পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চালাইতে ইচ্ছক। ইহার অনেক কারণ আছে। এস্থলে মাত্র একটি কারণের উল্লেখ করিব। কোন একক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে শিল্পসমবায়ের পক্ষে গবেষণা ও পরীক্ষাকাষ অনেক সহজ। “বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোম্পানী তথ্য সংগ্ৰহ করিবে, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বারা সাহায্য করিবে, এবং নবগঠিত শিল্পসমবায় কোম্পানী তাহার বিনিময়ে, আর্থিক ব্যাপারে এবং কমপরিচালনা বিষয়ে পরস্পরের মধ্যে সংযোগসন্ত্ররপে কাজ করবে। এইরপে ব্রিটিশ রাসায়নিক শিল্প সংঘবদ্ধ হইয়া অন্যান্য দেশের শিল্পসমবায়ের সঙ্গে সমকক্ষভাবে কাজ করিতে পরিবে। প্রত্যেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে স্বতন্ত্রর পে দনিয়ার বাজারে প্রতিযোগিতা করিতে হইবে না। একটি শক্তিশালী সপ্রতিষ্ঠিত শিল্পসমবায়ের অন্তভুক্ত থাকিয়া তাহারা অনেক সুবিধা ভোগ করিতে পরিবে। বতমান কালে রাসায়নিক শিল্পের জন্য কলকব্জা ষন্মাদি বসাইবার জন্য বহ মলধনের প্রয়োজন। কোন বিশেষ শিল্প নিমাণে দক্ষতা, মুলধনের সদ্ব্যবহার, নিমর্পণপ্রণালীর উৎকর্ষ— এই সমস্ত সাফল্যের পক্ষে অপরিহাষ। কেবল রাসায়নিক শিলপ নয়, আধুনিক সমস্ত শিপের পক্ষেই এ কথা খাটে। “সদক্ষ ব্যবসায়ীদের দ্বারা পরিচালিত হইলে, বৰ্তমান যাগের শিল্পসমবায় কোন ব্যবসা একচেটিয়া করিতে অথবা কৃত্রিম উপায়ে মল্য বধি করিতে চেষ্টা করে না। যাহাতে ব্যবসায় লাভজনক হয় এবং মলধনী ও শ্রমিক উভয়েই তাহার সুবিধা ভোগ করে, বিভিন্ন শিল্পকে বাজারের দরের হ্রাস বধির উপর নিভীর করিতে না হয়,—তাহার প্রতিই এই সমবায়ের লক্ষ্য থাকে। সুদক্ষ পরিচালকের অধীনেও বিভিন্ন শিল্পকে যে সব বড়-ঝাপটা সহ্য করিতে হয়, শিল্প সমবায় সে সমস্ত বিপদ হইতে অংশীদার ও শ্রমিকদিগকে রক্ষা করে। “যে শিল্প-সমবায় গঠিত হইয়াছে, তাহার দ্বারা রাসায়নিক শিল্পে ইংলণ্ড ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সবর্ণগ্রগণ্য হইতে পারে। বলা বাহুল্য, এই শিল্প জাতির আত্মরক্ষার জন্য একান্ত প্রয়োজন এবং ইহার উপর অন্যান্য বহন শিল্পের প্রসার নির্ভর করে।” Chemistry and Industry, 1926, pp. 789-91. (৩) রাসায়নিক শিল্প উৎপাদন এবং বর্তমান যাগের শিল্প "রাসায়নিক শিল্প উৎপাদন প্রণালীর উন্নতির ফলে বর্তমান যুগের শিপে যুগান্তর উপসিথত হইয়াছে। ইপিরিয়াল কেমিক্যাল ইনডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লড মেলচেট এবং তাঁহার সহকমিগণ একথা খুব ভাল রপেই বাঝেন। এই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই কাষতঃ এখন ইংলণ্ড এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তগত অধিকাংশ স্থানের রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত করিতেছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাহিরে জামানী, আমেরিকা প্রভৃতি দেশেও এই কোম্পানী কাষক্ষেত্র বিস্তৃত করিয়াছে। ১৯২৬ সালে দি ইম্পিরিয়াল কেমিক্যাল ইনডাস্ট্রিজ কোম্পানী গঠিত হয়। প্রথমতঃ ইহার মধ্যে চারটি কোম্পানী ছিল—ব্রনার মন্ড অ্যান্ড কোং, ইউনাইটেড অ্যালকালি কোং, নোবেল ইনডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ব্রিটিশ ডাই-স্টাফস কপোরেশান লিমিটেড। “বতমানে এই সমবায় অন্ততঃপক্ষে ৭৫টি কোম্পানী নিয়ন্ত্ৰণ করিতেছে। ইহার মলধনের পরিমাণ ৯ই কোটী পাউণ্ড, তাহার মধ্যে ৭ কোটী ৬০ লক্ষ পাউন্ড মলধন বণ্টন করা হইয়াছে। “১৯২৮ সালে সমবায়ের লাভ হইয়াছিল ৬০ লক্ষ পাউণ্ড।”