পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করেন। উহাতে ৩০০টি রণতরী ছিল এবং ঐ সমস্ত রণতরী হগেলী, বালেশ্বর, মরাং, চিলমারী, যশোর এবং কালীবাড়ীতে নিমিত হইয়াছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর প্রথম আমলেও তাঁহারা বাংলার পোতশিল্প গঠনে সহায়তা করেন। এ বিষয়ে তাঁহারা বলিতে গেলে ঢাকায় মোগল রাজপ্রতিনিধিদের দষ্টান্তই অনুসরণ করিয়াছিলেন। "১৭৮১—১৮০০ খৃঃ পৰ্যন্ত মোট ১৭,০২০ টনের ৩৮৫ খানি জাহাজ হগলী নদীর বন্দরেই নিমিত হইয়াছিল। ১৮০১–১৮২১ খৃঃ পৰ্যন্ত হুগলী বন্দরে মোট ১০৫,৬৯৩ টনের ২৩৭ খানি জাহাজ নিমিত হয়। ভারতের বড়লাট লর্ড ওয়েলেসলি ১৮০০ খৃস্টাব্দে এইরুপ মন্তব্য প্রকাশ করেন যে, পোতশিল্পের কেন্দ্র রাপে ভবিষ্যতে কলিকাতা সহর গড়িয়া উঠিবে, এরপ সম্ভাবনা আছে। তাঁহার মন্তব্য নিনে উধত হইল ঃ– “কলিকাতা বন্দরে ১০,০০০ টন জাহাজ আছে। ঐ সমস্ত জাহাজ মাল বহন করিবার জন্য ভারতেই নিমিত। কলিকাতা বন্দরে বর্তমানে যত টন জাহাজ আছে এবং বাংলা দেশে পোতশিল্প যেরপে উন্নতি লাভ করিয়াছে (এবং ভবিষ্যতে আরও দ্রুত উন্নতি করিবে), সেই সমস্ত বিবেচনা করিয়া নিশ্চিতরাপে বলা যায় যে বাংলার ব্রিটিশ বণিকদের পণ্য লন্ডন বন্দরে চালান দিবার জন্য যত টন জাহাজের প্রয়োজন হইবে, কলিকাতা বন্দর তাহা সমস্তই যোগাইতে পরিবে।” বোম্বাইও এবিষয়ে কলিকাতা অপেক্ষা পশ্চাৎপদ ছিল না। বরং কোন কোন দিক দিয়া উন্নত ছিল। পাশী জাহাজ নিমাতাদের সদক্ষ পরিচালনায় বোম্বাইয়ের সরকারী ডকইয়াড তৎকালে সবশ্রেষ্ঠ ছিল। ১৭৭৫ খৃস্টাব্দে জনৈক পর্যটক বোম্বাই ডকের বর্ণনা করিয়া বলিয়াছেন—“এই ডকইয়াডটি সপ্রশস্ত, এখানে জাহাজী মালপত্র রাখার জন্য উপযুক্ত গদাম ঘর আছে। এখানকার ড্রাই-ডক এমন প্রশস্ত এবং সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত যে ইয়োরোপে তাহার তুলনা মিলে না।” (৫) কিন্তু কলিকাতা বন্দরের শ্ৰীবধি সবন্ধে লড ওয়েলেসলির ভবিষ্যৎ বাণী সফল হইল না। “লণ্ডন বন্দরে যখন ভারতের নিমিতে জাহাজ ভারতীয় পণ্য বহন করিয়া উপস্থিত হইল, সেখানকার একছত্রী ব্যবসায়ীদের মধ্যে তখন একটা হলসেথল পড়িয়া গেল। টেমস নদীতে যদি কোন শত্রুপক্ষের জাহাজ উপস্থিত হইত, তাহা হইলেও বোধ হয় & (৫) ১৭৩৬ খঃ হইতে ১৮৩৭ খৃষ্টাদ পৰ্যন্ত নিম্নলিখিত পাশিগণ বোবাই সরকারী প্রধান জাহাজনিমাতার কাজ করেন –১৭৩৬–১৭৭৪ খঃ লাউজাঁ, ১৭৭৪—১৭৮৩ থাঃ মানিকজী ও বোমেনজী; ১৭৮৩—১৮o৫ খঃ ফ্ল্যামজী ও জামসেঠজী; ১৮০৫—১৮১১ খঃ জামসেঠজী ও রতনজী; ১৮১১–১৮২১ খৃঃ জামসেঠজী ও নেীরজী; ১৮২১—১৮৩৭ খঃ– নৌরজী ও কারসেঠজী। সিন্ধিয়া টীম ন্যাভিগেশান কোম্পানীর জাহাজ জলবারের উদ্বোধন উপলক্ষে কিছ দিন পবে ডাঃ পরাঞ্জপে বলেন —”এই উপলক্ষে যে সময়ে ভারত পোত শিপে প্রসিদ্ধ ছিল, সেই অতীতের গৌরব কাহিনী সমরণ না করিয়া থাকিতে পারিতেছি না। সেই সব দিনের কথা লোকে বিস্মত হইয়াছে। কিন্তু একশত বৎসর পাবেও ভারতের নানা পথানে বিলাতের চেয়েও ভাল জাহাজ নিমিত হইত। ১৮০২ খৃস্টাব্দে ইংলন্ডের সরকারী নৌবিভাগ বোম্বাই বন্দরে একখানি বন্ধে জাহাজ তৈরী করিবার ফরমাইজ দিয়াছিলেন। ব্রিটিশ নৌবিভাগের কতারা ইয়োরোপীয় জাহাজ নিমাতাগণকে পাঠাইতে চাহিয়াছিলেন, কিন্তু বোম্বাইয়ের জাহাজ নির্মাতা জামসেঠজী ওয়াদিয়ার কৃতিত্ব জানা থাকাতে তাঁহারা তাঁহাকেই প্রধান নিমাতা রাপে মনোনীত করেন। প্রায় এক শত বৎসরকাল ওয়াদিয়া বংশের নাম জাহাজ শিলে্পর ইতিহাসে প্রসিদ্ধ ছিল। উনবিংশ " শতাব্দীর মধ্যভাগে পোতশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রপে বোম্বাই বন্দরের নাম লতে হইল।”