পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"জ্ঞানানশীলনের উদ্দেশ্যই জ্ঞানলাভ। মানুষের মনের গঠন এমনই যে, জ্ঞানলাভই জ্ঞানের পরস্কাররপে গণ্য হইতে পারে।” বহর প্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক ও ব্যবসায়ীর উক্তি হইতে বঝো যাইবে যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাপ্রণালীর সংস্কারের প্রয়োজন কত গরে্তর। এডিসন বলিয়াছেন,— “সাধারণ কলেজ গ্রাজয়েটদের জন্য এক পয়সাও দিতে আমি প্রস্তুত নহি ।” “ষে কেবল ইতিহাসের পাতার কয়েকটি তারিখ মুখস্থ করিয়া রাখিয়াছে, সে শিক্ষিত ব্যক্তি নহে; যে নিজে কোন কাজ সসম্পন্ন করিতে পারে, সেই শিক্ষিত ব্যক্তি। যতই কলেজের উপাধি লাভ করকে না কেন, যে চিন্তা করিতে পারে না, তাহাকে শিক্ষিত ব্যক্তি বলা যায় না।" (হেনরী ফোড") সম্প্রতি ল্যাক্সি প্রায় এইরুপ ভাষাতেই অনরপে অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন – “কারখানার প্রণালীতে শিক্ষাদানের একটা রীতি আছে। এই উপায়ে হাজারে হাজারে শিক্ষিত ব্যক্তি' তৈরী করা যাইতে পারে। কিন্তু চিন্তাশক্তিসম্পন্ন মন তৈরী করাই যদি আমাদের লক্ষ্য হয়, তবে এ উপায় বিপজ্জনক।” এই “দলে দলে গ্রাজয়েট সন্টি" সম্বন্ধে মাসোলিনী বলিয়াছেন – “শিক্ষার জন্য যোগ্য ছাত্র নিবাচন এবং বত্তি শিক্ষার ভাল ব্যবস্থা আমাদের নাই। আমাদের শিক্ষার ঘানি হইতে একই ধরণের ছাত্র দলে দলে বাহির হইতেছে এবং তাহারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারী চাকরী গ্রহণ করিয়া জীবন শেষ করিতেছে। এই সব ব্যক্তিদের স্বারা সরকারী চাকরীর আদশ পর্যন্ত নীচু হইয়া পড়ে। আইন ও চিকিৎসা নামধেয় তথাকথিত ‘স্বাধীন ব্যবসায়ে বিশ্ববিদ্যালয় আর কতকগুলি পর্তুল তৈরী করে।” “জাতীয় জীবনের উপর যাহার এমন অসাধারণ প্রভাব সেই শিক্ষাব্যবসথাকে নতন করিয়া গড়িবার সময় আসিয়াছে।" (আত্মজীবনী) "গ্রন্থ-সংগ্রহই এ যুগের যথার্থ বিশববিদ্যালয়”—কালাইল তাঁহার The Hero as Man of Letters নামক নিবন্ধে এই কথা বলিয়াছেন। মিঃ এইচ, জি, ওয়েলস এই কথাটিরই (১১) বিস্তৃত ব্যাখ্যা করিয়া বলিয়াছেন – "অধ্যাপকের বস্তৃতা নয়, উৎকৃষ্ট গ্রন্থসমহকেই শিক্ষার ভিত্তি রপে গ্রহণ করিলে, তাহার ফল বহদারপ্রসারণী হইয়া পড়ে। নিদিষ্ট সময়ে নিদিষ্ট স্থানে শিক্ষালাভ করিবার পরাতন প্রথার দাসত্ব লোপ পায়। নিদিষ্ট কোন ঘরে যাইয়া নিদিষ্ট কোন সময়ে অধ্যাপকের শ্রমুখ হইতে অমৃতময় বাণী শনিবার প্রয়োজন ছাত্রদের আর থাকে না। যে যবেক কেরিজের ট্রিনিটি কলেজের সমসজিত কক্ষে বেলা ১১টার সময় পড়ে এবং যে যবেক সমস্ত দিন কাজ করিয়া রাত্রি ১১টার সময় গ্লাসগো সহরে কোন ক্ষুদ্র গহে বসিয়া পড়ে— তাহাদের মধ্যে আর কোন প্রভেদ থাকে না।” -اجتماعاجمعصضیخ* (১৯) কালাইল এতদর পর্যন্ত বলিয়াছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় উঠাইয়া দিলেও চলে। তিনি “বিশ্ববিদ্যালয়সমহ বৰ্তমান যাগের সন্টি—শ্রদ্ধার বস্তু। গ্রন্থ সংগ্রহ ইহার উপরে অশেষ প্রভাব বিস্তার করে। যে সময়ে কোন বই পাওয়া যাইত না, সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উদ্ভব হয়। তখনকার দিনে একখানি বইয়ের জন্য লোকে নিজের এক খণ্ড ভূ-সম্পত্তি পৰ্যন্ত দিতে বাধ্য হইত। সেই সময়ে কোন,জ্ঞানী ব্যক্তি যে ছাত্র সংগ্রহ করিয়া তাঁহাদিগকে শিক্ষাদান করিতে চেষ্টা করবেন, ইহার প্রয়োজন ছিল। আবেলাডের নিকট জ্ঞানলাভ করিতে হইলে, তাঁহার নিকট যাইতে 莺 সহস্ৰ সহস্র ছাত্র আবেলাড" এবং তাঁহার দাশনিক মতবাদ জন্য তাঁহার নিকটে !”