পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিগত ইয়োরোপীয় বন্ধের সময়, আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত যুবকেরা অনেক সময়ে কাজের যোগ্য বলিয়া গণ্য হইত না, সহজবধি সাধারণ ব্যবসায়দিগকে ডাকিয়া কাজ চালাইতে হইত। s যন্ধের সময়ে বিভিন্ন বিভাগের কায পরিচালনার জন্য আমেরিকা এডিসনের নীতি অনসরণ করিয়া কাৰ্যক্ষম ব্যক্তিদিগকেই নিবাচিত করিয়াছিল। আমাদের বিশ্বাস যে তাহারা শ্রেষ্ঠ লোকদেরই বাছিয়া লইয়াছিল। মিঃ ড্যানিয়েল উইলিয়াড সৈন্য ও রসদ চালান বিভাগের (ট্রান্সপোটেশান) কতা ছিলেন। ইনি এখন আমেরিকার অন্যতম বাহৎ রেলওয়ে, বালটিমোর এবং ওহিও রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট। তিনি রেলওয়ে শ্রমিক রাপে জীবন আরম্ভ করেন। পরে এঞ্জিনচালক হন এবং কমে ক্ৰমে বর্তমান পদ লাভ করিয়াছেন। ব্যাকার মিঃ ভ্যানডারলিপ আমেরিকায় ‘বটিশযন্ধ-ঋণ-কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তিনি ট্রেজারাঁ-সেক্রেটারীর সহকারী নিযুক্ত হন। জগতের মধ্যে ষষ্ঠ বহৎ ব্যাকের তিনি প্রধান কতা। তিনি সংবাদপত্রের রিপোর্টার রপে প্রথম জীবনে কাজ আরম্ভ করেন। মিঃ রোজেন-ওয়ালড যন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যক্রয় বিভাগের কতা ছিলেন। তিন্থি প্রথম জীবনে সংবাদবাহক বালক ভূত্য ছিলেন। তিনি এখন শিকাগোর একটি বড় মাল সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ফামের কতা এবং তাঁহার আয় বাষিক প্রায় ১০ লক্ষ ডলার। ব্যাকার মিঃ এইচ. পি. ডেভিসন যন্ধের কাজে সহায়তা করিবার জন্য ব্যাকারদের একটি কমিটি গঠন করেন। তাঁহার বিশ বৎসর বয়সেই তিনি ২ লক্ষ পাউন্ড উপাজন করেন, সতরাং বিদ্যালয়ে শিক্ষালাভের সময় পান নাই। (Hankin: The Mental Limitations of the Expert—pp. 55–56.) লড রন্ডা এবং স্যার এরিক গেডিস ব্যবসায়ীরপে গত যন্ধের সময় অনেক কাজ করিয়াছেন। কিন্তু শ্রমিক গবৰ্ণমেণ্টের মন্ত্রিসভাতেই ইহার চড়ান্ত দেখা গিয়াছে। “গতকল্য আমরা নতন শ্রমিক মন্ত্রিসভার সদস্যগণের একখানি ফটোগ্রাফ প্রকাশ করিয়াছি। ১৯ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র পাঁচ জন কোন সাধারণ বিদ্যালয় বা বিশববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করিয়াছিলেন এবং দুইজন পরীক্ষা দিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধি লাভ করেন। যে যুগে ইটন ও হ্যারো স্কুল হইতে মন্ত্রিসভার সদস্য লওয়া হইত, মনে হয়, সে যুগ অতীত হইয়াছে। ইংলন্ডের ৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে কেবল একজন স্কুলে ও বিশববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেন এবং বর্তমান ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্যগণের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশেরই কোন কলিকাতা সামাজিক ক্লাবের সদস্য হইবারও যোগ্যতা নাই। ইংলন্ডে এখন আর কেবলমাত্র পরাতন পন্থায় উচ্চ পদ লাভ হয় না। মিঃ জোসেফ চেম্বারলেন, মিঃ লয়েড জজ মিঃ বোনার ল এবং মিঃ র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড পরাতন রীতির ব্যতিক্ৰম করিয়াছেন। বিশ্ববিদ্যালয় হইতে এখন আর উচ্চতম যোগ্যতা বিশিষ্ট লোক বাহির হইতেছে না, লোকের মনে যাহাতে এই বিশ্বাস না জন্মে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে তবিষয়ে অবহিত হওয়া আবশ্যক।” (স্টেটসম্যান, ২৯শে জন, ১৯২১) o মিঃ র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড তাঁহার প্রথম জীবনের কিছু বিবরণ দিয়াছেন। তিনি বলেন—“সাইক্লিষ্টদের ভ্রমণ ক্লাবে আমি প্রথমে একটা কাজ পাই। সেখানে খামের উপরে নাম ও ঠিকানা লিখিতে হইত, সপ্তাহে দশ শিলিং করিয়া বেতন পাইতাম। কিন্তু ঐ কাজ মাত্র কিছুদিনের জন্য ছিল। মাথায় ঋণের বোঝা লইয়া কপদক শান্য বেকার অবস্থায় লন্ডনের রাস্তায় ঘরিয়া বেড়ানোর অভিজ্ঞতাও আমার আছে।” মিঃ ম্যাকডোনাল্ডের জ্ঞানাজনের পাহা ছিল এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করিবার জন্য তিনি বা হইয়াছিলেন। কিন্তু দারিদ্রের জন্য ফাঁহার মনের ইচ্ছা পণ হয় নাই।