পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কলিকাতা বা বোম্বাই সহরে কাজের চেষ্টায় যাইতে বাধ্য হয়। যে, যদিও প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও অতীত ডিরেক্টরগণকে এবং বেতন দেওয়া হইয়াছে ও হইতেছে, তথাপি যাঁহাদের যোগ্যতার উপর নির্ভর করা যাইতে পারে, অথবা যাহারা ইনস্টিটিউটের কাষে প্রাণসঞ্চার করিতে পারেন, দই একজন ছাড়া এমন লোককে প্রতিষ্ঠানের কাজে পাওয়া যায় নাই। কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কায্যের জন্য ডিরেক্টরকে এত অতিরিক্ত বেতন দেওয়া কোন রুমেই সঙ্গত নহে। o “তৃতীয়তঃ, যেভাবে এই ইনস্টিটিউটের কাজে লোক নিষাক্ত করা হয়, তাহাও ইহার ব্যথতার একটি কারণ। এই প্রণালীতে যথেস্ট গলদ আছে এবং সহকারী অধ্যাপকগণকে অত্যন্ত কম বেতন দেওয়া হয়। “* * * আমি তুলনামলেক একটি দষ্টান্তে এবং কতকগুলি তথ্যের উল্লেখ করিয়া এই কথা বঝোইতে চেষ্টা করিব। “লন্ডনের নিকটবতী টেডিংটনে অবসিথত ‘ন্যাশনাল ফিজিক্যাল লেবরেটরি"-র কথাই ধরা যাক। গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে ইহা একটি সবাহৎ এবং বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান। ইহার ডিরেক্টরের বেতন বাষিক ১২oo শত পাউণ্ড এবং অধিকাংশ সহকারী অধ্যাপকের (প্রায় সকলেই নতন লোক) বেতন বাষিক ২৪০ পাউণ্ড। অথাৎ ডিরেক্টর এবং সহকারিগণের বেতনের অনুপাত ধরিলে ১ : ৫ দাঁড়ায়। কিন্তু বাংগালোরে ডিরেক্টরের বেতন মাসিক ৩৫০০ টাকা (অর্থাৎ বিলাতী হিসাবে বাষিক প্রায় ৪০০০ পাউণ্ড) (২) এবং তাঁহার সহকারিগণ বা গবেষকগণ মাসিক বেতন পান ১৫০ টাকা (অর্থাৎ বাষিক প্রায় ১২০ পাউণ্ড)। সুতরাং এক্ষেত্রে ডিরেক্টর ও তাঁহার সহকারিগণের বেতনের অনুপাত ১ : ৩o । দেখা যাইতেছে, প্রতিষ্ঠানের আয়ের অধিকাংশ ডিরেক্টর এবং অধ্যাপকগণের বেতনেই ব্যয় হয়। গবেষণাকারী তরুণ কমীদের জন্য প্রায় কিছই অবশিষ্ট থাকে না। আমার মনে হয়, এই প্রতিষ্ঠানে আরও বেশি গবেষণাকারী কমাঁ থাকার দরকার এবং তাহাদিগকে এখনকার চেয়ে বেশী বেতন বা বত্তি দেওয়া প্রয়োজন। তাহা হইলে তাঁহারা একনিষ্ঠভাবে তাঁহাদের কাজ করিতে পারেন। উচ্চতর পদগুলির বেতন হ্রাস করিয়া ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বেতনের সমান করা উচিত।" > স্যার সি, ভি, রামন পোপ কমিটির সদস্য ছিলেন, তিনি ইনস্টিটিউটের কাউন্সিলেরও সদস্য। তিনিও ইনস্টিটিউটের কাষ প্রণালীর অধিকতর তাঁর ভাষায় নিন্দা করিয়াছেন। “বাঙ্গালোরের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স তথা দেরাদনের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জন্য যে বিপুল অৰ্থ ব্যয় করা হইয়াছে, তদনুপাতে ঐগুলির বারা কোনই কাজ হয় নাই। এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের ব্যথতা আমাদের ব্যবস্থাপক সভার সদস্যগণকে নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের জন্য সতক করিয়া দিবে।” বোবাইয়ের রয়েল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সও সহরবাসীদের দানের বারা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। গবৰ্ণমেণ্ট এই প্রতিষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট অথ সাহায্য করেন। সাধারণের (২) অধ্যাপক সাহা বলিতে ভুলিয়া গিয়াছিলেন মাসিক ২০০০ টাকার অতিরিক্ত ভাতা পাইতেছিলেন। অথাৎ তিনি ৫০০০ টাকা পাইতেন। পাঁচ বৎসরের জন্য তাঁহার কাজের চুক্তি ছিল। উহার পর হইতে তিনি মাসিক ৩০০০ টাকা বেতন ও ৫oo, টাকা ভাতা পাইতেছেন।