পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পড়ে না। কিন্তু তৎসত্ত্বেও সংবাদ পত্রে, বোবাই সহরবাসীদের প্রতি বাংলার বন্যাসাহায্যের জন্য আমার নিবেদনপত্র দেখিয়া, আমাকে এবং বন্যা সেবাকাষে’ আমার প্রধান সহকারীকে, মহাত্মাজী দুইখানি দীঘ পত্র লিখেন। অদ্য—১৯৩১ সালের ৩০শে আগস্ট সকালে, এই কয়েক ছত্র লিখিবার সময় আমি সংবাদপত্রে দেখিতেছি, তিনি বোম্ববাই প্রদেশের অধিবাসীদের নিকট একটি বিদায়বাণী দিয়াছেন – ইংলণ্ড যাত্রার পাবে" বন্যা-পীড়িতদের সাহায্যের জন্য গান্ধীজীর আবেদন “আমি আশা করি, বোবাই প্রদেশের লোকেরা বাংলার বন্যাপীড়িতদের সাহায্যের জন্য অগ্রসর হইবে এবং ডাঃ পি. সি. রায়ের নিকট তাহাদের দান প্রেরণ করবে।" অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, বোবে, ২৯শে আগস্ট, ১৯৩১ । মনকে এইভাবে চিন্তামুক্ত করিয়া বিষয়ান্তরে অভিনিবেশ করিবার ক্ষমতা, আমাকেও কিয়ৎপরিমাণে প্রকৃতি দান করিয়াছেন এবং এই শক্তিবলে আমি সময়ে সময়ে একাদিক্ৰমে ৬।৭টি বিভিন্ন কাজে মনঃসংযোগ করিয়াছি। আমাকে যদি কেহ জিজ্ঞাসা করেন, আমার জীবনের কোন অংশ সবাপেক্ষা কমব্যস্ত ?— আমি বিনা বিধায় উত্তর দিব—ষাট বৎসরের পর। এই সময়ের মধ্যে আমি ভারতের একপ্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত, প্রায় দই লক্ষ মাইল ভ্রমণ করিয়া বদেশী শিল্পপ্রদর্শনী, জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রভৃতির উদ্বোধন করিয়াছি, সবদেশীর কথা প্রচার করিয়াছি। দুইবার ইউরোপেও গিয়াছি। কিন্তু আমার দৈনন্দিন কাষতালিকা হইতে দেখা যাইবে যে, এইরুপ বিভিন্ন কমে লিপ্ত থাকিলেও বিজ্ঞানাগারে আমার গবেষণাকায ত্যাগ করি নাই— যদিও এদেশের অনেকেরই ধারণা যে বহুপবেই আমি গবেষণাকার্য পরিত্যাগ করিয়া থাকিব। একথা সত্য যে, কাহারও কম ক্ষেত্র যদি বহুবিস্তৃত হয়, তবে নিজনিতাপ্রিয় ধ্যানমগ্ন তপস্বীর মত সে গবেষণাকাষে তত বেশী মনোযোগ দিতে পারে না। এই ক্ষতি পরণ করিবার জন্য আমি আমার অবকাশের সময় সংক্ষেপ করিতে বাধ্য হইয়াছি। পবে গরমের ছটীর পরা একমাস আমি সবগ্রামে কাটাইতাম, এখন কখন কখন খলনা ও অন্যান্য স্থানে বেড়াইয়াই সন্তুষ্ট থাকিতে হয়। গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছটীতে (১২।১৪ দিন ব্যতীত) এবং পজা, বড়দিন ও ইস্টারের ছটাঁতে আমি লেবরেটরিতে কাজ করিয়া থাকি। বস্তুতঃ, বোম্বাই, নাগপুর, মাদ্রাজ, বাংগালোর *, লাহোর প্রভৃতি স্থানে যাতায়াত এখন আমার নিকট ছটী বলিয়া গণ্য। সতরাং দেখা যাইবে যে, আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সময়ের ক্ষতিপরণ করিতে চেষ্টা করিয়াছি। গত ২১ বৎসর যাবৎ আমি প্রত্যহ দুই ঘণ্টা ময়দানে কাটাইয়া আসিতেছি। ইহার ফলে স্বাসথালাভের জন্য শৈলবিহারে গমন করা আমার পক্ষে নিম্প্রয়োজন। এতদ্ব্যতীত, যে কাজে দীঘকালব্যাপী অবিরাম মানসিক শ্রমের প্রয়োজন, এমন কাজে আমি কখনও হাত দিই নাই। ঐরপে অবিরত শ্রমেই বাস্থ্য ভঙ্গ হইতে পারে এবং স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য সেই কারণে দীঘকালব্যাপী বিশ্রামেরও প্রয়োজন। গত অধশতাব্দী কাল, সবাসেথ্যর জন্য, অপরাহু ৫টা, সাড়ে ৫টার পর আমি কোনপ্রকার মানসিক শ্রম করি নাই। শীতপ্রধান দেশে এই নিয়ম কিঞ্চিং ভঙ্গ করিয়াছি, যথা—শইতে যাইবার পবে দ্য এক ঘণ্টা কোন লঘ সাহিত্য পাঠ করিয়াছি। বহল

  • গত চারি বৎসর হইল, সায়েলস ইনস্টিটিউটের কাউন্সিল সভায় আমি বৎসরে ৩।৪ বার tषाणकाम कब्रिग्ना स्राणिाठीइ ।