পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দনিয়ার বাজার তাহাদের করতলগত, সতরাং এরপ বিরাট আকারে পণ্য উৎপাদন করা তাহাদের পক্ষে পোষায়। সময়েজ খাল তৈরী ও টীমারের প্রচলন হওয়ায় তাহারা পথিবীর সদর প্রান্ত পৰ্যন্ত সহজে মাল রপ্তানী করিতে পারে। তাহারা লোকসান দিয়াও কম দামে মাল বিক্ৰয় করিয়া প্রতিদ্বন্ধী দেশীয় শিল্পকে পিষিয়া মারিতে পারে। (২) দষ্টান্তস্বরুপ সাবান শিল্পের কথা ধরা যাক। ইহার সঙ্গে সম্বন্ধ থাকার দরণে আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে। সাবানের একটা প্রধান উপাদান অ্যালকালি বিদেশ হইতে আমদানী করিতে হয়। তেলের বাজারেও দরের ওঠানামা প্রায়ই হয়। এই দরের ওঠানামা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা চাই এবং সযোগমত যথেষ্ট পরিমাণে কাঁচা মাল কিনিয়া মজত রাখা চাই তাহা হইলে, হাতে কোন কনট্রাক্ট পাইলে মাল যোগাইয়া লোকসান পড়ে না। কিন্তু ভারতীয় ব্যবসায়ী যখন বিদেশী ব্যবসায়ীর সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য কঠোর প্রতিযোগিতা করিতেছে, সেই সময়ে উক্ত বিদেশী ব্যবসায়ী সঙ্গতায় জিনিষ যোগাইয়া দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে পিষিয়া মারিতে পারে। বস্তুতঃ, এ যেন ঠিক বামন ও দৈত্যের মধ্যে লড়াই। ইম্পিরিয়াল রসায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে নিম্নে ষে দুইটি বিবরণ উদ্ধত হইল, তাহাতে এ সম্পবন্ধে অনেক রহস্য জানা যাইবে। * “বতমান যাগে লোক যে ব্যয়বহুল ও বিলাসপণ জীবন যাপন করে, তাহা বৰ্তমান যাগের কাষ প্রণালী ও অভিজ্ঞতার দ্বারাই সম্ভবপর হয়। রসায়ন শিল্পের এমন কতকগুলি লক্ষণ আছে, যাহা শিল্পসমবায় (amalgamation) সম্পকীয় সমস্যার উপর যথেষ্ট আলোকপাত করিতে পারে। রাসায়নিক দ্রব্য প্রস্তুত প্রণালীর দ্রুত পরিবতন হইয়াছে এবং এখনও হইতেছে। ত্রিশ বৎসর পবে এই শিল্পের অবস্থা কিরুপ ছিল এবং এখন কিরাপ হইয়াছে, তাহা তুলনা করিলেই বুঝা যাইবে। “বতমান কালের রাসায়নিক শিল্প নিমাতারা যদি বাঁচতে চাহেন, তবে তাঁহাদিগকে নিজেদের শিল্পজাত সম্বন্ধে বৈজ্ঞানিক জগতের আধুনিকতম সংবাদ রাখিতে হইবে। তাঁহাদের এমন সব সুশিক্ষিত লোক রাখা প্রয়োজন, যাঁহারা লেবরেটরীতে ক্ষুদ্রাকারে পরীক্ষাকাষ" করিতে পারেন। মাঝে মাঝে বহদাকারে পরীক্ষাকাষ চালাইবার জন্য তাঁহাদিগকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করিতে হইবে। ৪। ৫টি পরীক্ষার মধ্যে অন্ততঃ তিনটিও যদি সফল হয়, তবুও আশার কথা। এইরুপ বহদাকারে পরীক্ষার ব্যাপার ব্যয়সাধ্য এবং যখন অনেকগুলি কম প্রতিষ্ঠান হাতে থাকে, তখনই এরপ ভাবে কাজ করা সহজ। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্রভাবে ও গোপনে কাজ করিয়া সকলে মিলিয়া যাহাতে চাহিদার তিন গণ বেশী মাল উৎপাদন না করে, সে সবন্ধেও নিঃসন্দেহ হওয়া চাই। শিল্পসমবায়, পরস্পর সংযুক্ত কোম্পানী প্রভৃতি নন্তন জিনিষ নয়। ১৮৯০ সালে বহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের সমবায়ে ইউনাইটেড অ্যালকালি কোম্পানী গঠিত হয়। আমরা ডাই-স্টাফস করপোরেশানের অভু্যদয়ও দেখিয়াছি; ১৯০২ সালে এমন অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়, যেগুলি পরে একত্র করিয়া দি ব্লনার মন্ড গ্রপে গঠিত হইয়াছে। নোবেল ইনডাস্ট্রিজ’ নামক সবাহৎ প্রতিষ্ঠান কিরাপে গড়িয়া উঠিয়াছে, তাহাও আমরা দেখিয়াছি। সীসক এবং বেত সীসকের শিপে আমরা বহন শিল্পব্যবসায়ের সমবায় দেখিয়াছি। এই বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে, বাঁহারা ২৫ বৎসর পাবে শিল্প-সমবায়ের কায আরম্ভ করিয়াছিলেন, তাঁহারা এখনও উহা (২) বিদেশ হইতে সন্তায় পণ্য আমদানী বন্ধ করিবার জন্য এবং বিলাসদ্রব্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্ৰণ করিবার জন্য আইন করিবার ক্ষমতা প্রত্যেক প্রথম শ্রেণীর রাষ্ট্রেরই আছে। কিন্তু ভারতের পক্ষ হইতে এরপে কোন আইন করিবার প্রচেষ্টায় প্রবলভাবে বাধা দেওয়া হইয়াছে। *To our The Revolt of Asia, pp. 104-5. r