পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছিল না, সতরাং আমাদের স্থানাভাব হইতেছিল। অথর্ণভাবে সমস্ত বিভাগে যন্ত্রপাতি, সাজসরঞ্জাম প্রভৃতিও পাওয়া যাইতেছিল না, সতরাং আশানরপে কাজ হইতেছিল না। ১৯২৬ সালে লঞ্চ বালফরের সভাপতিত্বে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় কংগ্রেসের যে অধিবেশন হয়, তালুতে আমি প্রতিনিধিরপে প্রেরিত হইয়াছিলাম। প্রথম দিনের আলোচনার বিষয় ছিল—‘রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় । আমি এই প্রসঙ্গে বলিয়াছিলাম— “আমি এই বিষয়ে কিছু বলিবার জন্য প্রস্তুত হইয়া আসি নাই। কিন্তু আমি দেখিতেছি যে, আমাদের হাই কমিশনার (তিনি আমার ভূতপবে ছাত্র) অসন্থেতার জন্য আসিতে পারেন নাই, আরও কয়েকজন সদস্য অনুপস্থিত আছেন। সেই কারণে আমি আপনাদের সম্মখে বস্তৃতা করিতে উপস্থিত হইয়াছি। এখানে বস্তৃতা করিবার সযোগ লাভ করা আমি সৌভাগ্য বলিয়া মনে করি। “১৯১২ সালে প্রথম সাম্রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় কংগ্রেসে আমি বস্তৃতা করিবার জন্য আহত হইয়াছিলাম। সুতরাং এখানে আমি নতেন নহি। আমার যতদর মনে পড়ে, আমাদের চেয়ারম্যান মহাশয়ও সেই সময়ে কোন এক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করিয়াছিলেন। “আজ আমার বস্তৃতার প্রধান উদ্দেশ্য, বাংলা দেশে শিক্ষার অবস্থা কিরুপ শোচনীয় হইয়াছে, তাহাই ব্যক্ত করা। আমাদের সম্মানিত সভাপতি মহাশয় অক্সফোর্ড ও এডিনবাগ" দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। আমি আশা করি, তিনি যে সব সারগভ কথা বলিয়াছেন, তাহা ভারত গবণমেণ্ট ও বাংলা গবণমেণ্ট বিশেষ ভাবে বিবেচনা করিয়া দেখিবেন। “আপনারা জানেন, ১৯১৯ সালের মণ্টেগু চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমহের অবস্থা কি ভাবে পরিবর্তিত করিয়াছে। উহার দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলি প্রাদেশিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হইয়াছে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হইতে যখন আমরা ভারত গবৰ্ণমেণ্টের নিকট সাহায্য প্রাথনা করি, তাঁহারা আমাদিগকে বাংলা গবণমেণ্টের নিকট যাইতে বলেন; অন্যদিকে বাংলা গবৰ্ণমেণ্ট মেস্টনী ব্যবস্থার দোহাই দেন। সতরাং আমরা উভয় সঙ্কটে পড়িয়ছি। গবেষণা কায্যের জন্য ব্যক্তিগত দানের উত্তজবল দষ্টান্ত বাঙ্গালোর ইনস্টিটিউট অব সায়েলস। প্রধানতঃ বোম্বাইয়ের প্রসিদ্ধ ধনী পরলোকগত মিঃ জে, এন, টাটার বিরাট দানেই উহার প্রতিষ্ঠা। বোম্বাই বহন লক্ষপতির আবাসস্থল। যদিও বাংলাদেশ বহু ধনীসন্তানের গবা করিতে পারে না, তবুও সে বিষয়ে আমরা একেবারে দরিদ্র নহি । আমাদের বিজ্ঞান কলেজ দুইজন মহানুভব ধনীর দানে প্রতিষ্ঠিত। প্রধানত স্যার তারকনাথ পালিত। তিনি মৃত্যুর পশ্চাবে এজন্য ১৫ লক্ষ টাকা দান করিয়া যান। উহা প্রায় একলক্ষ পাউন্ডের সমান। তিনি আইনজীবী এবং এই দানের বারা তিনি তাঁহার সন্তানদিগকে তাহাদের প্রাপ্য অংশ হইতে বঞ্চিত করিয়াছিলেন, কেন না বলিতে গেলে তাঁহার সবসবই তিনি বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন। “ভারতের অন্য একজন শ্রেষ্ঠ আইনজীবী তাঁহার দন্টাত অনুসরণ করেন। তাঁহার নাম স্যার রাসবিহারী ঘোষ। তিনি বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য প্রায় দেড়লক্ষ পাউণ্ড দান করিয়া যান। ভারতীয়দের নিকট হইতে আমরা যতদর সম্ভব সাহায্য পাইয়াছি। তাঁহাদের দানের পরিমাণ মোট প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা । কিন্তু যখনই আমরা ভারত গবৰ্ণমেণ্ট বা বাংলা নিকট অগ্রসর হই, তাঁহারা অর্থাভাবের অজুহাত দেখান—অথচ বড় । সকণীমের জন্য জলের মত অর্থব্যয় করিতে তাঁহাদের বাধে না। క్హా আমাকে করিতে হইয়াছে। আমাদের সঙ্গে উপন্যাসের অলিভার টাইটের মত ব্যবহার করা হয়। আমি আশা করি সভাপতি মহাশয় যে সারগত বস্তৃতা করিয়াছেন, তাহা বেতার