পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রচির উপর ইহা নির্ভর করে। কথায় বলে—অলস মন, শয়তানের আড্ডা। যে সব কাজের কথা উল্লেখ করিলাম, তরল আমোদ প্রমোদ হইতে আত্মরক্ষা করিবার উহাই শ্রেষ্ঠ উপায়। আত্মন্যেব চ সন্তুষ্টঃ—অর্থাৎ নিজের মধ্যে নিজেই সবাদা সন্তুষ্ট থাকা উচিত। অন্যের উপর যতই নিভর করা যায়, দুঃখ ততই বন্ধি পায়। অধিকাংশ লোক দিনের কাজকম শেষ হইলে, ক্লাবের জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠে, অথবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আভায় গল্প করিয়া সময় কাটায়। তাহারা সময়কে বধ করে বলিলেই ঠিক হয়। সবোপরি, সন্তোষ অভ্যাস করিতে হইবে। বাল্যকালে এডিসনের প্রবন্ধে পড়িয়াছিলাম—“আমোদ অপেক্ষা আনন্দই আমি চিরদিন বেশী পছন্দ করি।” আনন্দ জীবনের চক্লে যেন তৈলের ন্যায় কাজ করে। এমন সব লোক আছে, সামান্য কারণেই যাহাদের মেজাজ চটিয়া যায়। তুচ্ছ কারণে বিরক্ত ও কন্ধ হইয়া উঠে। এই সমস্ত লোক সবদাই দঃখ পায়। যাহারা অপ্রিয় ব্যাপার হাসিয়া উড়াইয়া দিতে পারে, তাহদের সৌভাগ্য আমি কামনা করি, অন্যের মনোভাব সম্বন্ধে সব সময়ে ভাল দিকটাই দেখিতে হয়। ঈষাকে পরিহার করিতে হইবে, ঈষা লোকের জীবনীশক্তি নষ্ট করে। যাহাকে ঈষা করা যায়, তাহার কোন ক্ষতি হয় না, কিন্তু যে ঈর্ষা করে, তাহার হদয় দগধ হয়। হিংসা ও বিদ্বেষ মনের সন্তোষ নষ্ট করে। আর মনের সঙ্গে দেহের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ। যে অন্যের প্রতি হিংসা করে, সে ভুলিয়া যায় যে তাহাতে তাহার নিজের মনের শান্তিও দীর হয়। “মিল বলেন, বৈষয়িক কায্যের অভ্যাস সাহিত্য-চৰ্চার উপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে, ইহাতে শক্তি বন্ধি পায়।” তাঁহার (মিজোর) তরণcবয়সের অভিজ্ঞতা এই যে, সমস্ত দিনের কাজের পর দুই ঘণ্টায় অনেক বেশী সাহিত্যসেবা করিতে পারিতেন; যখন তিনি প্রচুর অবসর লইয়া সাহিত্যচৰ্চা করিতে বসিতেন, তখন তেমন বেশী দর অগ্রসর হইতে পারিতেন না। বৈষয়িক কাষের সঙ্গে সাহিত্যচর্চার সমন্বয়ের প্রসিদ্ধ দম্পটাত বেজহটের জীবন। গিবন বলিতেন যে, শীতকালে লন্ডনসমাজ ও পালামেণ্টের কমচঞ্চল জীবনের মধ্যে তিনি অধিক মানসিক শক্তি অনুভব করিতেন, রচনাকার্য তাঁহার পক্ষে বেশী সহজ হইত। গ্রোট প্রতিদিন তাঁহার গ্রীসের ইতিহাস’ লিখিবার জন্য আধ ঘণ্টা সময় ব্যয় করিতেন, দুই খণ্ড গ্রন্থ বাহির হইবার পাবে ব্যাকের কাজে তাঁহাকে কঠোর পরিশ্রম করিতে হইত। আমাদের সমসাময়িক জনৈক লোকপ্রিয় ঔপন্যাসিক ডাকঘরের কর্মচারী ছিলেন। প্রত্যহ সকাল বেলা ৫টা-৬টার সময় তিনি ডাকঘরের কাজের মতই সময় নিদিষ্ট করিয়া উপন্যাস লিখিতে বসিতেন।" (মলির সমতি কথা, প্রথম খণ্ড, ১২৫ পঃ। বৈষয়িক কাষে কঠোর পরিশ্রম করিয়াও, কিরাপে সাহিত্য সেবা এবং বিদ্যানশীলন করা যায়, তাহার প্রকৃষ্ট দন্টান্ত, গ্রীসের ইতিহাসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থকার জজ গ্রোটের জীবন। দশ বৎসর বয়সে তিনি চাটার হাউসে ভতি হন এবং ১৬ বৎসর বয়সে তাঁহার পিতা তাঁহাকে ব্যাকে শিক্ষানবীশ নিযুক্ত করেন। গ্রোটের বিদ্যাচচার প্রতি তাঁহার পিতার একটা অবজ্ঞার ভাবই ছিল। তিনি ব্যাকে ৩২ বৎসর কাজ করেন এবং ১৮৩০ সালে উহার প্রধান কর্মকতা হন। কিন্তু এই কাৰ্যব্যস্ততার মধ্যেও তিনি অবসর সময়ে নিয়মিত ভাবে সাহিত্যসেবা ও রাজনীতি আলোচনা করিতেন। ১৮৪৩ সালে ব্যাক হইতে অবসর গ্রহণের পর তিনি তাঁহার গ্রীসের ইতিহাস (১২ খন্ড) শেষ করেন বটে; কিন্তু ১৮২২ সালেই তিনি ঐ গ্রন্থ লিখিবার সঙ্কল্প করেন এবং বরাবর উহার জন্য অধ্যয়ন ও মালমশলা সংগ্রহ কাবে লিপ্ত ছিলেন। গ্রেট নতন লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান প্রবতক। তিনি কয়েক বৎসর পালামেণ্টের সদস্যও ছিলেন।