পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অত্যন্ত অশিক্ষিত ও অনন্নেত। অনেক সময়েই তাহারা জীবনধারণের উপযোগী সামান্য কিছ শস্য উৎপন্ন করিয়াই সন্তুষ্ট হয়। তাহারা অত্যন্ত অলস এবং বৎসরের মধ্যে কয়েক মাস বসিয়া থাকে। অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে, রংপরে হিন্দ রাজবংশীদের পাশাপাশি মসলমানেরাও বাস করে। কিন্তু তাহারা একই জাতির লোক হইলেও হিন্দদের চেয়ে বেশী কমঠ । পাঞ্জাব ও মীরাট জেলার কৃষকেরা সম্পণে ভিন্ন প্রকৃতির। তাহারা এখনও চরকা কাটে এবং তাহাদের বোনা মোটা সন্তায় তাহাদের নিজেদের ব্যবহারের জন্য মোটা কাপড় তৈরী হয়। ১৯২৯ সালে আমি মীরাটে যাই। খাটাউলি সহরের ২০ মাইল উত্তরে একটি গ্রামে গিয়া আমি বিস্ময় ও আনন্দের সঙ্গে দেখিলাম, প্রায় প্রত্যেক গহে চরকা চলিতেছে। গহকত্রী, কন্যা এবং পত্রবধ একত্র বসিয়া রোদ পোহাইতে পোহাইতে চরকা কাটিতেছে, এ দশ্য প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু এখানেও তথাকথিত সভ্যতা ধীরে ধীরে প্রবেশ করিতেছে। ধতি, পাগড়ী পরা গ্রামবাসীরা সক্ষম বিদেশী দ্রব্য কিনিতে আরম্ভ । করিয়াছে। পথানীয় গান্ধী আশ্রমের কমীরা মেয়েদের হাতের তৈরী সভ্যতা প্রভৃতি কিনিয়া তাহাদের উৎসাহিত করিতে চেষ্টা করে, কিন্তু আশ্রমের অর্থ সামথ্য বিশেষ নাই। যদি এই সবদেশী শিল্পকে উৎসাহ দিবার জন্য উপযুক্ত সঙ্ঘ বা প্রতিষ্ঠান থাকিত, তবে খুবই কাজ হইতে পারিত। কিন্তু বাংলার ন্যায় ঐ প্রদেশেও সরকারী শিল্প বিভাগের নিকট চরকা নিষিদ্ধ বস্তু, কেননা এই শিল্প পনর্জীবিত হইলে ল্যাঙ্কাশায়ারের বস্ত্র শিল্পের সমহ ক্ষতি হইতে পারে। মিঃ র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড তাঁহার গ্রন্থে নিছক সত্য কথাই লিখিয়াছেন—“গবণমেণ্ট যখন গবা করেন যে, ভারতে পরাতন দেশীয় শিল্পের পরিবতে' তাঁহারা সস্তা কাপাস বসত্ৰজাত যোগাইবার ব্যবস্থা করিয়াছেন, তখন সে কথা শুনিয়া মন বিষাদভারাকান্ত হয়। কিন্তু ইহার ফলে ভারতের যে বিষম ক্ষতি হইয়াছে, সে বিষয়ে তাহারা অন্ধ।” মীরাটে বহু জমিদার এবং ধনী বানিয়া আছে। কিন্তু বৰ্তমান যাগের চিন্তাধারা তাহাদের মন সপশ করে নাই। তাহদের মধ্যে অনেকে, ব্রিটিশ কমিশনার বা কালেক্টরের যে কোন বাতিকে উৎসাহ দিবার জন্য প্রচুর অর্থ দিতে পারে, নিজেদের ছেলে মেয়ের বিবাহে মিছিল ও তামাসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করিতে পারে; কিন্তু যাহাতে স্থায়ী উপকার হয়, এমন কোন কাজে তাহারা এক পয়সাও দিবে না। এই সমস্ত ব্যবহারের মলে যে মনোভাব কাষ" করিতেছে, তাহার কথাও কিছু বলা প্রয়োজন। বাংলাদেশে দেখা যায়, যে সমস্ত কৃষকের অবস্থা ভাল তাহারা শ্রমের কাজ করিতে ঘণা করে এবং ভদ্রলোকদের অনুকরণ করে। বাংলার কোন কোন অঞ্চলে কৃষকেরা আমন ধান ব্যনিবার সময় এক মাস দেড় মাস খুবই পরিশ্রম করে, তাহার পরে কয়েক মাস বসিয়া থাকে। এমন কি, ধান কাটার সময়ে তাহারা পশ্চিম দেশীয় মজরদের সাহায্য নেয়। অবস্থা কিরাপ শোচনীয় ও কুৎসিত হইয়া দাঁড়ুইয়াছে, তাহা ভাবিলে কষ্ট হয়। কৃষকেরা গহজাত মোটা কাপড় ছাড়িয়া ল্যাঙ্কাশায়ারের সক্ষম বস্ত্র কিনিতেছে। ঘরের তামাক ছাড়িয়া বিদেশী সিগারেট খাইতেছে। মামলা মোকদ্দমা করিতে হইলে ৪৷৫ মাইল হটিয়া নিকটবতী সহরে আর তাহারা যাইতে চাহে না, দই আনা পয়সা খরচ করিয়া মোটর বাসে চড়ে। ইহার অর্থ এই ষে, তাহারা জমির অতিরিক্ত উৎপন্ন ফসল প্রভৃতি বেচিয়া যে পয়সা পায়, তাহা আধুনিক সভ্যতার বিলাসোপকরণ প্রভৃতির জন্য ব্যয় করে। একথা সত্য যে, আমেরিকার যন্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে অথবা প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন কৃষক নিজের মোটর গাড়ীতে চড়ে, কিন্তু ঐ সমস্ত কৃষকের নিকট প্রতি মিনিটের মল্য আছে। তাহারা মোটের উপর সম্প্রশিক্ষিত-কৃষিকাযে আধুনিক, বৈজ্ঞানিক প্রণালী