পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পারে যে, বিদেশী শব্লেক’ এবং বিদেশী শ্রমিকদের অতিরিক্ত মঙ্গরী বাদ দিয়া যদি মাত্র রপ্তানীর খরচা বাঁচানো যায়, তবে ষথেষ্ট লাভ হইতে পারে। পিতাকে এই সব কথা তাহারা সহজেই বুঝাইয়া দেয়। তাহারা এ কথাও বলে যে, তাহারা ব্যবসার জানে। তাহারা কি ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যায় গ্রাজয়েট হয় নাই ? দুই বৎসর ফ্যাক্টরীতে কাজ করে নাই ? পিতা সন্তুষ্ট হইয়া কারখানা স্থাপন করিবার জন্য মুলধন দেন। কারখানা তৈরীর কাজ আরম্ভ হয়। ঠিকাদারদের লইয়া গোলমাল হয়, কাজে বিলম্বব হয়, ভাল কাজ হয় না এবং সেরাপ অবস্থায় কাজ অগ্রাহ্য করিলে ঠিকাদারেরা ধর্মঘট করিয়া কাজ বন্ধ করে। কারখানা তৈরী করিতে বরাদের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশী পড়ে, এরপে প্রায়ই ঘটিয়া থাকে। পিতা বিরক্ত হইয়া উঠেন। তব তিনি কারখানা তৈরী শেষ করিতে আরও টাকা দেন। কারখানা তৈরী হইলে, আসল কাজ আরম্ভ হয়। তখন কলকব্জার গোলযোগ ঘটিতে থাকে, নন্তন কলকজায় প্রথম প্রথম এমন একটু আধট গোলযোগ হয়ই। লোকে নানা কথা বলিতে থাকে। কাজ চালাইবার জন্য যথেষ্ট মলধন পাওয়া যায় না। চীনা কারখানাগুলিতে মলধন সম্বন্ধে বরাদ প্রায়ই খুব কম করিয়া ধরা হয়। আমেরিকা অপেক্ষা চীনে মলধন উঠিয়া আসিতে দেরী লাগে, আদায় হইতে বিলম্বব হয়। বকেয়া বাকী আদায় হওয়াও বেশী কঠিন। ইহার উপরে, ফোরম্যানদের মধ্যে বিবাদের ফলে যদি ধর্মঘট হয়, তবে এই সব অনভিজ্ঞ তরুণ কমাধ্যক্ষেরা নিশ্চয়ই কাজ ছাড়িয়া দিবে। তাহাদের মুখ দেখানো ভার’ হইয়া পড়ে, তাহাদের পরিবারেরও সেই অবস্থা। তাহাদের ' অন্য নানা সযোগ আছে। তাহারা সরকারী কাজের জন্য চেষ্টা করিতে থাকে। আর একটা পরিত্যন্ত শান্য কারখানার সংখ্যা বধি হয়।

  • “কিন্তু যদি এই সব যবেক নিঃসবল অবস্থায় কাজ আরম্ভ করিয়া কারখানা স্থাপন করিত, নিজের উপাজিত এবং অতিকস্টে সঞ্চিত অথ ব্যবসায়ে খাটাইত, মালমশলা, ঠিকাদার, মজর প্রভৃতির সম্বন্ধে যদি তাহাদের বহন বৎসরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকিত, তাহা হইলে তাহদের কাজে অসুবিধা ও গোলযোগ কম ঘটিত, ব্যবসায়ের উপরও তাহাদের এমন প্রাণের মায়া জন্মিত যে, উহাকে রক্ষা করিবার জন্য সব প্রকার ত্যাগস্বীকার, সব প্রকার উপায় অবলম্বন করিতে রটা করিত না। প্রথম আঘাতেই বিচলিত হইয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনের মত কাজ ছাড়িয়া পলাইত না। প্রায় প্রত্যেক বড় বড় ব্যবসায়েই একটা দলযোগের সময় আসে; তাহা অতিক্ৰম করিতে পারিলে, সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু ইহার জন্য যে ধৈৰ্য ও সহিকতা আবশ্যক, তাহা বৰ্তমান যাগের শিক্ষিত চীনা যবেকদের মধ্যে নাই। আমি পনবার বলিতে চাই, শিক্ষিত ও পণ্ডিত চীন শিল্প গড়িয়া তুলিতে পারে নাই।" (বেকারঃ ১৮o—৮২ পয়ে) শিক্ষিত কৃতবিদ্য ব্যক্তিরা ব্যবসা আরম্ভ করিয়া কিরাপে অকৃতকাষ হয়, তাহার কয়েকটি দষ্টাত আমরা প্রত্যক্ষ দেখিয়াছি। জামানী ও আমেরিকাতে শিক্ষিত বিজ্ঞানে কৃতবিদ্য (পি-এইচ, ডি) কয়েকজন ভারতীয় ছাত্রকে আমি জানি। তাহারা ঐ সব দেশে রাসায়নিক এবং বৈদাতিক কারখানায় শিক্ষানবীশ হইয়া প্রবেশ করিবার সযোগ পাইয়াছিল। দেশে ফিরিয়া তাহারা ঐ সব বিদেশী ফামের ভ্রাম্যমান ক্যানভাসার হইয়া দাঁড়াইয়াছে।

(R) * ও “ণ্ডাপিং” ইয়োরোপ ও আমেরিকাতে শিল্পপতিরা প্রচুর পরিমাণে পণ্য উৎপাদন করে। এক একটা কারখানায় দৈনিক যে পরিমাণে পণ্য উৎপন্ন হয়, অহা শুনিলে স্তম্ভিত হইতে হয়।