পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৯১০ সালে ফিজিক্যাল কেমিষ্ট্ৰী বৈজ্ঞানিক জগতে স্থায়ী আসন লাভ করিল। কিন্তু ১৯oo সাল পর্যন্ত ইংলন্ডেও এই বিজ্ঞানের জন্য কোন স্বতন্ত্র অধ্যাপক ছিল না। ভারতে এই বিজ্ঞানের অনশীলন ও অধ্যাপনার প্রবর্তক হিসাবে নীলরতন ধরই গৌরবের অধিকারী। তিনি কেবল নিজেই এই বিজ্ঞানের গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন নাই, জে, সি, ঘোষ, জে, এন, মুখাজী এবং আরও কয়েক জনকে তিনি ইহার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। নীলরতন সরকারী বত্তি লাভ করিয়া ইউরোপে যান এবং ইপিরিয়াল কলেজ অব সায়েন্সে ও সোরবোনে শিক্ষালাভ করেন। তিনি উচ্চাঙ্গের মৌলিক প্রবন্ধ লিখিয়া লন্ডন ও পারি এই উভয় বিশববিদ্যালয় হইতেই ডক্টর উপাধি লাভ করেন। ১৯১২ সালে লন্ডনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তগত বিশ্ববিদ্যালয়সমুহের কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন হয়। কলিকাতা বিশববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট আমাকে এবং দেবপ্রসাদ সবাধিকারীকে এই কংগ্রেসে প্রতিনিধি করেন। লন্ডনে থাকিবার সময় আমি আমোনিয়ম নাইট্রাইট সম্বন্ধে একটি প্রবন্ধ পাঠ করি। তাহাতে রসায়নজগতে একট চাঞ্চল্যের সস্টি হয়। ইংলন্ডে আসিবার পবে কলিকাতায় থাকিতেই এ বিষয়ে গবেষণা করিয়া আমি সাফল্যলাভ করি। সৌভাগ্যক্লমে নীলরতন ধর আমার সহযোগিতা করেন এবং তিনকড়ি দে নামক আর একটি যুবকও আমার সঙ্গে ছিলেন। এই গবেষণায় প্রায় দুইমাস সময় লাগিয়াছিল, কোন কোন সময়ে একাদিক্ৰমে ১০ । ১২ ঘণ্টা পরীক্ষাকাযে ব্যাপত থাকিতে হইত। কিন্তু বিষয়টি এমনই কৌতুহলপ্রদ যে কাজ করিতে করিতে আমাদের সময়ের জ্ঞান থাকিত না। প্রত্যহ পরীক্ষাকাষের পর নীলরতন ধর যখন ফলাফল হিসাব করিতেন, তখন আমি অধীর আনন্দে প্রতীক্ষা করিতাম। লন্ডনে আমি কেমিক্যাল সোসাইটির সভায় এই প্রবন্ধ পাঠ করি । সভায় বহন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রবন্ধটি রাসায়নিকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সস্টি করিয়াছিল। সার উইলিয়াম র্যামজে আমাকে সানন্দে অভিনন্দিত করেন। ডাঃ ভেলী তাঁহার বস্তৃতায় উচ্চপ্রশংসা করেন। "ডাঃ ভি, এইচ, ভেলী অধ্যাপক রায়কে সাদর অভ্যর্থনা করিয়া বলেন তিনি (অধ্যাপক রায়) সেই আষ"জাতির খ্যাতনামা প্রতিনিধি—যে জাতি সভ্যতার উচ্চস্তরে আরোহণ করতঃ এমন এক যুগে বহ রাসায়নিক সত্যের আবিস্কার করিয়াছিলেন, যখন এদেশ (ইংলণ্ড) অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজিত ছিল। অধ্যাপক রায় অ্যামোনিয়ম নাইট্রাইট সম্বন্ধে যে সত্য প্রমাণ করিয়াছেন, তাহা প্রচলিত মতবাদের বিরোধী। উপসংহারে ডাঃ ভেলী ডাঃ রায় এবং তাঁহার ছাত্রগণকে অ্যামোনিয়ম নাইট্রাইট সম্বন্ধে মল্যবান গবেষণার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন। সভাপতিও ডাঃ ভেলীর উক্তি সমর্থন করিয়া ডাঃ রায় এবং তাঁহার ছাত্রগণকে &fèR*TR qIo¡R gt;g I*–The Chemist and Druggist. এই সময়ে রস্কোর বয়স ৮০ বৎসর হইয়াছিল, তিনি কোন সভা সমিতিতে যাইতেন না। কিন্তু তিনি যখন এই গবেষণার ফল শুনিলেন, তখন বলিলেন “বেশ হইয়াছে।” বিশ্ববিদ্যালয় কংগ্রেস লড রোজবেরী কর্তৃক উদ্বোধিত হয় এবং স্যার জোসেফ টমসন প্রথমদিনের আলোচনা আরম্ভ করেন। কয়েকজন প্রসিদ্ধ বক্তা তাহার পর আলোচনায় যোগদান করেন। সবাধিকারী আমার পাবে বসিয়াছিলেন, তিনি আমাকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হইতে কিছু বলিবার জন্য অনুরোধ করিতে লাগিলেন। আমি ইতস্ততঃ করিতে লাগিলাম এবং বলিলাম যে বহৎ সভায় বস্তৃতা করিতে উঠিলে আমি