পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গত ৪০ বৎসর ধরিয়া আমি বাংলার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যন্ত আছি। এই সব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত যুবকদের অযোগ্যতা দেখিয়া আমি মনে গভীর আঘাত পাইয়াছি। পথিবীর শ্রেষ্ঠ পর্ষ ও নারীদের যদি একটা হিসাব লওয়া যায়, তবে দেখা যাইবে, লাভ করেন নাহ। স্মরণ রাখিতে হইবে যে, আনডু কানেগাঁ, হেনরী ফোড, টমাস এডিসন, লর্ড কেবল, র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড, টমাস লিপটন প্রভৃতির মত লোক যদিও কলেজে শিক্ষিত হন নাই, . তবুও তাঁহাদের কালচার’ বা সংস্কৃতির অভাব ছিল না। কঠোর জীবন সংগ্রামে লিপ্ত থাকিয়া যখন তাঁহারা ভবিষ্যৎ সাফল্যের গোড়া পত্তন করিতেছিলেন, ঠিক সেই সময়ে স্বীয় চেষ্টায় জ্ঞান উপাজনের সযোগও তাঁহারা ত্যাগ করেন নাই। - যাহারা বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্রনীতিবিৎ রপে প্রসিধি লাভ করিয়াছেন, অথচ সমাজের নিম্নস্তরে যাঁহাদের জন্ম অথবা সামান্য শ্রমিকরপে জীবন আরম্ভ করিয়াছিলেন, এরপ বহল লোকের দন্টান্ত আমি প্রায়ই উল্লেখ করিয়া থাকি। এই সমস্ত লোক সম্পণে নিজের চেষ্টায় কৃতিত্বলাভ করেন। আরও কয়েকজন প্রসিদ্ধ লোকের দন্টান্ত দেওয়া যাইতে পারে। ইহারা ব্যবসায় বধির সহিত রাজনীতি জ্ঞান অথবা বৈজ্ঞানিক প্রতিভার সমন্বয় সাধন করিয়াছিলেন। গোসেন এবং লাবক (সড আভেবেরী) ব্যাকার ছিলেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে গোসেন ছিলেন রাজনীতিক এবং লাবক রাজনীতিক ও বৈজ্ঞানিক উভয়ই ছিলেন। একই ব্যক্তির মধ্যে বহন গণের এরূপ সমন্বয় দলভ এবং উহা রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়ও নহে। বতমান সমাজ শ্রমবিভাগের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বরাবর বলিয়া আসিয়াছি যে, বাংলার আর্থিক দগতির একটা প্রধান কারণ এই যে, প্রত্যেক যুবক এবং তাহার অভিভাবক মনে করে, যদি সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাকৰ্ণ না পায়, তবে তাহার জীবন ব্যথ হইবে। (১৪) যদি কেবলমাত্র সবাপেক্ষা প্রতিভাশালী এবং বিদ্যানরোগী ছেলেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানো হইত এবং অন্য ছেলেরা স্কুলের পড়া শেষ করিবার পরই ব্যবসা বাণিজ্য প্রভৃতিতে শিক্ষানবিশী আরম্ভ করিত, তবে বাংলায় এই আর্থিক দগতি নিবারণ করা যাইতে পারিত। “যাহাদের প্রতিভা আছে, রাষ্ট্র কেবল তাহাদের জন্যই শিক্ষার ব্যয় বহন করিয়া থাকে। যাহাদের সে যোগ্যতা নাই, তাহাদের জন্য অন্য নানা পথ আছে। “গণতন্ত্রের আদশ অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালিত বিদ্যালয় সকলের জন্যই; একই আধারে মণিমাণিক্য ও জঞ্জাল উভয়ই এক সঙ্গে থাকিতে পারে। কিন্তু আমি এই নীতির বিরাদ্ধবাদী। মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় মনে করিত স্কুল তাহাদেরই জন্য। সুতরাং ইহার প্রতি তাহাদের কোন সম্মান বোধ ছিল না। তাহারা বিদ্যালয়ের নিকট হইতে যতদর সম্ভব প্রশ্ৰয়ই চাহিত। উদ্দেশ্য তাড়াতাড়ি কোন উপাধিলাভ অথবা যে কোন প্রকারে উচ্চশ্রেণীতে প্রমোশন।”—মসোলিনী, আত্মচরিত। -استیاس-اس-سسات==۹ (১৪) সা-অাদত কলেজের অধ্যক্ষ তাঁহাদের কলেজ ম্যাগাজিনে “নতুবা আমার জীবন ব্যথা হুইবে” এই শীর্ষক একটি নিৰখে বিষয়টি সন্দেররাপে বর্ণনা করিয়াছেন।