পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শতকরা ৭০ জন লোক ঐ সব সহরে যাইয়া বাস করিবে—আমরা কি সেই শুভ দিনের প্রতীক্ষায় বসিয়া থাকিব ? কলিকাতা ও হাওড়া ব্যতীত বাংলাদেশে আর কোন সহর নাই। মফঃস্বলের সহরগলি, নামে মাত্র সহর। এই সব মফঃস্বল সহরে থানা আদালত প্রভৃতি থাকার জন্য পরগাছা জাতীয় এক শ্রেণীর লোক সেখানে দেখা দিয়াছে। আমার আশঙ্কা হয় প্রলয়ান্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করিলেও, বাংলার মফঃস্বলে কলকারখানাপণ সহর গড়িয়া উঠিবে না। এইরুপ সখের দিন দেশে আনয়ন করা বাঞ্ছনীয় কি না, সে কথা না হয় ছাড়িয়া দিলাম, কিন্তু আমার স্বদেশবাসিগণ, আপনারা কি কোন দিন এ বিষয়ে যোগ্যতা প্রদর্শন করিয়াছেন ? তবে ব্যথা কেন বড় বড় কারখানা পথাপন করিয়া বেকার সমস্যা সমাধানের লক্ষবা চওড়া কথা বলিতেছেন ? বস্তুতঃ, ভারত কৃষিপ্রধান দেশ এবং চিরদিন তাহাই থাকিবে। এখানকার প্রধান সমস্যা, কিরাপে উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রণালী অবলম্বন করিয়া জমির উৎপাদিকা শক্তি বধি করা যায় এবং গ্রামবাসী কৃষকদের স্বল্প আয় বন্ধির জন্য অন্য কি আনুষঙ্গিক কাজের প্রবতন করা যায়। আমার দঢ় অভিমত, এই হিসাবে সন্তাকাটা ও কাপড় বোনা—কুটীর শিপেরপে বাংলার সবত্র প্রচলিত হইতে পারে। চরকার কার্যকরী শক্তি কতদর, তাহা সহজ হিসাবের দ্বারাই বুঝা যাইতে পারে। কোলব্লকে এই কারণেই ১২৫ বৎসর পাবে চরকার গণগান করিয়াছিলেন। ভারতের লোক সংখ্যা ৩২ কোটী। যদি গ্রামবাসী লক্ষ লক্ষ লোকের মধ্যে কিয়দংশও—দষ্টাত স্বরপ টু অংশ—দৈনিক ২ পয়সা করিয়া উপাজন করে, তাহা হইলে তাহদের মোট আয়ের পরিমাণ হইবে দৈনিক ১২ই লক্ষ টাকা অথবা বৎসরে ৪৫,৬২,৫o,ooo টাকা। শিল্প ব্যবসায়ীরা এখন “Mass Production" বা এক সঙ্গে প্রচুর পণ্য উৎপাদনের কথা কহিয়া থাকেন, কিন্তু ভারতে আমরা একসঙ্গে বিশাল জন-সমষ্টির গণনা করিয়া থাকি। এই বিশাল জন-সমটির আয় ব্যক্তিগতভাবে যতই অকিঞ্চিৎকর হউক না কেন—একসঙ্গে হিসাব করিলে কোটী কোটী টাকায় দাঁড়ায়। হিতোপদেশে আছে—তৃণৈগণত্বমাপন্নৈ বধ্যন্তে মত্তদন্তিনঃ—তৃণরাশি একত্র করিয়া রন্জ নিমাণ করিলে তম্বারা মত্ত হস্তাঁও বাঁধা যায়। বর্তমান ক্ষেত্রে ঐ উক্তি অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলিয়া মনে করা যাইতে পারে। গত ৭৮ বৎসরে খন্দর সম্বন্ধে আমি যাহা লিখিয়াছি, তাহা একত্র করিলে একখানি বহৎ পস্তক হইতে পারে। তৎসত্ত্বেও এবিষয়ে পনেঃ পুনঃ বলা প্রয়োজন; কেন না আমাদের মধ্যে এক শ্রেণীর শিক্ষিত লোক আছে যাহারা কোন কিছু করিবে না, কোন নতন সন্টি করিবে না অথচ সহরে আরাম চেয়ারে বসিয়া কেবল সব প্রকার শুভ প্রচেষ্টার প্রতি বিদ্রপবাণ বর্ষণ করিবে। চরকা যে কৃষকদের পক্ষে কেবল আশীবাদ সবরপ নহে, পরন্তু । দভিক্ষের সময়ে বীমার কাজ করে, তাহা গত উত্তর বঙ্গ বন্যার সময় দেখা গিয়াছে। ১৯২২–২৩,সালে বন্যা সাহায্য কার্যের সময় উত্তর বগে আরাই (রাজসাহী) ও তালোরার (বগড়া) নিকট কতকগলি কেন্দ্র এই উদ্দেশ্যে কাজ করিবার জন্য নিবাচিত হয়। অত্যন্ত দদশার সময় এই সব কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার চরকা বিতরণ করা হয় এবং ৪ । ৫ মাস পরে কয়েক মণ সীতা কাটনীদের নিকট হইতে সংগ্রহ করা হয়। ঐ সন্তা দিয়া ঐ সব কেন্দ্রেই খন্দর তৈরী হয়, ফলে স্থানীয় জোলা ও তাঁতির দদশার লাঘব হয়। কলিকাতা খাদি প্রতিষ্ঠানের মারফৎ ঐ সমস্ত খন্দর অলপ সময়ের মধ্যেই বিক্রয় হইয়া যায়। ইহা বাংলার যবেকদের স্বদেশ প্রেমের পরিচয় বটে। অবস্থা বেশ আশাপ্রদ বোধ হইতেছিল, কিন্তু দভাগ্যক্রমে, পর বৎসর ও তার পর বৎসর, ধান ও পাটের অবস্থা ভাল হওয়াতে কৃষকেরা চরকা ত্যাগ করিতে লাগিল এবং খন্দর উৎপাদনের পরিমাণও কমিয়া গেল। সেই সময় হইতে