পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আমার মনে এই ভাব আরও দঢ় হইল, কেন না যে সব গ্রামের কথা বলিতেছি সেগুলি মোটেই রাজনৈতিক হিসাবে উন্নত নহে। এই অঞ্চল সাধারণতঃ অনন্নেত, গ্রামবাসীরা দরিদ্র, অশিক্ষিত, সরল-প্রকৃতি, এবং ভীর। ইহাদের অধিকাংশই মসলমান। “আমি বলিয়াছি যে পাঞ্জাবে গরু-কা-বাগের ব্যাপারে অসহযোগ জয়লাভ করিয়াছে। বাংলাদেশেও এই বন্যা সেবাকাষের ভিতর অসহযোগ আন্দোলন আরও একবার জয়লাভ করিল।” 酋* মিঃ সি, এফ, অ্যানড্রজে একাধিকবার বন্যাপীড়িত অঞ্চল পরিদর্শন করেন। তিনি সংবাদপত্রে এই বিষয়ে ৪টি প্রবন্ধ লিখেন। তাহা হইতে কয়েকটি অংশ উদ্ধত হইল। “আমরা সদেীঘ ভ্রমণপথে কয়েকটি গ্রামের মধ্য দিয়া গেলাম এবং সহজেই দেখিতে পাইলাম—বেঙ্গল রিলিফ কমিটির কমীরা কিরুপ প্রশংসনীয় কাষ" করিয়াছে। তাহারা গ্রামবাসীদের গহ পননির্মাণ করিয়া দিয়াছে। অধিকাংশ স্থলে তাহাদের সাহায্যেই এই গাহনিমাণ কাষ হইয়াছে। এই ভ্রমণকালে, তাহাদের প্রচেষ্টা ষে কতদর পর্যন্ত বিস্তৃত হইয়াছে, তাহাই দেখিয়া আমি বিস্মিত হইয়াছি। রেলওয়ে লাইন হইতে দরে নিভৃত গ্রামেও আমি গিয়াছি এবং সেখানেও তাহাদের সেবার হস্ত প্রসারিত হইতে দেখিয়াছি। কমীরা যেন সবত্রগামী, এবং তাহাদের কাজ যেমন সবলপ ব্যয়ে নিবাহিত হইয়াছে, তেমন ফলপ্রদও হইয়াছে। যতই ঐ সব কাজ আমি দেখিয়াছি, ততই আমার মনে উচ্চ ধারণা জমিয়াছে। বস্তুতঃ, একথা বলিলে অত্যুক্তি হইবে না যে, ডাঃ পি, সি, রায় এবং তাঁহার সহকারিবন্দ শ্রীষত দাশগুপ্ত, ডাঃ সেনগুপ্ত এবং অধ্যাপক এস, এন, সেনগুপ্তের উৎসাহ ও প্রেরণায় যে কাজ হইয়াছে, তাহা বতমান ভারতে মানবের দুঃখদ্যদশা দরে করিবার জন্য একটি সমহৎ প্রচেষ্টা। "স্বেচ্ছাসেবকদের যে অভিজ্ঞতা হইয়াছে, তাহাও অপবর্গ। তাহাদের অনেকে আমাকে বলিয়াছে যে, মানবের দদশা ও সহিষ্ণতাশক্তির যে জ্ঞান তাহারা লাভ করিয়াছে, তাহার ফলে তাহাদের জীবনের আদশই পরিবতিত হইয়া গিয়াছে। গভীর বিপদের মধ্যেও গ্রামবাসীরা যে সন্তোষ ও সহিষ্ণতার পরিচয় দিয়াছে, স্বেচ্ছাসেবকরা আমার নিকট শতমুখে তাহার প্রশংসা করিয়াছে। “সাতাহারে বেঙ্গল রিলিফ কমিটির প্রধান কম কেন্দ্রে তাঁহাদের কাযপদ্ধতি আমি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করিয়াছি এবং তাহা যেভাবে পরিচালিত হইতেছে তাহা দেখিয়া আমি চমৎকৃত হইয়াছি। ইহা ঠিক যেন কোন ব্যবসায়ী ফামের প্রধান আফিস। কাগজপত্র যথারীতি রাখা হয় এবং হিসাব নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা হয়। আমার নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ফলে আমি সাধারণকে নিশ্চিতরাপে জানাইতে পারি ষে, সাহায্য কাষের জন্য যে অর্থ দান করা হইয়াছে, তাহার একটি পয়সাও অপব্যয় হয় নাই। সাহায্য বিতরণ ও পরিদর্শন প্রভৃতির জন্যও যতদর সম্ভব কম ব্যয় করা হইয়াছে যে অর্থ সংগহীত হইয়াছে, তাহার কিছমাত্র অপব্যয় হইবার আশঙ্কা নাই।......ঐ অঞ্চলে যত লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হইয়াছে, তাঁহাদের সকলেরই বিশ্বাস যে, এই নতন রেলওয়ে বাঁধের জন্য দেশের স্বাভাবিক জল-নিকাশের পথ রন্ধ হইয়াছে। ইহা স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে রাজসাহী জেলার আলাই-পাতিসার অঞ্চলে প্রায় একমাসকাল জল দাঁড়াইয়াছিল এবং ঐ সময়ের মধ্যেই ঐ অঞ্চলের সমস্ত ফসল নষ্ট হইয়া গিয়াছিল। “এই প্রবন্ধ শেষ করিবার পবে, কলিকাতাস্থিত বেঙ্গল রিলিফ কমিটির গঠনকতাগণ এবং বন্যাবিধন্তে অঞ্চলের কমিগণ সকলকেই আমি প্রশংসা ও সাধবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। ইহাদের মধ্যে অনেকে বন্যার প্রথম হইতে এই অক্টোবর মাস পর্যন্ত ক্ৰমাগত অক্লান্তভাবে