পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাল্লা, গাড়োয়ান প্রভৃতি যে কিরাপে নিরন্ন হইয়া পড়িয়াছে, তাহার অধিক বর্ণনা করিবার প্রয়োজন নাই। (৫) (৫) “ভারতে বিশষ্যেতম লৌহ এবং উৎকৃষ্ট ইস্পাত ছিল। তাহার নিদশনস্বরপ এখন যে সব স্তম্ভ, অসশস্ত্র প্রভৃতি আছে, তাহা বৰ্তমান ধাতুশিল্পীদের পক্ষে ঈষার বস্তু। দেশীয় লৌহশিল্প যেভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়াছে, তাহা ভাবিলে মন বিষাদভারাক্লান্ত হইয়া উঠে। লোহার সম্প্রদায় লতে হইয়া গিয়াছে, কম কারেরাও ক্রমশঃ ক্ষয় পাইতেছে। কেবলমাত্র রাজারাই অস্ত্রশস্ত্র বমাদি তৈরী করাইবার জন্য কত লোক নিষন্ত করিতেন! দরজার কাজা, শিকল, তালা প্রভৃতি তৈরী করিবার কত কারখানা ছিল। প্রাচীন শিল্পগুলি লঙ্গেত হইয়া যাওয়াতেই জমির উপর এই অত্যধিক চাপ পড়িয়াছে। চলাচলের যানবাহনাদির কথাই দন্টান্তস্বরপ ধরা যাক। স্থলপথে ও জলপথে পণ্য বহন করিবার জন্য কত অসংখ্য লোক নিযন্তে ছিল। রথ, গাড়ী এবং নৌকা তৈরী করিয়া লক্ষ লক্ষ লোক জীবন ধারণ করিত। বাপচালিত যান এবং মোটর গাড়ী প্রভৃতি এখন সদরে নিভৃত পল্লীতেও প্রবেশ করিয়াছে।”—জে. সি. রায়, কলিকাতা রিভিউ, অক্টোবর, ১৯২৭ ৷ “পাশচাত্য সভ্যতা এই জাতির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শ্রমবিভাগ রীতির উপর সহসা আক্রমণ করাতে যত কিছ আর্থিক ও সামাজিক বিপৰ্যয় ঘটিয়াছে, সমাজের শক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়াছে এবং তাহার পনর্যন্ধার করা কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। চারিদিক হইতে আমরা ইহারই প্রমাণ পাইতেছি। একদিকে কৃষকদের সংখ্যা কুমাগত বাড়িতেছে এবং জমির উপর অত্যধিক চাপ পড়িতেছে, অন্যদিকে আধুনিক ধনতন্ত্র ও কলকারখানার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পরাস্ত শিল্পীরা আথিক ধনংসের মখে চলিয়াছে, এবং ইহার ফলে নানা রোগ ও মৃত্যুর হার বাড়িয়া যাইতেছে। বাংলার সমতল ভূমিতে বম্বীপ অঞ্চলে প্রাচীন জলনিকাশ ব্যবস্থা পরিত্যন্ত হইয়াছে, তাহার উপর রেলওয়ে বাঁধ ও রাস্তা অবস্থা আরও সঙ্গীন করিয়া তুলিয়াছে। আর এই সকলের ফলে যে দেশ একদিন সখ ও ঐশ্বযে পণ ছিল, তাহাই এখন দারিদ্র্য ও ম্যালেরিয়ার আবাসভূমি হইয়া উঠিয়াছে।”— স্যার নীলরতন সরকার; এই বিখ্যাত চিকিৎসক রোগের নিদান যথার্থই নির্ণয় করিয়াছেন। “অনেকেই এখন রেলওয়ের আশ্রয় নেয়। বাঙালী মাঝিমাল্লার মাখে শনিয়াছি, এই কারণে তাহাদের এক বিষম ক্ষতি হইয়াছে। তাহারা বলে, পাবে কোন কোন ভদ্রলোক পরিবারবগাসহ কাশী, প্রয়াগ বা অন্য কোন তীর্থস্থানে যাইতে হইলে নৌকা ভাড়া করিতেন এবং এইরুপ ভ্রমণে কয়েক সপ্তাহ, এমন কি কয়েক মাসও লাগিত। কিন্তু এখন তাঁহারা রেলগাড়ীতে উঠেন এবং গন্তব্য পথানে যাইতে একদিন মাত্র সময় লাগে।” বেভারিজ : বাখরগঞ্জ, ১৮৭৬ । বিদেশী পণ্য ও বিলাসদ্রব্য ব্যবহারের বিরধে সরকারী আদেশের দন্টান্ত। “সাংহাই (চীন) জেলা গবৰ্ণমেণ্ট ১লা আগস্ট তারিখে হুকুম জারী করেন যে, চীনাদিগকে কেবলমাত্র দেশজাত পণ্য ব্যবহার করিতে হইবে এবং বিদেশী বিলাসদ্রব্য ত্যাগ করতে হইবে। হকুমনামায় আরো লিখিত ছিল যে, চীনা শিল্পব্যবসায়দিগকে তাহদের উৎপন্ন পণ্যের মূল্য হ্রাস করিতে হইবে এবং প্রস্তুতপ্রণালীর উন্নতি করিতে হইবে।”—The China Weekly Review, Aug. 9, 1930. জাতীয় গঠনকাযে নিবন্ত চীনা ছাত্রেরা দেশজাত কাদি পরিতে বাধ্য। এই আদেশ জারী করা হয় যে, সমস্ত ছাত্রদিগকে বস্ত্রনিমিত ইউনিফরম বা উদি পরিতে হইবে এবং ঐ সমস্ত কৰ্ম্ম যতদর সম্ভব দেশজাত হওয়া চাই।”—The China Weekly * ಫ್ಲಿ, 24, 1930. বিরাধে भडि बनाईबार সইডিশ দেশলাই কারখানার আ | मैकिरेंकिर्ध्नैर्जनै;$***######ईैः काश्शन স্থাপনের প্রস্তাব হয়। ইহার ফলে চীনা শ্রমিকদের মধ্যে ঘোর আন্দোলন উপস্থিত হয়। সাংহাই জেনারেল লেবর , ইউনিয়ন প্রিপারেটারি কমিটি—তারযোগে একটি ঘোষণাপত্রে গবৰ্ণমেণ্ট ও দেশবাসীর নিকট আবেদন করেন যে, চীনদেশে বিদেশিগণ কতৃক দেশলাইয়ের কারখানা স্থাপন বন্ধ করা হোক এবং দেশীয় দেশলাই শিল্পকে রক্ষা করা হোক।”—The China Weekly Review, June 28, 1930.