পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিষয় শিখিবার জন্য বাধ্য করা উচিত হয় নাই। উহা একটি মারাত্মক ভুল হইয়াছিল এবং উহার একমাত্র কারণ সরকারী চাকরী পাইবার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। ১৮৬০ সালে জেকোস্লোভাকিয়াতে শিক্ষিত সমাজের মানসিক অবস্থা অনেকটা এইরুপ ছিল। “ম্যাসারিকও একটি প্রসিদ্ধ জামান রচনাভঙ্গী শিক্ষা করিয়াছিলেন। তিনি যে এত ಕ್ಹಳ್ಲ್ಲಿಸ್ಟ್ಗಳ್ಲಕ್ಹಳ್ಲ! বিরধি বলিরা মনে হইতে পারে, কেন না, অন্য আবার জেক জাতীয় ভাব তাঁহার মধ্যে বাড়িয়া । কিন্তু, ইহার মধ্যে বস্তুতঃ বিরোধ কিছুই নাই। জেক ভাষা সাহিত্যের ভাষা ব্যবহৃত হইত না। কেবলমাত্র সাধারণ কথাবাতায়, বিশেষতঃ দরিদ্র ও অশিক্ষিতদের মধ্যে এই ভাষার ব্যবসথা ছিল। ম্যাসারিককে যদি শিক্ষিত সমাজের নিকট কোন কথা নিবেদন করিতে হইত, তবে জামাণ ভাষার আশ্রয় লইতে হইত,— সমগ্র বোহিমিয়া ও মোরেভিয়া দেশে এই জামান ভাষা প্রচলিত ছিল। অনেকেই তখন ভাবিতে পারেন নাই যে, উত্তরকালে এই জামান ভাষা শিক্ষার ফলেই, জেক জাতি তাহাদের আধনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় সক্ষম হইয়াছিল।” (প্রেসিডেন্ট ম্যাসারিক— ) মিঃ ওয়েস্ট তাঁহার Bilingualism গ্রন্থে (বিশেষভাবে বাংলাদেশ সম্বন্ধে) এই বিষয়টি বিস্তৃতভাবে আলোচনা করিয়াছেন। তাহা হইতে কিয়দংশ উদ্ধত হইল। “যে দেশের বিদ্যালয়ে দুইটি ভাষা শিখিতে হয় এবং যে দেশে মাত্র একটি ভাষা শিখিতে হয়, এতদুভয়ের মধ্যে পাথক্য আছে। শেষোন্ত দেশে, যে অলপসংখ্যক ছেলেমেয়ের ভাষা শিক্ষার প্রতিভা আছে, অথবা ঐশ্বয ও অবসর আছে, কেবল তাহারাই স্বেচ্ছায় কোন বিদেশী ভাষা শিখে; পক্ষান্তরে, প্রথমোক্ত দেশে (বৈভাষিক দেশে) প্রত্যেক সাধারণ ধধিসম্পন্ন, এমন কি তার চেয়েও নিকৃষ্ট ছেলেমেয়েকে বাধ্য হইয়া একটি বিদেশী ভাষা শিখিতে হয়। যাহাদের ভাষা শিক্ষার প্রতিভা আছে, তাহাদিগকেও বিদেশী ভাষা আয়ত্ত করিতে যথেষ্ট পরিশ্রম ও শক্তি ব্যয় করিতে হয়। সতরাং সাধারণ বধিসম্পন্ন এবং ততোধিক নিকৃষ্ট ছেলে মেয়েদের পক্ষে বিদেশী ভাষা শিক্ষার চেষ্টা কি সম্পণে নিসফল হইবে না ? বধিমান ছাত্রের সময় ও অবসর জটে, কিন্তু সাধারণ ছাত্রের সে অবসর কোথায়? যদিই বা কোন সাধারণ ছাত্র বিদেশী ভাষা আয়ত্ত করিতে সমর্থ হয়, তাহা হইলে অন্য সমস্ত বিষয় শিক্ষা করিবার পর্যাপ্ত সময় সে পায় না। সতরাং তাহাকে ভাষা শিক্ষা এবং জ্ঞানলাভ এই দুইটির মধ্যে একটিকে বাছিয়া লইতে হয়। হয় তাহাকে ভাষায় দরিদ্র হইতে হইবে, অথবা তাহাকে সাধারণ শিক্ষা বিষয়ে নিকৃষ্ট হইতে হইবে। “ইংরাজী বলা, শোনা বা লেখা তাহাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় নহে, কেবলমাত্র ইংরাজী পড়িতে পারাই তাহদের পক্ষে দরকার। কেন না ইংরাজী পড়িতে, শিখিলে, ঐ ভাষায় সঞ্চিত বিরাট জ্ঞানভাণ্ডারে তাহারা প্রবেশ করিতে পারে।” মিঃ এফ. জে. মোনাহান বাংলার দুইটি বিভাগে কমিশনারের কায করিয়াছেন। বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির সঙ্গে তাঁহার ঘনিষ্ঠ পরিচয় এবং গভীর জ্ঞান আছে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিশনের সম্মখে সাক্ষ্য দিতে গিয়া তিনি বলিয়াছেন : “আমার মনে হয়, যে সব ইংরাজ স্কুল কলেজে ইংরাজী ভাষাকে শিক্ষার বাহন রাখিবার পক্ষপাতী তাঁহাদের মধ্যে অনেকে সামাজ্যবাদের ভাবের বারা প্রভাবান্বিত। ইংরাজী ভাষাকে .সাম্রাজ্যের মধ্যে ঐক্যসত্ররপে তাঁহারা গণ্য করেন;—এই ভাষাই ভারতের সবার সাধারণ ভাষা হইয়া উঠিবে, এমন সবপ্নও তাঁহারা দেখেন।