পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“এই দুঃখময় পরীতে, সমাজের বিধি ব্যবস্থা, দয়া ও সহানুভূতির বাহিরে শিশদের গলা টিপিয়া মারা হয়, জরাজীর্ণ বন্ধেরা পথে পরিত্যন্ত হয়, দাব’ল নিপীড়িত হয়, বিকৃত মস্তিকদের উপর পৈশাচিক নিষাতন হয়। তরণেরা কলুষিত হয়। এই জনবহুল দরিদ্র বস্তীতে সীলোকদের অতুিড় ঘরেই প্রতারক ও গণ্ডারা জয়া খেলে, হল্লা করে। একদিকে মন্মষেরা বাঁচবার জন্য অাঁকু পাঁকু করে, অন্যদিকে চোরেরা নেশা খাইয়া মারামারি করে। শিশুরা খেলা করে, কলরব করে; অন্যদিকে গণিকারা মদ খায়, মাতলামি করে। এই পাতালপরীতে শ্রেণিভেদ নাই, জাতিভেদ নাই। সকলেই এক ভাষায় কথা বলে,— নদীমা ও আস্তাকুড়ের ভাষা। চীনাম্যান, শেবতাগিনী, তরণে তরণী, নিগ্রো, জিপসী, ভিক্ষক, গীটকাটা জয়াচোর, গতে ব্যবসায়ী—সকলেই এখানে বন্ধ। “সতরাং দেখা যাইতেছে, যান্ত্রিক সভ্যতা ও র্যাশনালিজেশান (৩) উভয় মিলিয়া পথিবীকে দঃখময় করিয়া তুলিয়াছে। যথা—যন্তেরাষ্ট্রের গবর্ণমেণ্টের সম্মখে বিষম সমস্যা, তাহার বাজেটে ২০ কোটী ডলার ঘাটতি। ১৯৩০ সালে অক্টোবর মাসে যত মোটর যান তৈরী হইয়াছে, এবৎসর (১৯৩১) অক্টোবর মাসে তাহা অপেক্ষা শতকরা ৪০ ভাগ কম হইয়াছে, এবং এ বৎসরের প্রথম দশ মাসে ১৯৩০ সালের তুলনায় শতকরা ২৯ ভাগ কম হইয়াছে। নভেম্বর মাসে শতকরা ৮০ ভাগ কম মোটর যান তৈরী হইয়াছে। ২১টি কারখানার মধ্যে ১০টি একেবারে বন্ধ হইয়া গিয়াছে। যন্তরাষ্ট্রের রপ্তানী বাণিজ্য বহল পরিমাণে হ্রাস পাইয়াছে, ১৯২১ সালে জানয়ারী হইতে আগষ্ট পৰ্যন্ত উহার মল্যের পরিমাণ ছিল ৬৮ কোটী ১০ লক্ষ পাউণ্ড, ১৯৩০ সালে ঐ সময়ে হইয়াছিল ৫১ কোটী ১০ লক্ষ পাউণ্ড, এবংসর হইয়াছে মাত্র ৩২ কোটী ৬০ লক্ষ পাউন্ড। বর্তমানে যন্তরাষ্ট্রে বেকারের সংখ্যা এক কোটীরও বেশী। থাকিতেও মানুষ দদশা ভোগ করিতেছে, না খাইয়া মরিতেছে। গম গদামে পচিতেছে। চিনি নষ্ট করিয়া ফেলা হইতেছে। কফি সমুদ্রের জলে ফেলিয়া দেওয়া হইতেছে, ভুট্টা পোড়ান হইতেছে, তলা পোড়ান হইতেছে। কিন্তু এই অতি-প্রাচুষের মধ্যে মানুষ খাইতে পাইতেছে না, তাহার জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক জিনিষ মিলিতেছে না। এই বিবাতি IT-GT ESTF FTT fST | »TFs RTrost (Deutsche Allgemeine Zeitung) সম্প্রতি পথিবীতে ১ কোটী ১২ লক্ষ টন অতিরিক্ত গম’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে লিখিয়াছেন যে, আমেরিকাতে গম বাপীয় যন্ত্রে পোড়ান হইতেছে। ব্রাজিল সব চেয়ে বেশী কফি উৎপন্ন করে,—সেই দেশে এই বৎসরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৫,১৮,৭৫,২০০ কিলো কফি নষ্ট করিয়া ফেলা হইয়াছে।”—লিবার্টির বালিনের সংবাদদাতা, ৭ই জানয়ারী, ১৯৩২। ধনতালিকতা ও কল-কারখানার পরিণাম অতি-উৎপাদনের আর একটা কুফল হয়। অতিরিন্ত মঙ্গদ পণ্য বিরুয়ের জন্য সিনেমা, বায়কোপ প্রভৃতির সহযোগে বিরাট ভাবে প্রচার করিবার প্রয়োজন হয়—সরল প্রকৃতির কৃষকদের মনে নানা রপে বিকৃত রচি, কুচিতা ও হীন লালসার ভাব জাগ্রত করা হয়। এই প্রকার দনীতিপণ মিথ্যা প্রচার কার্য বারা লোকের অপরিসীম ক্ষতি হয়। জনসাধারণের মধ্যে চা'এর প্রচলন করিবার জন্য যে সব কৌশলপপ প্রচার করা হয় এবং তাহার ফলে যে ঘোর অনিষ্ট হয়, তৎসম্বন্ধে ইতিপবে (৩) বানালেনর জলপ শিী শিবাসীর আল আত্মরক্ষার্থ কোন দেশের শিল্প বাণিজ্যকে সঙ্গবন্ধ করা। হইতে