পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তখন লন্ডনে লেগ মহামারী হয় এবং তাঁহাকে বাধ্য হইয়া ট্রিনিটি কলেজ ছাড়িয়া বগ্রাম উলসথপ যাইতে হয়। সেইখানেই যন্ত্রপাতির সাহায্য ব্যতীত তিনি তাঁহার মাধ্যাকৰণ তত্ত্ব আবিস্কার করেন। বহং জিনিষের শ্লগ অপেক্ষাকৃত ক্ষদ্র জিনিষের তুলনা করিলে বলা যায়, ঘোষের নিয়ম’-এর (Ghosh's Law) পশ্চাতেও এইরুপ একটা ইতিহাস আছে। ঘোষ যন্ত্রপাতির সযোগ হইতে বঞ্চিত হইয়া বিজ্ঞান কলেজে তাঁহার নিজের কক্ষে ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রীর রাশীকৃত পদস্তক ও পত্রিকা লইয়া কাল কাটাইতেন। এইখানেই তিনি তাঁহার বিখ্যাত “ঘোষের নিয়ম” আবিকার করেন এবং তাহা শীঘ্রই বৈজ্ঞানিক জগতের দটি আকর্ষণ করে। মেঘনাদ সাহা গণিত এবং জ্যোতিষ সম্পকীয় পদার্থবিদ্যায় (Astro-physics) অসাধারণ পারদর্শিতা লাভ করিয়াছিলেন। তাঁহাকেও এই দদশায় পড়িতে হইয়াছিল। উপযন্ত যন্ত্রপাতির অভাবে পদার্থবিদ্যা সম্বন্ধে গবেষণা করিতে না পারিয়া তিনিও থবি মনঃকষ্ট ভোগ করিতেছিলেন। তৎসত্ত্বেও তিনি ফিলজফিক্যাল ম্যাগাজিন’, ‘জানাল অব ফিজিক্স (আমেরিকা), রয়েল সোসাইটির কাষ বিবরণী প্রভৃতিতে বহ মৌলিক প্রবন্ধ প্রকাশ করিতে থাকেন এবং অবশেষে বিখ্যাত "Saha's Equation" আবিস্কার করেন। এদিকে আশীতোষ গবৰ্ণমেণ্টের নিকট হইতে বিজ্ঞান কলেজের জন্য সাহায্য লাভাথ প্রাণপণ চেষ্টা করিতেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না। ব্রিটিশ ভারতে বহুদিনের একটা প্রথা ছিল যে, যখনই কোন লোকহিতাকাঙ্ক্ষী মহানুভব ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য কোন মহৎ দান করেন, গবৰ্ণমেণ্টও সরকারী তহবিল হইতে অনরপে দান করিয়া দাতার ইচ্ছা কাষে পরিণত করিতে সহায়তা করেন। আমি এপথলে দুইটি দটিাত উল্লেখ করিব। পরলোকগত জে, এন, টাটার মহৎ দানের ফলে বাগালোর “ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স” প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত গভর্ণমেণ্ট এই প্রতিষ্ঠানে বাষিক লক্ষাধিক টাকা সাহায্য দিয়া থাকেন। কিন্তু ভারত গবৰ্ণমেণ্টের শিক্ষানীতি যাহারা পরিচালনা করিতেন তাঁহারা রাজনৈতিক কারণে বিজ্ঞান কলেজের প্রতি বিরাপ হইলেন। মিঃ শাপ (পরে স্যার হেনরী শাপ") ভারত গবৰ্ণমেণ্টের শিক্ষাবিভাগের সেক্রেটারী ছিলেন। বঙ্গবিচ্ছেদের পর নবগঠিত পববঙ্গ ও আসাম প্রদেশে স্যার ব্যামফিল্ড ফলারের আমলে ইনি শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টর ছিলেন। সিরাজগঞ্জ হাই স্কুলের ছাত্রেরা বন্দেমাতরম ধননি করিয়া মিঃ শাপের কোপদটিতে পড়ে। মিঃ শাপ এবং গবৰ্ণর স্যার ব্যামফিল্ড ফলার সিরাজগঞ্জ স্কুলের এই বিদ্রোহী ছাত্রদিগকে শাসিত দিবার জন্য বন্ধপরিকর হন। তাঁহাদের মতে উক্ত স্কুল রাজদ্রোহের আভা ছিল। কিন্তু কলিকাতা বিশববিদ্যালয়ের সিডিকেট শাপ ও ফলারের হাতের পাতুল হইতে সম্মত হইলেন না। স্যার ব্যামফিল্ড ফ্লার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের এই ঔদ্ধত্যে ক্ৰোধে জ্ঞানহারা হইলেন। তিনি বড়লাট লর্ড মিস্টোকে লিখিলেন যে বিশববিদ্যালয়ের অবাধ্য সিডিকেটকে যদি সায়েস্তা করা না হয়, তবে তিনি (ফলার) পদত্যাগ করবেন। লর্ড মিণ্টো যদিও নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও রৌদ্রদগধ বারোক্লাটদের মতে সায় দিতেন, তাহা হইলেও, ইংরাজ অভিজাত বংশের একটা সহজ উদারতার ভাব তাঁহার মধ্যে ছিল। তিনি সিডিকেটের কাজে হস্তক্ষেপ করিতে অস্বীকৃত হইলেন এবং ফলারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করিলেন। g মিঃ শাপ ও তাঁহার প্রভু ফলার যে আঘাত পৃ *া, তাহা তাঁহারা ভুলিতে পারেন নাই। লড় হাড়িঞ্জের আমলে মিঃ শাপ ভারত শিক্ষাবিভাগের সেক্রেটারী সিন্তে হন। সতরাং এখন তিনি তাঁহার পকে অপমানের প্রতিশোধ লইবার সংযোগ পাইলেন। মিঃ শাপ জানিতেন যে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় আশুতোষ