পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিতে হইবে। এই উদ্দেশ্যে বেলেঘাটা রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে ৪৫নং ট্যাংরা রোডে তিন একর জমি ইজারা লওয়া হয়। এইস্থানে প্রয়োজনীয় কলকব্জা বসানো এবং কারখানা গহ নিমিত হয়। চুল্লী তৈরী হইলে ১৯০৭ সালে উন্নততর বৈজ্ঞানিক প্রণালীতে কাজ আরম্ভ হয়। কিন্তু সদক্ষ কারিগর না থাকাতে কাজের কোন উন্নতি দেখা যায় না। জাপান হইতে দুইজন ভাল কারিগর আনিবার জন্য শ্ৰীযন্ত দেবকে জাপানে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল যে, জাপানী করিগরেরা এখানকার লোকদের কাজ শিখাইয়া যাইবে। ১৯০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাপানী কারিগরেরা এদেশে আসে এবং এক বৎসর সন্তোষজনকভাবে কাজ করে। তারপর অহাদের দেশে পাঠান হয়। এই কারিগরদের বেতন, যাওয়া আসার খরচ ইত্যাদি বাবদ মালিকদিগকে প্রায় দশ হাজার টাকা ব্যয় করিতে হয়। ব্যবসায়ে কমে হইতে লাগিল এবং মালিকেরা আরও মুলধন দিতে লাগিলেন। বাজারে সস্তা জাপানী ও জামান মাল আমদানী হওয়ার দর্ণ, তাহদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশী মাল চালান কঠিন হইয়া উঠিল। সতরাং ১৯১৩ সালে শ্ৰীষত দেবকে আধুনিকতম পোসিলেন ও মৎ-শিল্প প্রস্তুত প্রণালী শিক্ষা করিবার জন্য জামর্শনীতে প্রেরণ করা সমীচীন মনে হইল। এরপও সিথর হইল যে, শ্রীষত দেব উন্নত ধরণের কলকব্জা ক্ৰয় করিবেন এবং ইংলণ্ড ও ইয়োরোপে বিবিধ মং-শিল্পের কারখানাও দেখিয়া আসিবেন। শ্রীযন্ত দেব এদেশে প্রাপ্তব্য কাঁচা মালের নমনা সঙ্গে লইয়াছিলেন। তিনি ইয়োরোপের কয়েকটি লেবরেটরী ও কারখানাতে এই দেশীয় কাঁচা মাল পোসিলেন ও মং-শিল্প নিমাণের পক্ষে কতদর উপযোগী, তাহা পরীক্ষা করিয়া দেখেন। তিনি প্রয়োজনীয় কলকব্জা এবং উন্নত ধরণের চুল্লী তৈরীর জন্য মালমশলার অডার দিয়া দেশে প্রত্যাবর্তন করিলেন। এই সমস্ত জিনিষ মহাযন্ধে আরম্ভ হওয়ার পবেই এদেশে পে'ছিয়াছিল। জামান ড্রেসডেন মডেলের নতন চুল্লীও নিমিত হইল। সমস্ত প্রয়োজনীয় কলকব্জা বসানো হইল,—যে জমির উপর কারখানা স্থাপিত, মালিকেরা তাহা ক্লয় করিলেন এবং পণোদ্যমে কাজ আরম্ভ হইল। ১৯o৬ হইতে ১৯১৬ পর্যন্ত দশ বৎসরের বিবরণীতে দেখা যায় যে, ২,০২,৯৫২, টাকা মল্যের জিনিষ উৎপন্ন হইয়াছিল। এবং তন্মধ্যে ১,৯২,৮২৭ টাকা মনুল্যের জিনিষ বিক্রয় হইয়াছিল,—ঐ সময় পর্যন্ত মালিকেরা ব্যবসায়ের জন্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়াছিলেন। ১৯১৬—১৭ সালের জন্য যে বাজেট প্রস্তুত হয়, তাহাতে ম্যানেজার মিঃ দেব আরও কাজ বাড়াইবার প্রস্তাব করেন এবং তদন্দেশ্যে ব্যয় নিবাহের উদ্দেশ্যে আরও ২ই লক্ষ টাকা দিবার জন্য মালিকদিগকে অনুরোধ করেন। কিন্তু মালিকেরা কতকটা নৈরাশ্য বোধ করিতেছিলেন। তাঁহারা বহল অৰ্থ ব্যয় করিয়াও দীর্ঘ কালের মধ্যে কোন ফল পান নাই। সুতরাং তাঁহারা ব্যবসায়টিকে লিমিটেড কোম্পানীতে পরিণত করিতে মনস্থ করিলেন। এই উদ্দেশ্যে তাঁহারা একটি ইয়োরোপীয় কোম্পানীর নিকট প্রস্তাব করিলেন এবং উক্ত কোম্পানীও ঐ প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত হইলেন। মিঃ এইচ, এন, সেন এবং ফামের সঙ্গে দীঘকাল ধরিয়া সত্তাদি লইয়া আলোচনা চলিল, কিন্তু কোন কারণে শেষ পর্যন্ত কিছুই স্থির হইল না। তারপর, ১৯১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে, কলিকাতা পটার ওয়াকসের ব্যবসায়টিকে “বেঙ্গল পটারিজ লিমিটেড” এই নাম দিয়া দশ লক্ষ টাকা মলধনসহ লিমিটেড কোম্পানীতে পরিণত করা হইল। gr নতন কোম্পানী ড্রেসডেন টাইপের আরও তিনটি চুল্লী বসাইবার প্রস্তাব করিলেন। তাঁহাদের আশা ছিল যে, ইহার ফলে ৪,২০,০০০ টাকা মল্যের জিনিষ উৎপন্ন হইবে।