পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনি একটি স্বদেশী শিল্পের সেবায় আত্মনিয়োগ করিয়াছেন, এই ভাবই তাঁহার মনে সবাদা জাগ্রত এবং ইহারই বলে কোন অবস্থাতেই তিনি নিরাশ হন নাই। বস্তুতঃ, দেশের এই শিল্পোন্নতি প্রচেষ্টা তাঁহার অত্যন্ত প্রিয় কাষ এবং ইহার জন্য তিনি অক্লান্ত ভাবে কাজ করিয়াছেন। আমি এই সব কথা লিখিতে সঙ্কোচ বোধ করিতেছি, কেন না, আমি জানি যে, শ্রীষত বন্দ্যোপাধ্যায় নীরব কমী, সাধারণে নাম জাহির করিতে তিনি চাহেন না। তাঁহার ব্যক্তিগত জীবনের সমস্ত কথা প্রকাশ করিবার অধিকার আমার নাই। তবে এই পর্যন্ত আমি বলিতে পারি যে, দেশের শিলেপান্নতি সাধনের জন্য তিনি এপর্যন্ত ৪ ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়াছেন এবং সেজন্য তিনি কিছমাত্র দুঃখিত নহেন। এই সযোগে আমি আমার আর একজন বন্ধর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করিতেছি। তিনি অন্য একটি কোম্পানীর ডিরেক্টর রাপে আমার সহকমী। তাঁহার বয়স ৭০ বৎসরের কাছাকাছি এবং তিনি ধনী লোকও নহেন। পারিবারিক দায়িত্বও তাঁহার যথেষ্টই আছে—তৎসত্ত্বেও এই কোম্পানীকে রক্ষা করিবার জন্য তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা দিয়া নিজে দরিদ্র হইয়া পড়িয়াছেন। তিনি বেশ জানেন যে, এই টাকা ফিরিয়া পাইবার আশা নাই। (২) বেংগল এনামেল ওয়াকস লিমিটেড ১৯২১ সালে নারকেলডাঙ্গায় এক ছোট কারখানা লইয়া দি বেঙ্গল এনামেল ওয়াকস লিমিটেডের কাজ আরম্ভ হয়। এই শিল্প সবন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাবে, প্রথমে খুবই বাধা-বিঘা উপস্থিত হইয়াছিল। একজন বাঙালী ভদ্রলোককে প্রথমে কাজের ভার দিবার প্রস্তাব হয়। কোম্পানীর প্রবতীকেরা তাঁহার সঙ্গে এই সত্য করিতে চাহিয়াছিলেন যে, তাঁহাকে কয়েক জন বিজ্ঞানের গ্রাজয়েট ভারতীয় যুবককে এই কাজে সশিক্ষিত করিয়া তুলিতে হইবে, কেন না ইহার বারা কাজের প্রসারের পক্ষে সুবিধা হইবে। কিন্তু বাঙালী ভদ্রলোকটি এই সত্য গ্রহণ করিতে সম্মত হইলেন না এবং কোম্পানীর অত্যন্ত সঙ্কট সময়ে কাষ"ত্যাগ করিলেন। কোম্পানীর কাজ বন্ধ হইবার উপক্রম হইল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কোম্পানীর একজন ডিরেক্টর শ্ৰীষত দ্বিজেন্দ্রনাথ ভট্টাচাৰ্য (কলিকাতার কোন কলেজে ইংরাজী সাহিত্যের অধ্যাপক) এই কাযে সম্পণেরপে আত্মনিয়োগ করিলেন এবং সমসত বাধাবিঘা অগ্রাহ্য করিয়া এনামেল শিল্প সম্বন্ধে নানারপ পরীক্ষা করিতে লাগিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ইংলণ্ড, জামানী ও আমেরিকা হইতে বহন গ্রন্থ আনাইয়াছিলেন। তাঁহার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ১৯২১ সালের নভেম্বর মাসে কাজ আরম্ভ করা সম্ভবপর হইল। কারখানায় তখন মাত্র ছোট একটি চুল্লী ছিল এবং গহসেথর ব্যবহায্য ছোট খাট বাসন পত্র, দরজার নবর প্লেট প্রভৃতি প্রস্তুত হইত। দ্বিজেন্দ্র বাবর ভ্রাতা আমার ভূতপবে ছাত্র দেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচাষ সেই সময়ে জাপানে ছিলেন। তিনি সেখানে এনামেল শিলপ শিক্ষা করিতে লাগিলেন এবং জাপানের কারখানা এবং জাপানের কারখানা সময়ে লব্ধ অভিজ্ঞতাবলে ভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রবাবকে নানা মল্যবান পরামর্শ দিয়া সাহায্য করিতে লাগিলেন। . শ্রীযন্ত দেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচাৰ্য ইহার পর জাপানে এনামেল শিল্পের উপযোগী আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্ৰয় করেন এবং ১৯২৩ সালে কলিকাতায় ঐগুলি লইয়া আসেন। কলিকাতা হইতে ১৫ই মাইল দরে পলতাতে একখণ্ড প্রশস্ত জমি ক্ৰয় করা হয় এবং তাহার উপরে দেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচাষের তত্ত্বাবধানে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রণালীতে কারখানা নিমিত হয়। ভট্টাচাষ ভ্রাতৃদ্বয়ের, বিশেষতঃ দেবেন্দ্রনাথ ভট্টাচায্যের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কমোৎসাহ বিশেষ