পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তুলে ব শ ষ স ক ল না দিলে নাম যায়।” ষ্টিভেনসন বলেন,—“পস্তকের এক হিসাবে প্রয়োজনীয়তা আছে বটে, কিন্তু তাহারা প্রাণহীন, অভিজ্ঞতা ও সাক্ষাৎ জীবনের কাছে কিছই নহে।” প্রেসিডেন্সি কলেজে ২৭ বৎসর ব্যাপী অধ্যাপনাকালে আমি বিশেষ করিয়া নিম্নতর শ্রেণীতেই অধ্যাপনার ভার গ্রহণ করিতাম। হাই স্কুল হইতে ছেলেরা যখন প্রথম কলেজে পড়িতে আসে, তখনই তাহাদের মন যথাথরপে শিক্ষাগ্রহণের উপযোগী থাকে। কুম্ভকার যেমন কাদার তাল হইতে ইচ্ছা মত মতি গড়ে—এই সময়ে ছেলেদের মনও তেমনি ইচ্ছা মত গড়িয়া তোলা যায়। আমি কোন নিদিষ্ট পাঠ্য গ্রন্থ ধরিয়া পড়াইতাম না। যদি সেসনের প্রথমে কোন ছাত্র আমাকে জিজ্ঞাসা করিত, কোন বহি পড়িতে হইবে—আমি উত্তর দিতাম, যদি কোন বহি কিনিয়া থাক, পোড়াইয়া ফেল এবং আমার বস্তৃতা অনসরণ কর।” বাজার চলতি কোন বই অপেক্ষা উচ্চশ্রেণীর কোন মৌলিক গ্রন্থ হইলে, আমি তাহা । পরামর্শ দিই। জুলাই, আগষ্ট, সেপ্টেম্বর সেসনের আরম্ভে এই তিনমাস-অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এই তিন মল পদার্থ এবং তজজাত মিশ্র পদার্থগুলির আলোচনা হয়। আমি আমার ছাত্রদিগকে রসায়নের ইতিহাস, অক্সিজেনের আবিস্কার, প্রিস্টলে, লাভোয়াসিয়ার এবং শীলের আবিস্কারকাহিনী এবং তাঁহাদের পরস্পরের কৃতিত্ব এই সব শিখাই, তারপর অকসাইডস অব নাইট্রোজেন, পরমাণতত্ত্ব প্রভৃতি বিশ্লেষণ করি এবং ডালটনের আবিস্কারকাহিনী বলি। এইরপে নব্য রসায়নী বিদ্যার প্রবতকদের সঙ্গে ছাত্রদের মনের যোগসন্ত্র স্থাপনের চেষ্টা করি। সংক্ষেপে আমি প্রথম হইতেই ছাত্রদের রসায়নজ্ঞানকে দঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করিতে চেষ্টা করি। কিন্তু আমি সভয়ে দেখি, অন্যান্য কলেজ ইতিমধ্যেই পাঠ্যগ্রন্থ অনেকখানি পড়াইয়া ফেলিয়াছেন, এমন কি পনরালোচনা চলিতেছে। এই প্রসঙ্গে, বতমানে কলেজে সাহিত্য ও বিজ্ঞান যে প্রণালীতে পড়ানো হয়, তাহার কথা স্বভাবতঃই আসিয়া পড়ে। কেবল ছাত্রেরা নয়, অধিকাংশ শিক্ষকও গতানুগতিক প্রথার দাস হইয়া পড়িয়াছেন এবং তাঁহারা কেবলমাত্র পাঠ্যপুস্তক গলিরই অনুসরণ করিয়া থাকেন। বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী আগাগোড়া দষিত হইয়া উঠিয়াছে। যদি কোন শিক্ষক পাঠ্য পুস্তকের বাহিরে গিয়া, নতন কোন কথা বলিতে চেষ্টা করেন, তবে ছাত্রেরা বিরক্ত ও অসহিক হইয়া উঠে। তাহারা প্রতিবাদ করিয়া বলে, “স্যার, আপনি বাহিরের কথা বলিতেছেন, আমরা এগুলি শনিয়া মন ভারাক্লান্ত করিব কেন ? পরীক্ষায় পাশ করার জন্য এগুলির প্রয়োজন নাই।” যদি পাঠ্যপুস্তকগুলিও ঠিক মত পড়া হইত, তাহা হইলেও আমি খসী হইতাম। কিন্তু কয়েক বৎসর হইল ব্যাপার আরও শোচনীয় হইয়া উঠিয়াছে। ছাত্রেরা পাঠ্যপুস্তকগলি পরিহার করিয়া তৎপরিবতে সংক্ষিপ্তসার, নোটবাক প্রভৃতি পড়িতেছে। (২০) (so) “Aids”, “Digests”, “Compendiums”, “One-day preparation Series", "Made easy Series”—এইগুলিই বেশী প্রিয়। ছাত্রেরা পরীক্ষার পবে ক্ষণে এই সব বটিকা সেবন করে। ১১২৮-২৯ সালের ভারতের শিক্ষার বিবরণে এডুকেশনাল কমিশনায় বলিতেছেন —“বোম্বাই D ছাত্রেরা পাঠ্যপুস্তক পড়িবার জন্য মাথা ঘামায় না, তাহারা তৎপরিবতে' বাজার চলতি সংক্ষিপ্তসার, নোটবক প্রভৃতি যখন করিয়াই সন্তুষ্ট হয় - কেলচার হইতে উন্মত)