পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সকুচিত হইয়া পড়ি। তাঁহার (সবাধিকারীর) বামিতা আছে, সতরাং তিনিই বস্তৃতা দিবার ভার গ্রহণ করন, আমি নীরব হইয়াই থাকিব। সবাধিকারী অটল-সঙ্কল্প। তিনি বলিলেন যে আলোচ্য বিষয়ে বস্তৃতা করিবার যোগ্যতা আমারই আছে এবং আমার সম্মতির অপেক্ষা না করিয়াই তিনি একটকেরা কাগজে আমার নাম লিখিয়া সভাপতির নিকট দিলেন। আমাকে বস্তৃতা করিতে আহবান করা হইলে, আমি সভাপতির আদেশ পালন করিতে বাধ্য হইলাম এবং যথাসাধ্য বস্তৃতা করিলাম। আমি মাত্র ৫ মিনিট বস্তৃতা করিয়াছিলাম এবং আমার সেই বস্তৃতা সভার কাষবিবরণী হইতে নিনে উত্থত হইল,— “মাননীয় সভাপতি মহাশয়, উপনিবেশ হইতে আগত প্রতিনিধিগণ অধ্যাপক এইচ, বি, অ্যালেন (মেলবোণ) এবং অধ্যাপক ফ্ল্যাঙ্ক অ্যালেন (মানিটোবা) ষে সব মন্তব্য প্রকাশ করিলেন, তাহা আমি সমর্থন করিতেছি। “ভারতীয় গ্রাজয়েট ও ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-গ্রাজয়েট অবস্থায় অধ্যয়ন ও গবেষণা করিতে আসিলে নানা অসুবিধা ভোগ করিয়া থাকেন। ভারতীয় গ্রাজয়েটের যোগ্যতা অধিকতর উদারতার সহিত স্বীকার করা হইবে, ইহাই আমি প্রাথনা করি। আমার আশঙ্কা হয়, কেবলমাত্র ভারতীয় ছাত্র বলিয়াই তাহাকে নিকৃষ্ট বলিয়া গণ্য করা হয়। রসায়ন-বিজ্ঞান সম্বন্ধে কথা বলিবার আমার কিছু অধিকার আছে। সম্প্রতি কলিকাতায় বহল প্রতিভাবান ছাত্র রসায়নশাস্ত্র সম্বন্ধে পোস্ট-গ্রাজয়েট অধ্যয়ন অবস্থায়ও গবেষণা করিতেছেন। তাঁহাদের লিখিত মৌলিক প্রবন্ধ ব্রিটিশ জানালসমুহে স্থান পাইয়া থাকে। সতরাং তাঁহাদের কিছল যোগ্যতা আছে ধরিয়া লওয়া যাইতে পারে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ঐ সমস্ত গবেষণাকারী ছাত্র যখন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও উপাধিলাভের জন্য আসে, তখন তাহাদিগকে সেই পরাতন রীতি অনুসারে প্রাথমিক পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। ইহার ফলে আমাদের যুবকদের মনে উৎসাহ হ্রাস পায়। পববতী জনৈক বক্তা প্রস্তাব করিয়াছেন যে, এইরুপ ছাত্রকে নিজের নিবাচিত কোন অধ্যাপকের অধীনে শিক্ষানবীশ থাকিতে হইবে এবং উক্ত অধ্যাপক তাহার কাযে সন্তুষ্ট হইলে, তাহার মৌলিক প্রবন্ধ বিচার করিয়া তাহাকে সবোচ্চ উপাধি দেওয়া হইবে। আমি এই প্রস্তাব সমর্থন করি। “স্যার জোসেফ টমসন বলিয়াছেন যে পোস্ট-গ্রাজয়েট ছাত্রকে উৎসাহ দিবার জন্য যোগ্য বত্তি প্রভৃতি দানের ব্যবস্থা করিতে হইবে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এইরুপ কতকগুলি ইতিমধ্যেই স্থাপন করিয়াছেন এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি করিবেন, আশা করা যায়। কিন্তু আমি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাগত প্রতিনিধিদিগকে স্মরণ করাইয়া দিতে চাই যে, ভারতে আমরা সমরণাতীত ষ্গ হইতে উচ্চ চিন্তা ও সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপনের আদর্শ গ্রহণ করিয়া আসিয়াছি এবং অপেক্ষাকৃত সামান্য বত্তি ও দানের সাহায্যেই আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যথেষ্ট উন্নতির আশা করিতে পারি। “মাননীয় সভাপতি মহাশয়, ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়সমহে ষেরপ শিক্ষা দেওয়া হয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত শিক্ষাও সেইরূপ উচ্চশ্রেণীর একথা আমি বলিতে চাই না, বস্তুতঃ আমরা আপনাদের নিকট অনেক বিষয় শিখিতে পারি; কিন্তু যথেষ্ট রটেবিচ্যুতি ও অভাব সত্ত্বেও ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়সমুহ এমন অনেক লোককে গড়িয়া তুলিয়াছে, যাহারা দেশের গৌরব ও অলঙ্কারস্বরুপ। কলিকাতার সব প্রধান আইনজ্ঞ,—যাঁহার আইনজ্ঞানের গভীরতা ভারতের সবত্র প্রসিদ্ধ—কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজয়েট। কলিকাতার তিনজন প্রসিদ্ধ চিকিৎসক—যাহারা ব্যবসায়ে অসামান্য সাফল্য অজন