পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহাজনদের মলধনের স্বল্পতা, সমবায় সমিতি ও লোন অফিস সমাহে প্রয়োজন মত টাকা ধার দিবার অক্ষমতা, খাতকদের মধ্যে প্রচলিত প্রথা, ইত্যাদি।” উন্নত প্রণালীর যানবাহনের ব্যবস্থা সম্বন্ধে অনেক কথা বলা হইয়াছে। ইহা যে দরিদ্র কৃষক সম্প্রদায়ের পক্ষে অবিমিশ্র কল্যাণকর হয় নাই, তাহা নিঃসন্দেহ প্রমাণিত হইয়াছে। মিঃ র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড বলেন – ■ “রেলওয়েগুলি অবস্থা আরও জটিল করিয়া তুলিয়াছে, দভিক্ষের এলাকা বধি করিয়াছে।......এক একটি ফাম গ্রীষ্মপ্রধান দেশের সষের মত সমস্ত শষিয়া নেয়, পড়িয়া থাকে নীরস মরভূমি। ফসলের দই এক সপ্তাহ পরেই, ভারতের উদ্বত্ত গম ও চাল কারবারীদের হাতে চলিয়া যায় এবং পর বৎসর যদি অনাবটি হয়, তবে কৃষক না খাইয়া NG "—Awakening of India, p. 165. মিঃ হোরেস বেল এক সময়ে স্টেট রেলওয়ে সমহের জন্য ভারত গবৰ্ণমেণ্টের কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ১৯০১ সালে সোসাইটি অব আর্টসে পঠিত একটি প্রবন্ধে তিনি ঠিক এই কথাই বলিয়াছেন। ১৮৭৮ সালে স্যার জজ ক্যাবেলও বলেন,— *চলাচলের ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে খাদ্য শস্যাদি সমস্ত রপ্তানী হইয়া যাইতেছে, . এবং শস্য সঞ্চয় করিয়া রাখিবার পরাতন অভ্যাস লোপ পাইয়াছে। এই অভ্যাসই পাবে দভিক্ষের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ বরপ ছিল।” বিশ বৎসর পরে ১৮৯৮ সালে দভিক্ষ কমিশনও এই মত সমর্থন করিয়াছেন,— “রপ্তানী বাণিজ্যের প্রসার এবং চলাচলের উন্নততর ব্যবসথা শস্য সঞ্চয় করিয়া রাখিবার প্রবত্তি হ্রাস করিয়াছে। অজন্মার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার উপায় বরপে এই প্রথা পাবে কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে বহল পরিমাণে প্রচলিত ছিল।” সতরাং স্পষ্টই দেখা যাইতেছে রেলওয়ে বারা ভারতে দভিক্ষ নিবারিত হয় নাই। বস্তুতঃ, আনষঙ্গিক আত্মরক্ষার উপায় ব্যতীত, রেলওয়ের বারা অবিমিশ্র কল্যাণ হয় না। কিন্তু এক শ্রেণীর সরকারী কর্মচারীরা তোতাপাখীর মত ক্ৰমাগত আবত্তি করিয়া থাকেন যে, রেলওয়ে ভারত হইতে দভিক্ষ দ্রীভূত করিয়াছে। (৯) মিঃ র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড যথার্থই বলিয়াছেন যে, রেলওয়ে দভিক্ষের এলাকা বধি করিয়াছে। আর একটা কথা। পাবে যাতায়াতের অসন্ত্রবধার জন্য রায়ত ও গ্রামবাসীরা বিবাদ বিসবাদে গ্রামের মাতব্বরদের সালিশাঁতেই সন্তুষ্ট থাকিত। কিন্তু এখন তাহারা রেল, মোটর বাস ও দ্রুতগামী স্টীমারে জেলা ও মহকুমা সহরে মামলা মোকদ্দমা করিতে ছটে, বাংলাদেশে বহুসংখ্যক লাইট রেলওয়ে ও তৎসংসষ্ট স্টীমার সাভিস মামলাবাজদের ့ ဇာဇ၊ সতরাং চলাচলের উন্নত ব্যবস্থা রায়তদের অবস্থার উন্নতি করিয়াছে !! অত্যন্ত দভাগ্যের বিষয়, পাবে আমাদের গ্রাম্য জীবনে যে উৎসাহ ও জীবনের পন্দন ছিল, তাহা এখন লোপ পাইয়াছে। পক্ষী ও মৎস্যদের মধ্যে জীবনের যে সহজ সরল আনন্দ দেখা যায়, পাবে আমাদের গ্রামবাসীদের মধ্যেও সেইরূপ আনন্দের প্রাচুর্য ছিল। (১) কিন্তু সরকারী বিবরণ অনুসারে-রেলওয়ে দেশ হইতে দভিক্ষ দরে করিয়াছে । । যথা,--“পাবে যে সব প্রেতমতি ভারতীয় কৃষকদের পশ্চাদনসেরণ করিত, এখন তাহার একটি পরাস্ত হইয়াছে, দভিক্ষ এখন আর পাবেীকার মত ভয়াবহ নহে-রেলওয়ে, খাল এবং ভারতগুবৰ্ণমেণ্টের সতকতা, নানারপ কাৰ্যকরী উপায়ের ফলেই ইহা সম্ভবপুর হইয়াছে।”क्राईमान, ऐफिङ्ग ss२७-२१ ।।