পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঈষার অনল জনলিয়া উঠে, এবং তাহারা ভারতীয় পোত-শিল্পের ধবংস সাধনের চেষ্টা করিতে থাকে। এতদিনে তাহাদের অভিলাষ পণ্য হইয়াছে। “এইরপে ৫০ বৎসরের মধ্যে, ভারতের পোত শিল্প ও সমুদ্র বাণিজ্য যাহা প্রায় সহস্ৰ বৎসরেরও অধিক কাল ধরিয়া প্রচলিত ছিল—তাহা একেবারে লুপ্ত হইয়া গেল। ভারতীয় পোত শিল্প এককালে পথিবীর সমন্দ্র-বাণিজ্য পথে যে অসীম প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল, তাহার কোন নিদশন এখন আর নাই। গবৰ্ণমেণ্ট যে ভাবে ভারতীয় পোতশিল্প ধবংস করিয়াছেন এবং ভারতের উপকল বাণিজ্যে ব্রিটিশ প্রাধান্যের প্রতিষ্ঠায় ষে ভাবে সাহায্য করিয়াছেন, তাহা ব্রিটিশ সবাথরক্ষার জন্য ভারতের আর্থিক ধবংস সাধন প্রচেষ্টার শোচনীয় দন্টান্ত এবং ভারতের গত ৭০ বৎসরের আর্থিক ইতিহাসে, পোতশিল্পের ব্যাপারেই ইহা সবাপেক্ষা সপস্ট হইয়া উঠিয়াছে। ব্রিটিশ জাহাজ কোম্পানীগলিকে আয়-করের দায় হইতে মন্তে করা, ভারতের উপকল বাণিজ্যে তাহদের একাধিপত্য স্থাপনের জন্য নানা উপায় উদ্ভাবন করা, এবং সাধারণভাবে ভারতীয় পোতশিল্পের প্রতি বিরদ্ধে ভাব—এই সমস্ত হইতেই বঝো যায় যে, ব্রিটিশ আর্থিক নীতির উদ্দেশ্য, ভারতীয় সবাথের ক্ষতি করিয়া ব্রিটিশ সবাথরক্ষার পন্থা অনুসরণ করা।" ভারতীয় ব্যবস্থা পরিষদে গহীত প্রস্তাবের ফলে গবৰ্ণমেণ্ট যে ভারতীয় বাণিজ্য-পোত কমিটি নিযুক্ত করিয়াছিলেন, তাঁহারা তাঁহাদের রিপোটে এইরুপ প্রস্তাব করেনঃ “ষে সমস্ত জাহাজের মালিক ভারতবাসীরা এবং যাহাতে প্রধানতঃ তাঁহাদেরই সবাথ ও পরিচালন ক্ষমতা আছে, সেই সমস্ত জাহাজের জন্যই ভারতের উপকল বাণিজ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করিতে হইবে।” কিন্তু এদেশের আমলাতন্ত্র (ব্যুরোক্রেসি) ব্রিটিশ বণিকদের সঙ্গে সবাথ সত্রে আবন্ধ, সতরাং তাহারা এই প্রস্তাব ব্যথা করিয়া দিবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করিতেছে। মিঃ হাজীর উপকল বাণিজ্য বিলের ভবিষ্যৎও অন্ধকারময়। এই শোচনীয় দশ্যের সঙ্গে জাপানের জাতীয় গবৰ্ণমেণ্ট জাপানী পোত শিল্প ও সমুদ্র-বাণিজ্যের জন্য কি করিয়াছেন, তাহার তুলনা করন। অতি অলপ সময়ের মধ্যে জাপান যে কেবল বাণিজ্যপোতই গড়িয়া তুলিয়াছে, তাহা নহে, নৌ-বিভাগেও সে প্রধান সথান গ্রহণ করিয়াছে। এই অপব সাফল্যের কারণ, রাষ্ট্রের সমর্থন ও প্রেরণা; জাপানী গবর্ণমেণ্টই বত্তি দিয়া এবং ব্যাক হইতে ঋণ গ্রহণের সুবিধা করিয়া দিয়া দেশের শিল্প গঠনে সহায়তা করিয়াছেন। ১৮৫৫ খঃ কমোডোর পেরাঁ যখন জাপানে উপস্থিত হইল, তখন যে নতন বিপদের মখে তাহাকে পড়িতে হইবে, সেজন্য সে প্রস্তুত ছিল না। প্রায় দুই শত বৎসর ধরিয়া শোগণদের সঙ্কীর্ণ নীতির ফলে দেশের সমন্দ্র-বাণিজ্য লপ্তপ্রায় হইয়াছিল। পনের খানের আরম্ভে প্রবীণ রাজনীতিকগণ আধুনিক প্রণালীতে বাণিজ্যপোত এবং নৌ-বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিলেন এবং সেই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাঁহারা প্রাণপণে চেস্টা করিতে লাগিলেন। অ্যালেন তাঁহার “বতমান জাপান ও তাহার সমস্যা” নামক গ্রন্থে লিখিয়াছেন – “সেই সময়ে (১৮৭২ খৃঃ) গবৰ্ণমেণ্ট শিল্প ও বাণিজ্য বিদ্যালয় এবং বর্তমান ব্যবহারিক শিপে শিক্ষা প্রণালী প্রবতন করিয়াছিলেন। আধুনিক বাণিজ্যপোতও নিমিত হইয়াছিল এবং যে সমস্ত বড় বড় ব্যবসায়ী কোম্পানী জাপানের বহিবাণিজ্যে বর্তমান যাগে এমন প্রভাব বিস্তার করিয়াছে, সেগুলি গবৰ্ণমেণ্টের সহায়তায় ও উৎসাহে ঐ সময়েই প্ৰাপিত হইয়াছিল। ১৮৯৪ সালে যে সমস্ত শিল্প গবর্ণমেণ্ট কর্তৃক প্রবর্তিত হইয়াছিল, তাহাদের মধ্যে বয়ন শিল্প এবং পোত-শিল্পই প্রধান।” - পরবর্তীকালে সংরক্ষণ শলক ও বত্তি বারা জনসাধারণের মধ্যে শিল্প প্রচেস্টার