পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেতাঙ্গের দায়িত্ব ভার মাথায় তুলিয়া লও; (ক) দভিক্ষ পীড়িতদের অন্ন দাও, রোগ পীড়া দর কর; শ্বেতাঙ্গদের দায়িত্ব ভার মাথায় তুলিয়া লও, রাজাদের তুচ্ছ শাসনের প্রয়োজন নাই। (ইংরাজী কবিতার অনুবাদ) ১৯২২ সালের উত্তর বঙ্গ বন্যা সম্বন্ধে মন্তব্য প্রকাশ করিতে গিয়া আমি বলিয়াছি,— “প্রজাদের আবেদন গ্রাহ্য করিয়া যদি রেলওয়ের সঙ্কীণ কালভার্টগুলি বড় সেতুতে পরিণত করা হইত, তবে এই বন্যা নিবারণ করা যাইত, অন্ততঃপক্ষে ইহার প্রকোপ বহল পরিমাণে হ্রাস করা যাইত।" বর্তমান বৎসরের বন্যাও এমন ভীষণ হইত না যদি পর্ব হইতে সতকতা অবলম্বন করিয়া জল নিকাশের পথ করা হইত। সম্প্রতি এই বিষয়ে একখানি সময়োপযোগী পুস্তিকা আমার হস্তগত হইয়াছে। লেখক বিষয়টি খাব যত্ন সহকারে অধ্যয়ন করিয়াছেন, সতরাং এবিষয়ে তাঁহার কথা বলিবার অধিকার আছে। আমি ঐ পুস্তিকা হইতে কিয়দংশ উদ্ধত করিতেছি। “১৯২২ সালের উত্তর বঙ্গের প্রবল বন্যা অনেকের চোখ খলিয়া দিয়াছিল। প্রসিদ্ধ ডাক্তার বেণ্টনী তাঁহার বৈজ্ঞানিক প্রতিভা বলে আবিস্কার করেন যে ই, বি, রেল পথ (বিশেষতঃ নন্তন সারা-সিরাজগঞ্জ রেল পথ) নিমাণের গরতর ক্রটীই ইহার কারণ। এই সমস্ত রেল পথে সঙ্কীণ কালভার্ট এবং ক্ষুদ্র অপরিসর সেতু থাকাতেই জল জমিয়া বন্যার পথ প্রশস্ত করে। এই বন্যারই আনুষঙ্গিক ফল ম্যালেরিয়া, কলেরা, এবং অন্যান্য মারাত্মক ব্যাধির প্রকোপ। কিন্তু এই বন্যা ও মহামারীর ফল ভোগ করে দরিদ্র ম্যক কৃষককুল, এই আত্মপ্রচার ও বড়মানুষীর যুগে যাহাদের অস্তিত্ব বিসদশ বলিয়াই বোধ হয়। সম্প্রতি প্রসিদ্ধ জলশক্তি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার স্যার উইলিয়াম উইলকক্স যে সব বস্তৃতা করিয়াছেন, তাহার বারা বাঁধ নিমাণ করিবার নীতির অসারতা প্রমাণিত হইয়াছে। তব্য, এই সমস্ত অপকাৰ্য নিবারণ করিবে কে ? কত দিনেই বা তাহা নিবারিত হইবে ? পক্ষান্তরে, ভবিষ্যৎ বন্যার বিরুদ্ধে সতকতার ব্যবস্থা বরংপ’ আরও বেশী বাঁধ নিমিত হওয়া আশচয্যের বিষয় নহে।” (খ) উত্তর ও পাব বঙ্গের সাহসী কৃষককুলই গবৰ্ণমেণ্টের প্রধান সহায় ও শক্তি বরপ,— কেননা ইহারাই পাট চাষের দ্বারা ঐশ্ববষ উৎপাদন করে এবং ইহারাই আমদানী ব্রিটিশ বসর্জাত ও অন্যান্য পণ্য দ্রব্যের প্রধান ক্লেতা। গবৰ্ণমেণ্ট এই দরিদ্র ও অসহায়দের মশা মাছির মত ধবংস হইতে দিতেছেন। দরিদ্র ম্যক রায়তেরা যে ক্ষতি সহ্য করিয়াছে, তাহা অপরিমেয়। অনেক স্থলে তাহাদের গোমহিষাদি পশম এবং বাড়ী ঘর বন্যায় ভাসিয়া গিয়াছে। ভারতগবণমেণ্ট সমস্ত পাট শলকই নিজেরা গ্রহণ করেন এবং গত কয়েক বৎসরে তাঁহারা প্রায় ৪o ॥৫o (ক) আমি যখন এই অংশের প্রফে দেখিতেছিলাম, তখন (১১ ॥৬ ॥৩২) স্যার স্যাময়েল হোর সিভিল সাভিসের যে গণগান করিয়াছেন, তাহা পড়িয়া কৌতুক বোধ করিলাম। প্রত্যুত্তর স্বরপে আমার বহির এই অংশ তাঁহাকে উপহার দিতে ইচ্ছা হইতেছে। এই আত্মগারমা কাঁতনের প্রহসন কবে শেষ হইবে ? (*) The Bengal flood, 1931—by Sailendra Nath Banerjee, Member, Board of Directors, Central Co-operative Anti-Malaria Society Ltd., • pp. 3-4.