয় উপকলের মেধাবী অধিবাসীরা ইংরাজ আমলে সত্থাপিত আইন আদালতে আইন ব্যবসায়কে যে তৎপরতার সহিত গ্রহণ করিয়াছেন তাহা কিছই আশ্চষের বিষয় নহে। সমস্ত তীক্ষ বন্ধি মেধাবী ছাত্রই এই পথ অবলম্বন করিত। যদিও আইন ব্যবসায় শীঘ্রই জনাকীর্ণ হইয়া উঠিল এবং নব্য উকীলেরা বেকার অবস্থায় কালযাপন করিতে লাগিল, তথাপি শীর্ষস্থানীয় মস্টিমেয় আইন ব্যবসায়ীরা প্রভূত অর্থ উপাজন করিতেন বলিয়া, এই ব্যবসায়ের প্রতি লোকে বহূিমখে পতঙ্গের মত আকৃষ্ট হইত। প্রায় ২০ বৎসর পাবে "বাঙ্গালীর মস্তিকের অপব্যবহার" নামক পুস্তিকায় আমি দেশবাসীর দস্টি এই দিকে আকৃষ্ট করি; এবং দেখাইয়া দেই ষে কেবলমাত্র একটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উন্মাদের মত ধাবিত হইয়া এবং জীবনের অন্যঞ্জসমস্ত বিভাগ উপেক্ষা করিয়া বাংলার যবেকরা নিজেদের এবং দেশের কি ঘোর সবনাশ করিতেছে! একজন বিখ্যাত আইন ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতা—বাংলা কাউন্সিলে একবার বস্তৃতা প্রসঙ্গে বলেন যে, আইন এদেশের বহর প্রতিভার সমাধি ক্ষেত্র স্বরুপ হইয়াছে। বাঙালী প্রতিভার ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে বসর আবিক্ৰিয়া সমাহ বৈজ্ঞানিক জগতে সমাদর লাভ করিল। বাঙালী যুবকদের মনের উপর ইহার প্রভাব ধীরে ধীরে হইলেও, নিশ্চিতরাপে রেখাপাত করিল। এযাবৎ উচ্চাকাঙ্ক্ষী যবেকরা শিক্ষাবিভাগকে পরিহার করিয়াই চলিত। শিক্ষাবিভাগের উচ্চস্তর ইউরোপীয়দের একচেটিয়া ছিল। দুই একজন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী প্রসিদ্ধ ভারতীয় প্রাণপণ চেষ্টা করিয়া উহাতে প্রবেশ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। শিক্ষাবিভাগকে এখন পনগঠন করা হইল এবং একটি স্বতন্ত্র নিমনস্তরের শাখা ভারতবাসীদের জন্য সস্ট হইল। কিন্তু উচ্চস্তর কাষত ইউরোপীয়দের জন্যই সরক্ষিত থাকিল। ইহার ফলে প্রতিভাশালী মেধাবী ভারতবাসীরা শিক্ষাবিভাগ যথাসাধ্য বজন করিতে লাগিল। আমি-এখানে একটি দষ্টান্ত উল্লেখ করিব। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ কৃতী ছাত্র ছিলেন। অল্পবয়সেই গণিত শাস্ত্রে তিনি প্রতিভার পরিচয় দেন। সেই কারণে শিক্ষা বিভাগের ডিরেক্টর স্যার আলফ্রেড ক্লফট তাঁহাকে ডাকিয়া একটি সহকারী অধ্যাপকের পদ দিতে চাহেন। উহার বেতন মাসিক ২০o, হইতে ২৫০ টাকা। পথানীয় গবৰ্ণমেণ্টের উহার বেশি মঞ্জর করিবার ক্ষমতা ছিল না। আশতোষ যদি মাহতের দেবেল্যে ঐ পদ গ্রহণ করিতেন, তবে তাঁহার ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ রন্ধ হইত। তিনি যথানিয়মে প্রাদেশিক সাভিসের উচ্চতম সতর পর্যন্ত উঠিতে পারিতেন। ২৫ বৎসর কাজ করিবার পর, মাসিক সাত আট শত টাকা মাহিয়ানাও হইত। কিন্তু বেতনের পরিমাণ এখানে বিবেচনার বিষয় নহে। সরকারী কমচারী হিসাবে তাঁহার স্বাধীনতা প্রথম হইতেই সংকুচিত হইত এবং প্রতিভা বিকাশের উপযন্ত সযোগ মিলিত না। পরবতী জীবনে তিনি যে পৌরুষ ও তেজস্বিতার পরিচয় দিয়াছিলেন, তাহা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হইত। বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আমলাতন্ত্রের প্রভাব হইতে যেটুকু স্বাতন্ত্র্য ভোগ করিতেছে, তাহা ভবিষ্যতের বনে পৰ্যবসিত হইত। বিজ্ঞান কলেজ, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য পোস্ট গ্রাজয়েট বিভাগ, এ সমস্ত সম্ভবপর হইত না।