পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাব বঙ্গের প্রায় প্রত্যেক বড় বড় নদীতেই ডাক ষ্টীমার চলে, সন্দেরবন ও ডেসপ্যাচ ডাক, যাত্রী ও মাল প্রভৃতি বহন করিয়া থাকে। অনেক স্থলে ইহার সঙ্গে সাভিসও আছে। পাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল হইতে নৌকাযোগে কলিকাতায় আসিতে হইলে প্রায় পনর দিন সময় লাগিত। মালবাহী নৌকায় আসিলে আরও বেশী দিন লাগিত। কিন্তু এখন এই সব স্থানে সহজে ও অলপ সময়ে যাতায়াত করা যায়। কলিকাতা হইতে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ও ঢাকায় ১৪ । ১৫ ঘণ্টায় যাওয়া যায়। কোন অর্থনীতির ছাত্র, যে বাংলার আভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার খবর রাখে না, সে উল্লাসের সঙ্গে বলিবে যে, ইহার ফলে অন্তবাণিজ্য ও বহিবাণিজ্যের পরিমাণ বাড়িয়া গিয়াছে, জাতির ঐশবষ বন্ধি পাইয়াছে; কিন্তু ইহার অন্তরালে যে দারিদ্র্য ও দদশার ইতিহাস আছে, তাহা সে চিন্তা করে না। বস্তুতঃ, আমাদের শাসকেরা নানা তথ্য সহকারে লোকের ঐশ্বয বধির কথা সবাদাই প্রমাণ করিতে ব্যস্ত। অর্থনীতিবিদেরা তাঁহাদের সেই পরাতন বলি আওড়াইয়া বলেন যে, দ্রুতগামী যানবাহনের ফলে রপ্তানীবাণিজ্য বধি পাইয়াছে, অতএব লোকের ঐশ্বয* বধি হইতেছে। তাহাদের হিসাব মত অতিরিক্ত কৃষিজাত বিক্রয় করিয়া কৃষকদের এখন বেশ লাভ হয়। ইহার উত্তর বরপ আমি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডালিং-এর অভিমত উদ্ধত করিতেছি। ডালিং বলেন,—“যাহা সহজে পাওয়া যায়, তাহা সহজেই নষ্ট হয়। সুতরাং কৃষকদের নব . লব্ধ ঐশবষের অনেকখানিই তাহাদের হাত গলিয়া অন্যের পকেটে যায়। ত্রিশ বৎসরে কৃষকদের ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটী টাকা বাড়িয়া গিয়াছে এবং এখনও বন্ধি পাইতেছে।”— The Punjab Peasant, p. 283. কৃষকদের আয়বধি সত্ত্বেও, তাহাদের দারিদ্র্য ক্ৰমেই কিরুপ বধি পাইতেছে, তৎসম্বন্ধে মেমনও বলিয়াছেন,— "ইহা খাঁটী সত্য কথা যে, ৫o বৎসর প্রবে। যদিও যশোরের কৃষকদের ভাল বাড়ী ছিল না, ভাল পোষাক ছিল না, তব তাহারা দইবেলা পেট ভরিয়া থাইত; তাহদের আয় অলপ ছিল বটে, কিন্তু ব্যয়ও সামান্য ছিল। তাহারা প্রচুর পরিমাণে খাদ্য শস্য উৎপন্ন করিত, এবং নগদ টাকার জন্য তাহারা ব্যস্ত হইত না, অথবা এখনকার মত সস্তা বিলাসদ্রব্য কিনিত না। তাহদের আয়বধি হইয়াছে বটে, কিন্তু তাহা নামে মাত্র, ইহা সত্যকার আয় নহে; কেননা তাহাদের মধ্যে শতকরা ৫০ জনই অত্যাবশ্যকীয় জিনিষের জন্য ব্যতীত মোটেই ধান বিক্রয় করিতে পারে না, সতরাং শস্যের মল্যে বধি হওয়ার দরুণ তাহদের কোনই লাভ হয় না। পক্ষান্তরে তাহাদের জীবনযাত্রার আদশ উচ্চতর হইয়াছে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়িয়াছে এবং তাহাদের আয় হইতে সব প্রকার অভাব পরণ না হওয়াতে, ঋণের পরিমাণ কুমেই বন্ধি পাইতেছে।” (কুষি কমিশনের রিপোর্ট, ৩২৮ পঃ) মিঃ ডালিং-এর হিসাব অনুসারে ভারতের কৃষকদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬০০ শত কোটী টাকা। বঙ্গায় প্রাদেশিক ব্যাকিং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে (১৯৩০-৩১) কেবলমাত্র বাংলাদেশের গ্রামবাসী কৃষকদের ঋণের পরিমাণ ১৩ কোটী টাকা। উক্ত রিপোর্ট হইতে নিম্নলিখিত অংশ উদ্ধত করিবার যোগ্য — “মহাজনদের সদের হার শতকরা ৫০ টাকা হইতে শতকরা ৩০০ টাকা পৰ্যন্ত। ঋণের পরিমাণ, বন্ধকীর প্রকৃতি, ঋণ দেওয়ার জন্য মলধন সলভ কি না ইত্যাদি বিষয়ের উপর সদের হার নির্ভর করে। অধিকাংশ ঋণের চক্ৰবন্ধি হারে সনদ হয়, এবং ৬ মাস পরে চক্রবখি হয়, কোন কোন স্থলে ৩ মাস পরেই চক্ৰবন্ধি হয়। এই প্রদেশের (বাংলার) প্রত্যেক জেলার মহাজনী ব্যবসা বহলভাবে প্রচলিত। ইহার মলে নানা কারণ আছে, ১৮