পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজসাহীর বন্যাবিধস্ত অঞ্চলের আয়তন প্রায় তিনগণে বেশী এবং সেখানে গহ ও সম্পত্তি ধনংস বাবদ ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশী। সরকারী স্বাস্থ্যবিভাগের সহকারী ডিরেক্টরের হিসাবকে ভিত্তিস্বরুপ ধরিলে পাবনা ও রাজসাহী জেলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটী টাকার কম হইবে না এবং সমগ্র বন্যাবিধৰসত অঞ্চলের ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটী টাকার ন্যান হইবে না। বিজ্ঞান কলেজের প্রশস্ত গহে বন্যা সাহায্য সমিতির অফিস করা হইল এবং অপব উৎসাহের চাঞ্চল্যে ঐ বিদ্যামন্দিরের নীরবতা যেন ভঙ্গ হইল। দলে দলে নরনারী ঐ সখানে যাতায়াত করিতে লাগিল। প্রায় সত্তর জন স্বেচ্ছাসেবক—তাহার মধ্যে কলিকাতার কলেজ সমহে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও ছিলেন—প্রত্যহ সকাল হইতে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত অনবরত কায করিতেন। সাধারণ কাযালয়, কোষাগার, দ্রব্যভান্ডার, টাকাকড়ি জিনিষপত্র পাঠাইবার আফিস, এবং ঐ সমস্ত গ্রহণ করিবার আফিস এক একটি ঘরে। এই সমস্ত বিভিন্ন বিভাগের জন্য পথক পৃথক স্থান নিদিষ্ট হইল। কলিকাতা আফিসের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল—প্রচার বিভাগ। জনসাধারণকে ঐ বিভাগ হইতে সঠিক সংবাদ সরবরাহ করা হইত। ভারতের সবত্র—এমন কি ইংলণ্ড, ফ্রান্স ও আমেরিকাতেও সাহায্যের জন্য আবেদন করা হইল। এই বিশাল প্রতিষ্ঠানের কায ঠিক ঘড়ির কাঁটার মত নিয়মিত ভাবে চলিত। প্রতিষ্ঠানটি নানা শ্রেণীর লোক লইয়া গঠিত হইয়াছিল বটে, কিন্তু সকল কমীর প্রাণেই বন্যাপীড়িতদের জন্য সমবেদনা ও সেবার আগ্রহ ছিল—কাজেই সকলে ঐক্যবদ্ধ হইয়া কাজ করিতে পারিত। বেগুগল রিলিফ কমিটির সাফল্যের কারণ এই যে প্রথম হইতেই সমবায় এবং সহযোগিতার নীতি অনুসারে ইহার কায পরিচালিত হইয়াছিল। বন্যার ভীষণ দুঃসংবাদ প্রচারিত হওয়া মাত্র দেশের চারিদিকে অসংখ্য সাহায্য সমিতি গড়িয়া উঠিয়াছিল। বেঙ্গল রিলিফ কমিটি এই গলির কার্যকে ঐক্যবদ্ধ ও সনিয়ন্ত্রিত না করিলে নানা বিশৃঙ্খলার সস্টি হইত এবং বহু শক্তির অপব্যয় হইত। বেঙ্গল রিলিফ কমিটি পাব হইতেই অবস্থা বঝিয়া, কংগ্রেস কমিটি, বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়াকস, বেংগল সোশ্যাল সাভিস লীগ, বঙ্গীয় যবেকসঙ্ঘ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে, কাষ নিবাহক সমিতিতে তাঁহাদের প্রতিনিধি পাঠাইবার জন্য অনুরোধ করিয়াছিলেন; উদ্দেশ্য, যাহাতে পরস্পর পরামর্শ ও আলোচনা করিয়া কায্যের শঙ্খেলা বিধান করা যাইতে পারে। এই আহানে সকলেই সাড়া দিলেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হতে বিভিন্ন অঞ্চলের ভার অপিত হইল। এইরপে এমন একটি কাৰ্যসঙ্ঘ গড়িয়া উঠিয়াছিল যাহার মধ্যে প্রত্যেক শাখা সঙ্ঘের সবাতন্ত্র্য ও কাৰ্যশক্তি অব্যাহত ছিল—অথচ সকলে মিলিয়া একটা বিরাট কার্য পরিচালনা সম্ভবপর হইয়াছিল। শ্রীমান সভাষচন্দ্র বসার হদয় আতের দঃখে স্বভাবতঃই বিগলিত হয়। তিনিই স্বেচ্ছায় প্রথমে বন্যাবিধস্ত স্থানে গিয়া অবস্থা স্বচক্ষে পরিদর্শন করেন। ডাঃ জে, এম, দাসগুপ্তও বহন বাথত্যিাগ করিয়া, বন্যাবিধস্ত অঞ্চলে কিছুকাল থাকিয়া সেবাসমিতি গঠন করেন। বগড়ার নিঃসবাথ কমী শ্ৰীষন্ত যতীন্দ্রনাথ রায়, নৌকার অভাবে কেরোসিন টিনের তৈরী নৌকায় চড়িয়া কয়েক মণ চাউল লইয়া বন্যাপীড়িতদের সাহায্যাথ অগ্রসর হন। বেঙ্গল কেমিক্যালের সপোরিনটেডেণ্ট খ্ৰীষন্তে সতীশচন্দ্র দাশগুপ্তও তাঁহার কারখানা হইতে বহন স্বেচ্ছাসেবক সংগ্ৰহ করিয়া বন্যাবিধক্ষেত অঞ্চলে গমন করেন। প্রায় দুইমাস পরে ঐযত সভাষচন্দ্র বস, দেশবন্ধ চিত্তরঞ্জন দাশের আহবানে রাজনৈতিক কাযে যোগ দিবার জন্য গেলে, ডাঃ ইন্দ্রনারায়ণ সেনগুপ্ত, তাঁহার কাৰ্যভার গ্রহণ