পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দরখাস্ত (২) আপনি পাঠাইয়াছেন, তাহাতে এই আবেদন করা হইয়াছে যে আদমদীঘি ও নসরতপর স্টেশনের মধ্যে একটি সেতু নিমাণ করা হউক। তদত্তরে আমি জানাইতেছি যে, যথাযোগ্য তদন্তের পর আমরা এই সিন্ধান্ত করিয়াছি যে, উক্ত স্থানে সেতু নিমাণের কোন প্রয়োজন নাই। (সবাঃ) অস্পষ্ট এজেণ্টের পক্ষে মেমো নং ১৭৭৩—জে বগড়া ম্যাজিস্ট্রেটের আফিস ৩রা নভেম্বর, ১৯২১ উমিরমদীন জোন্দার এবং অন্যান্যের অবগতির জন্য, ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ হইতে এই পত্রের নকল প্রেরিত হইল। g (সবাঃ) অপস্ট ডাঃ বেণ্টলী স্বাভাবিক জলনিকাশের পথরোধ সম্পকে লিখিয়াছেন :– "সমস্ত জলনিকাশের পথেরই গতি নদীর দিকে। ঐ সমস্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদী আবার জলরাশিকে পামা ও যমনার গভে ঢালে। দেশের অবনমন ঢালতা বা গড়ান ৬ ইং হইতে ১ ইঃ পৰ্যন্ত। দভাগ্যক্রমে, যে সমস্ত ইঞ্জিনিয়ার এই অঞ্চলে জেলাবোড ও রেলওয়ের রাস্তাগুলি তৈরী করিবার জন্য দায়ী, তাঁহারা দেশের স্বাভাবিক জলনিকাশের পথের কথা লইয়া মাথা ঘামান নাই। কাজেই, রাস্তা ও রেলওয়ে বাঁধগুলিতে যে সব কালভাট বা পয়োনালীর ব্যবস্থা হইয়াছে, তাহা যথেষ্ট নহে। জলপ্রবাহ অনিষ্টকর নহে, কিন্তু উহার দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা করিতে হইবে। বন্যা ষে প্রায় বাৎসরিক ব্যাপার হইয়া দাঁড়াইয়াছে, তাহার কারণই এই যে, রেলওয়ে লাইন তৈরী করিবার গ্রন্টার দরণে, বাংলার নদীগুলির বাভাবিক কাযে বিঘা সষ্টি করা হইয়াছে। আমাদের সম্মখে প্রধান সমস্যা এই—স্বাভাবিক জলনিকাশের পথের পনরুদ্ধার—যাহাতে প্রত্যেক বর্ষার পর জল দ্রুতগতিতে বাহির হইয়া যাইতে পারে। বাংলার নদী ব্যবস্থাকে সাভে করিয়া দেখিতে হইবে, রেলওয়ে বাঁধের ফলে প্রত্যেক নদীর গভঃ কি ভাবে এবং কতদর পর্যন্ত বন্ধ হইয়াছে। যেখানেই প্রয়োজন, যথেষ্ট সংখ্যক নতন ধরণের কালভার্ট বসাইতে হইবে।...... এই ব্যবস্থা অনুসারে কায করিলে বাংলা দেশ তাহার রাস্তা ও রেলওয়েগুলি ঠিকমত রক্ষা করিতে পারবে, ম্যালেরিয়াকে বহল পরিমাণে দর করিতে পারবে, জলসরবরাহের ব্যবসথার উন্নতি করিতে পারিবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ বন্যার প্রকোপও নিবারণ করিতে পরিবে। রাস্তা ও রেলওয়ের বারা দেশের জলপ্রবাহের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নষ্ট করাতেই যত কিছ গণ্ডগোলের সন্টি হইয়াছে।......রেলওয়ে বাঁধ এবং জেলাবোড়ের রাস্তাগুলিই অনেকাংশে বন্যার জন্য দায়ী।” (২) শ্রীবন্ত সভাষচন্দ্র বস সাতাহার হইতে এই দরখাস্তখানি আমার নিকট পাঠান। ইহার একটি নকল সংবাদপত্রে পাঠানো হয় এবং আনন্দবাজার পত্রিকা ইহার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন ও এই সম্বন্ধে মন্তব্য করেন। মল পরের সন্ধান পাওয়া গেল না।