পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আরও একটা কথা, যবকটি হয়ত বিদেশের কোন টেকনোলজিক্যাল ইনষ্টিটিউটে ব্যবহারিক জ্ঞান লাভ করিয়াছে। বিদ্যালয়ে অধীত বিদ্যার সঙ্গে হাতেকলমে ঐরাপ কিছ ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে শিল্পজাত তৈরী করিতে হইলে ঐ শিক্ষা বিশেষ কাজে আসে না। কোন কারখানায় প্রবেশ করিয়া, তাহার শিল্প প্রস্তুত প্রণালী অবগত হওয়া বড়ই কঠিন কাজ। ব্যবসায়ী ফাম প্রভৃতি জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের মত উদার নহে। যে সমস্ত গঢ় রহস্য তাহারা বহবৎসরের সাধনা ও পরিশ্রমের ফলে অবগত হইয়াছে, সেগুলি বাহিরের লোককে শিখাইবার জন্য তাহারা ব্যগ্র নহে। এমাসন বলেন, ব্যবসায়ীদের পরস্পরের মধ্যে বেশ ঈষার ভাব আছে। একজন রাসায়নিক একজন সত্রধরের নিকট তাহার ব্যবসায়ের গঢ় কথা বলিতে পারে, কিন্তু তাহার সমব্যবসায়ী আর একজন রাসায়নিককে কিছতেই তাহা বলিবে না। বিদেশে শিক্ষালাভাথ যে সব যবেককে পাঠানো হইয়াছে, তাহাদের মধ্যে অনেকেই সাফল্য লাভ করিতে পারে নাই। এমন কি কোন কোন প্রথম শ্রেণীর এম, এস-সি ডিগ্রীধারীরও এই দশা হইয়াছে। চীন দেশেও এইরুপ ভ্রান্ত ধারণার পরিণাম শোচনীয় হইয়াছে। একজন চিন্তাশীল লেখক কর্তৃক লিখিত চীন সম্প্রবন্ধীয় গ্রন্থ হইতে কিয়দংশ নিনে উদ্ধত করিতেছি। এ বিষয়ে আমাদের দেশের সঙ্গে চীনের অবস্থার আশ্চৰ্য সাদৃশ্য দন্ট হইবে। } “প্রণালী উপনিবেশ (স্টেটস সেটলমেণ্ট) এবং তাহার নিকটবতী অঞ্চলে চীনারা ব্যবসায়ে নহে, পণ্য উৎপাদনেও প্রাধান্য লাভ করিয়াছে। টিন শিল্পের কথাই ধরা যাক। এই সব স্থানে নিদিষ্ট আইন কানন আছে, করের হারও অত্যধিক নয়; এবং মামলা মোকদ্দমা নিপত্তিরও সব্যবস্থা আছে। এরপ ক্ষেত্রে চীনারা ব্যবসায়ে এবং পণ্য উৎপাদনে অন্য সমস্ত জাতিকে পরাস্ত করিয়াছে। “তৎসত্ত্বেও একথা সমরণ রাখিতে হইবে যে, বিদেশে এই সমস্ত স্থানে যে সমস্ত চীনা সাফল্য লাভ করিয়াছে, তাহারা খাব দরিদ্র অবস্থায় গিয়াছিল! এমন কি প্রথমতঃ কুলীর কাজ করিতেও গিয়াছিল। তারপর নিজেদের যোগ্যতা বলে তাহারা উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করিয়াছে। এই সব সন্ধানে তাহাদের অসংখ্য জাতিকুটবের কবল হইতে তাহারা অনেকটা মন্ত; সতরাং সহজে টাকা খাটাইতে পারে। শীঘ্রই কিছু অর্থ সঞ্চয় করিয়া ছোটখাট ঠিকা কাজ নেয়। তাহারা তাহদের অধীনস্থ লোকদের সুনিষ্ঠ সংশ্রবে থাকিয়া বঝিতে পারে, কাহারা যোগ্য ফোরম্যান, কাহাদের উপর বেশী দায়িত্ব দেওয়া যায়, কাহারা কাজ করিতে ভয় পায়, কাহাদের সাহস বেশী ইত্যাদি। এইভাবে গোড়া হইতে কাজ করিতে করিতে তাহারা তাহাদের ব্যবসা গড়িয়া তোলে। হয়ত তাহারা ইংরাজী বা ডাচ ভাষাও কিছু কিছু শিখিয়া ফেলে এবং তাহার বারা ব্যবসায়ের সংবিধা হয়। এইভাবে সদীর্ঘ কালের চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের বারা তাহারা ব্যবসায় চালাইবার উপযোগী এমন কতকগুলি বিধিব্যবস্থা গড়িয়া তোলে, যাহার ফলে কোন নিবাচিত প্রেসিডেন্ট বা ম্যানেজার সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করিতে পারে।” (বেকার ঃ ১৭৯-৮০ পঃ) “চীনা মলধনীরা সাংহাই, ক্যাপ্টন প্রভৃতি স্থানে যে সমস্ত কারখানা স্থাপন করিয়াছে, সেগুলির সঙ্গে পাবোন্ত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলির বিস্তর প্রভেদ। এই সমস্ত মলধনীরা তাহাঙ্গের ছেলেদের বিদেশে শিক্ষার্থ প্রেরণ করে। ছেলেরা সেখানে ব্যবসা পরিচালনা প্রণালী ও শিল্পবিদ্যা শিক্ষা করে। তাহারা স্পষ্ট দেখিতে পায়, চীন হইতে যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচা, মাল বিদেশে রপ্তানী করা এবং বিদেশ হইতে শিল্পজাতরাপে ঐগুলি DDBB BBB BB BBBDDDBB BB D DBB BBB BB DS BB BBBB