পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনি তাহার দন্টাত স্বরপ ছিলেন। তিনি এম, এস-সি পরীক্ষায় উচ্চ স্থান অধিকার করেন এবং সেনের সঙ্গে একযোগে কিছু গবেষণাও করেন। কিন্তু তাঁহার বিশেষ যোগ্যতার পরিচয় পরে পাওয়া যায়। ইহার নাম বিমানবিহারী দে। দে এবং সেনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধত্ব দেখিয়া আমি মুখ হইতাম এবং অনেক সময় তাঁহীদগকে রহস্য করিয়া "হ্যামলেট ও হোরাশিও” অথবা “ডেভিড ও জোনাথান” বলিতাম। দে সেনের দই বৎসর প্রবে: ইংলন্ডে গমন করেন এবং ইম্পিরিয়াল কলেজ অব সায়েন্সে’ জৈব রসায়ন সম্বন্ধে গবেষণা করিয়া যথা সময়ে ডক্টর উপাধি পান। এই সময়ে নীলরতন ধর “ফিজিক্যাল কেমিষ্ট্ৰী” সম্পবন্ধে মৌলিক প্রবন্ধ লিখিয়া এম, এস-সি ডিগ্রী পান। তিনি যে পরীক্ষায় প্রথম সত্থান অধিকার করেন, তাহা বলা বাহুল্য। যদিও অজৈব রসায়ন শাসেই আমি অধ্যাপনা করিতাম, তথাপি এডিনবাগ বিশববিদ্যালয় হইতে ডক্টর উপাধি লাভ করিবার পর হইতেই, আমি জৈব রসায়নে যে সব নতন নতন সত্য আবিস্কৃত হইতেছিল, সেগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ রাখিতে চেস্টা করিতাম। ১৯১০ সালের পর হইতে জৈব রসায়ন সম্বন্ধে উচ্চ শ্রেণীর ছাত্রদের আমি অধ্যাপনা করিতাম। বিশেষ ভাবে ইহার ঐতিহাসিক বিকাশই আমার আলোচ্য বিষয় ছিল। রসায়ন . শাসের এত দ্রুত উন্নতি হইতেছিল এবং ইহার নানা বিভাগ এত জটিল হইয়া উঠিতেছিল যে, একজন লোকের পক্ষে তাহার দই একটি বিভাগেও অধিকার লাভ করা কঠিন হইয়া পড়িতেছিল। দষ্টান্তস্বরুপ স্পেকট্রাম বিশেলষণের কথাই ধরা যাক। বনসেন এবং কাচ্চফের পর আংস্ট্রম এবং থেলেন, ককেস এবং হার্টলী প্রভৃতি তাঁহাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অংশ এই কাষে ব্যয় করিয়াছেন। কুরী দলপতি কর্তৃক রেডিয়ম আবিকারের পর হইতে রসায়নশাস্ত্রের একটি নতন শাখার উৎপত্তি হইল। বহল বৈজ্ঞানিক এই নতন বিষয়ের গবেষণায় আত্মনিয়োগ করিয়াছেন এবং এ সম্বন্ধে বিপুল সাহিত্য গড়িয়া উঠিয়াছে। আমি যখন এডিনবাগে ছাত্র ছিলাম, তখন ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রীর ভ্রমণাবস্থা বলিতে হইবে। কিন্তু অষ্টোয়াল্ড, ভ্যান্ট হফ এবং আরেনিয়াসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও গবেষণার ফলে এই বিজ্ঞান বিরাট আকার ধারণ করিয়াছে। এবং ইহারই এক প্রশাখা Colloid Chemistry—— অষ্টোয়াড, সিগমণ্ডি এবং জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (২) প্রভৃতির ন্যায় বৈজ্ঞানিকদের হাতে অদ্ভুত উন্নতি সাধন করিয়াছে। আমি যখন এডিনবাগে ছাত্র ছিলাম, তখন ফিজিক্যাল কেমিষ্ট্ৰী কেবল গড়িয়া উঠিতেছিল। এই সময়ে এই বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা আরেনিয়াস স্টকহলম শহরে গবেষণা করিতেছিলেন। আমার বেশ মনে আছে যে, ঐ সময়ে এই সইডিশ বৈজ্ঞানিককে গোঁড়া প্রাচীন পন্থী বৈজ্ঞানিকেরা কিভাবে বিদ্রুপ ও উপহাস করিতেন। যথা সময়ে আরেনিয়াসের বৈজ্ঞানিক তথ্য জগতে স্বীকৃত ও গহীত হইল। তাঁহার বিদ্রুপকারীরাই তাঁহার প্রধান অনুরাগী হইয়া উঠিলেন। আমি তখন সবপ্নেও ভাবি নাই যে ২৫ বৎসর পরে আমারই প্রিয় ছাত্র জ্ঞানেন্দ চন্দ্র ঘোষ এই বিজ্ঞানের বহলে উন্নতি করিবেন, এমনকি আরেনিয়াসের আবিস্কৃত নিয়মও কিয়ং পরিমাণে পরিবর্তিত করিবেন। (২) ১৯২০ সালের ৪ঠা নবেম্বরের নেচার (৩২৭-২৮ পঃ) লিখিয়াছেন—ফ্যারাডে এবং সোসাইটির যন্তে অধিবেশনে কোলয়েড সম্বন্ধে যে সব প্রবন্ধ পঠিত হইয়াছিল, তাহার মধ্যে রিজে, এন, মখাজাঁর প্রবন্ধই প্রধান, কেননা ইহাতে বহন নতেন তত্ত্বের উল্লেখ ছিল।