পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আগামী ১০ বৎসরের মধ্যে আমেরিকা তাহার বাণিজ্যপোতের সংখ্যা বৃদ্ধি করিবার জন্য ৫oo কোটী ডলার ব্যয় করিবে। মিঃ ভি, জে, প্যাটেল সিন্ধিয়া স্টীম ন্যাভিগেশান কোম্পানীর একখানি নতন জাহাজের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে যে মন্তব্য প্রকাশ করেন, তাহা এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য — “এমন এক সময় ছিল, যখন ভারতবাসী কর্তৃক নিমিত ও পরিচালিত, প্রথম শ্রেণীর ভারতীয় জাহাজ মল্যেবান ভারতীয় পণ্য দরদ রান্তরে বিদেশে বহন করিয়া লইয়া যাইত। সকলেই জানেন কতকগুলি ঘটনার সমবায়ে ভারতের সেই পোতশিল্প ধবংস হইয়াছে এবং ভারতের পক্ষে এখন বাণিজ্যপোত বিষয়ে তাহার পর্ব গৌরব পনেরধিকার করা অত্যন্ত কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। ইহাও লক্ষ্য করিবার বিষয় যে, গত ৫০ বৎসরের মধ্যে ভারতে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ কোম্পানী স্থাপিত হইয়াছিল,—কিন্তু সেগুলির অস্তিত্ব লোপ হইয়াছে। এ সম্বন্ধে বতমানে কিছ না বলাই ভাল।” মিঃ প্যাটেল অতঃপর সিন্ধিয়া স্টীম ন্যাভিগেশান কোম্পানীর ইতিহাস বিবত করেন এবং বিদেশী কোম্পানীরা কিরাপে ভাড়া হ্রাস করিয়া উহার বিরুদ্ধে যন্ধে করিয়াছিল, তাহাও বলেন। “কোম্পানী ছয় খানি আধুনিক মালবাহী জাহাজ তৈরী করিতে চাহিয়াছিলেন, কিন্তু এই ইচ্ছা তাঁহাদের ত্যাগ করিতে হইল। স্টীমার তৈরীর জন্য কোম্পানী অডার দিতে পারিলেন না, কেন না ট্রেড ফ্যাসিলিটিজ কমিটি তাঁহাদের গ্যারান্টি দিবার দরখাস্ত অগ্রাহ্য করিলেন। যাঁহারা ইংলণ্ড ও ভারতের মধ্যে সোঁহাদ্য কামনা করেন, তাঁহাদের পক্ষে এই ব্যাপারটি বড়ই দুঃখদায়ক। ট্রেড ফ্যাসিলিটিজ কমিটি তাঁহাদের ২ কোটী ১০ লক্ষ পাউন্ডের ফাণ্ড হইতে বিদেশী জাহাজ কোম্পানীগুলিকে ২২ লক্ষ পাউণ্ড দিতে পারিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যেরই অন্তভুক্ত ভারতের একটি জাহাজ কোম্পানীর জন্য মাত্র ২ই লক্ষ পাউণ্ডও দিতে পারিলেন না, অথচ ভারত ইংলণ্ডকে গত মহাযুদ্ধে জয়লাভে অশেষ প্রকারে সহায়তা করিয়াছে। “সমুদ্রতীরবতী প্রত্যেক দেশের গবর্ণমেণ্ট যখন নিজেদের জাতির বাণিজ্যপোত গড়িয়া তুলিবার জন্য সব প্রকারে সহায়তা করিতেছেন, তখন ভারতবাসীরা কি আশা করিতে পারে না যে, তাহদের গবর্ণমেণ্টও এই মহান শিল্পটি প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য সহায়তা করিবেন ? ভারত গবৰ্ণমেণ্ট কর্তৃক নিযুক্ত বাণিজ্যপোত কমিটি প্রস্তাব করিয়াছেন যে, অন্যান্য দেশের উপকল বাণিজ্য যেমন তাহদের নিজেদের জাহাজের জন্যই সংরক্ষিত, ভারতের উপকলে বাণিজ্যও তেমনি ভারতীয় জাহাজের জন্যই সংরক্ষিত থাকিবে। কিন্তু ভারত গবৰ্ণমেণ্ট এই সামান্য প্রস্তাবটিও এ পর্যন্ত কাষে পরিণত করিলেন না। সুতরাং গবৰ্ণমেণ্টের এই ভাবগতিক দেখিয়া এদেশের লোকেরা যে হতাশ হইবে, তাহা আর বিচিত্র কি ? সমন্দ্রপথে ভারতের বিপলে বাহিবাণিজ্যের কথা আমি এপথলে বলিতেছি না, উহার সঙ্গে ভারতীয় জাহাজের কোন সম্প্রবন্ধ নাই বলিলেও চলে। “পোতবাহী পণ্যের জন্য ভারত যে ভাড়া দেয় তাহার পরিমাণ বাষিক প্রায় ৩ই কোটী ৪ কোটী পাউণ্ড হইবে। ইহার প্রধান অংশই বিদেশী জাহাজ কোম্পানীগুলি পায়। ভারতবাসীরা যে এই অথের যতটা সম্ভব নিজেদের দেশেই রাখিয়া দেশবাসীর আর্থিক দদশার কিয়ং পরিমাণ লাঘব করিতে চেষ্টা করিবে, ইহা স্বাভাবিক।” দি মসলমান পত্রিকা (২১শে অক্টোবর, ১৯২৮) হইতে উধত নিম্নলিখিত বিবতি হইতে এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট হইবে – * “ব্যবস্থা পরিষদে মিঃ এম, এন, হাজীর উপকল বাণিজ্য বিলের যখন আলোচনা হইতেছিল, তখন রেগনের বেঙ্গল মহামেডান এসোসিয়েশান ঐ বিলকে সমর্থন করিয়া