পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ও আমেরিকান স্টীমার নদীতে নিয়মিত ভাবে যাত্রী ও মাল বহনের কাজ আরম্ভ করে। কাজ এত লাভজনক যে, একবার যাতায়াতেই স্টীমারের খরচা উঠিয়া যায়। স্টীমারে চলাচল বা মাল বহন খাব নিরাপদও হইল। দেশীয় নৌকাগুলি স্টীমারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হট্ৰয়া যাইতে লাগিল। কেন না তাহাদের খরচা বেশী। তাছাড়া, টীমারের ঢেউ লাগিয়া নৌকাগুলি অনেক সময় ডুবিয়া যাইতেও লাগিল। সতরাং নৌকার ব্যবসা প্রায় বন্ধ হইল, বহন সংখ্যক মাঝি বেকার হইয়া পড়িল। সঙ্গে সঙ্গে মালবাহী কুলী, দড়িওয়ালা, হোটেল ও রেস্তোরোর মালিক প্রভৃতিরও কাজ গেল। অবস্থা অতি শোচনীয়; চীনের সহস্ৰ সহস্ৰ লোকের দৈনিক জীবিকার উপায় হরণ করিয়া মস্টিমেয় আমেরিকাদেশীয় জাহাজওয়ালা লাভবান হয় এবং এইরপে তাহারা বহু শতাব্দী হইতে প্রচলিত বত্তি ও IFTFT foTF FT FLI "–China: A Nation in Evolution–Monroe. ভারতেও ধনতাত্রিকতা—বিশেষতঃ ব্রিটিশ ধনতাত্রিকতা—নিজেদের সবাথসিদ্ধির জন্য, ভারতীয় প্রাচীন কুটীর শিল্পগুলি ধংস করিয়াছে, কিন্তু তৎপরিবতে কম চু্যত নিরন্ন লোকদের কোন নতন জীবিকার পথ প্রদর্শন করে নাই।” একটি সহজ দাস্টান্ত দিলেই কথাটা বঝো যাইবে। এতাবৎকাল বাংলার গ্রামের বহু অনাথা বিধবা ধান ভানিয়া কোন মতে জীবিকা অজন করিত, নিজেদের শিশু সন্তানগুলির ভরণপোষণ করিত। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার কৃপায় বাংলার নানা স্থানে অসংখ্য চাউলের কল দ্রুত গতিতে চলিতেছে। এক একটি চাউলের কল শত শত অনাথা বিধবার অন্ন কাড়িয়া লইতেছে। এইরপে জন কয়েক ধনিক সহস্ৰ সহস্র দরিদ্র ভগিনীর জীবিকা হরণ করিয়া নিজেরা ফাঁপিয়া উঠিতেছে। এই কারণেই ভারতের জনসাধারণের সবশ্রেষ্ঠ নেতা মহাত্মা গান্ধী সকল সময়েই কলের বিরুদ্ধে অভিযান করিয়াছেন। “কলের প্রতি—ধনতন্ত্রের প্রতি গান্ধীর প্রবল ঘণা আছে। ধনতন্ত্রের ফলে যে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কৃষক ও শিল্পীর জীবিকার উপায় নষ্ট হইয়াছে, গান্ধীর ঘৃণা তাহারই প্রতিচ্ছায়া মাত্র। 1. 事 事 冲 “গান্ধী সবর কলের অপব্যবহারই দেখিতে পান, বর্তমান যাগের কল-কারখানা জনকয়েক ধনিকের সবাথের জন্য সহস্ৰ সহস্ৰ লোককে কিরাপে ক্রীতদাসে পরিণত করিয়াছে, তাহাই তাঁহার চোখে পড়ে। ধনিকের এই শোষণনীতির ফলেই গান্ধীর মনে কল-কারখানার প্রতি ঘণার ভাব জমিয়াছে। কলের অপব্যবহারের বিরধেই গান্ধীর অভিযান। গান্ধী বলেন—শধে মাত্র কলের প্রতি আমার কোন ক্ৰোধ নাই—কিন্তু কলের বারা বহন শ্রম বচিয়া যায় এই অস্বাভাবিক ভ্রান্ত ধারণার বিরন্ধেই আমার আক্ৰমণ। মানুষ কলের বারা শ্রম বাঁচায়, কিন্তু অন্যদিকে তাহার ফলে সহস্ৰ সহস্ৰ লোক কম চু্যত হয়, এবং অনাহারে মরে। আমি কেবল মানব সমাজের একাংশের জন্য কাজ ও জীবিকা চাই না, সমগ্র মানব সমাজের জন্যই চাই। আমি সমগ্র সমাজের ক্ষতি করিয়া মস্টিমেয় লোকের ঐশ্বয চাই না। বতমানে যন্মের সহায়তায় মস্টিমেয় লোক জনসাধারণকে শোষণ করিতেছে। এই মন্টিমেয় লোকের কমের প্রেরণা মানবপ্রীতি নয়, লোভ ও লালসা। এই অবস্থাকে আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়া আক্ৰমণ করিতেছি।.....যন্ত্র মানুষকে পঙ্গ ও অক্ষম করিবে না, ইহাই আমি চাই। এমন একদিন আসিবে, যখন যন্ত্র কেবলমাত্র ঐশ্বয সংগ্রহের উপায় রপে গণ্য হইবে না। তখন কমী ও শ্রমিকদের এরপ দদশা থাকিবে না এবং বলাও মানষের