পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাজ করিতেছেন। তাঁহাদের পরিশ্রম কাজের বিস্তৃতির সঙ্গে ক্রমেই বাড়িতেছে। গ্রামে গ্রামে ঘরিয়া অতিরিক্ত পরিশ্রমে এবং উপযুক্ত আহায্য ও বিশ্রামের অভাবে অনেক কমী অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছেন। সাহায্যকেন্দুের হাসপাতালে এই সব কমীদের চিকিৎসা করা হইয়াছে এবং সস্থ হইয়াই প্রশংসনীয় সাহসের সহিত তাঁহারা পনরায় কমে যোগ দিয়াছেন।” বতমানকালে যতদর স্মরণ হয়, এরপ ভীষণ বন্যা ইতিপকে আর হয় নাই। ছয় সাত বৎসর পবে ইহার বিবরণ লিপিবদ্ধ হইয়াছে। এই বৎসরের (১৯৩১) সেপ্টেম্বর মাসেও আর একটি প্রবল বন্যা উত্তর ও পাব বঙ্গের বহুলাংশ বিধস্ত করিয়াছে। ইহা ভীষণতা, ধনংসের পরিমাণ এবং বিস্তৃতিতে পাবের সমস্ত বন্যাকে অতিক্ৰম করিয়াছে। হিমশিলার মত ইহা সম্মুখে যাহা পাইয়াছে, সমস্তই ভাসাইয়া লইয়া গিয়াছে। অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা ১৯২২ সালের বন্যা সাহায্য কাষে একজন প্রধান কমী ছিলেন। “বাংলার বন্যা ও তাহা নিবারণের উপায়” নামক একটি প্রবন্ধের মুখবন্ধে তিনি বলিয়াছেন – “কয়েক বৎসর পাবে বাংলাদেশে প্রবল বন্যা হইয়া গিয়াছে। গত বৎসরেও আর একটি বন্যা হইয়াছে। "সংবাদপত্রের বিবরণে দেখা যায়, ব্রহমপত্র নদীর গভে প্রায় ২৫ হাজার বগ মাইল স্থান গত বৎসর (১৯৩১) জীষণ বন্যায় বিধস্ত হইয়াছিল। স্মরণীয় কালের মধ্যে এরপে বন্যা এদেশে আর হয় নাই। এই অঞ্চলে লোকবসতির পরিমাণ প্রতি বগ মাইলে প্রায় ৮ শত। সুতরাং ধরিয়া লওয়া যাইতে পারে যে, বন্যায় প্রায় বিশ লক্ষ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে এবং প্রায় ৪ লক্ষ গহ বিধস্ত হইয়াছে। লেখকের বন্যা সম্বন্ধে যে অভিজ্ঞতা আছে (তাঁহার বাড়ী বন্যাপীড়িত অঞ্চলে) এবং সংবাদপত্রে যে বিবরণ বাহির হইয়াছে, তাহা হইতে অনুমান করা যাইতে পারে এই বন্যায় বাংলাদেশের ৮ কোটী হইতে ১o কোটী টাকা পষতি ক্ষতি হইয়াছে। বাংলাদেশের প্রত্যেক বাড়ীর মুল্য গড়ে ২oo শত হইতে ২৫o শত টাকা ধরিয়া এই হিসাব করা হইতেছে। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়ে বেশী হইবারই সম্ভাবনা।” (মডার্ণ রিভিউ, ফেব্রুয়ারী, ১৯৩২)। t আমি পনবার বন্যাপীড়িতদের সাহায্য কাষের জন্য আহত হইলাম এবং সঙ্কটত্রাণ সমিতি ঐ কাষের ভার গ্রহণ করিল। পাব পাব বারের ন্যায় এবারও আমাদের সাহায্যের আবেদনে লোকে সাড়া দিল। কিন্তু ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দা এবং অর্থাভাবের জন্য, লোকের সহদেয়তা সত্ত্বেও পাবের মত অথ পাওয়া গেল না। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাইতেছি যে, খলনা দভিক্ষ, উত্তরবঙ্গের বন্যা, এবং বর্তমান বন্যা—সকল সময়েই ইউরোপীয় মিশনারীদের নিকট হইতে আমি অথসাহায্য ও সহানুভূতি লাভ করিয়াছি। তাঁহাদের মধ্যে কেহ কেহ নিজেরা অথ্য সংগ্ৰহ করিয়া আমাকে দিয়াছেন। কেহ কেহ স্বচক্ষে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করিবার জন্য বন্যাপীড়িত অঞ্চলে গিয়াছেন এবং সংবাদপত্রে তাঁহাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করিতে বিধা করেন নাই। এবারও বিজ্ঞান কলেজের গহে সঙ্কটরাল সমিতির কাযালয় খোলা হইয়াছিল এবং সৌভাগ্যক্ৰমে শ্রীষত সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত, পঞ্চানন বস, ক্ষিতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত প্রভৃতির মত কমীদের সাহায্য আমি পাইয়াছিলাম। ই হারা নিজেদের সবাস্থ্যের ক্ষতি করিয়াও প্রভাত হইতে রাত্রি বিপ্রহর পর্যন্ত কাষ" করিতেন। প্রধানতঃ কাঁথি ও তমলুক হইতে আগত একদল স্বেচ্ছাসেবক আমাদের কাষে বিশেষরপে সাহায্য করিয়াছিলেন। বন্যার প্রথম অবস্থায় বিধৱস্ত অঞ্চলে কলেরা ও ম্যালেরিয়ার প্রাদাভাব হইয়াছিল। কিন্তু এইসমস্ত ত্যাগী কমীরা “অজ্ঞাত যোধার” মতই সে সব বিপদ গ্রাহ্য করেন নাই। মানবসেবার