পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ক্লয় করিত এবং নিকটবতী হাটেই উহা বিক্রয় হইত। সঙ্গতা দামের বিদেশী পণ্য আমদানী হওয়াতে, ঐ সব শিল্পজাত আর বিক্রয় হয় না, সতরাং শিলপীদিগকে নিজ নিজ বত্তি ত্যাগ করিয়া কৃষিকাষ অবলম্বন-করিতে হইয়াছে। এখনও অবসর সময়ে তাহারা এই সব শিল্পকাষ কিছু কিছু করে, তবে বেশীর ভাগ ফরমাইজি জিনিষই তৈরী করিয়া থাকে। রংপরের সতরঞ্চ বাংলার সবর বিখ্যাত ছিল। কিন্তু দেশের সবত্র রেলপথে যাতায়াতের সুবিধা হওয়াতে, বিহার ও যন্তপ্রদেশের নিকৃষ্ট ও সস্তা সতরঞ্চ, রংপরের সতরঞ্চকে লোপ করিয়া দিয়াছে। “চট শিল্প –জেলার সীলোকেরাই পাবে চট বনিত, এখনও তাহারাই বনিয়া থাকে। তাহারা নিজেরাই পাট হইতে সন্তা কাটে এবং তদ্বারা চট বনে। পবে এই চটের খব চাহিদা ছিল। কৃষকদের মধ্যে জীবিকার আদশ যখন খাব নীচু ছিল, তখন তাহারা শাঁত কালে রাত্রে এই চট গায়ে দিয়াই শাঁত নিবারণ করিত। দই তিন খানি একত্রে সেলাই করিলে লেপের কাজ হইত। কিন্তু এখন সমতা বিদেশী কবল চটের স্থান অধিকার করিয়াছে। “এণ্ডি শিল্প –এই শিল্প দ্রুত লোপ পাইতেছে। “তলা বয়ন শিল্পঃ—এই শিল্প প্রায় লোপ পাইয়াছে। “কাঁসা শিল্প –এই শিল্প প্রধানতঃ জেলার প্রবাঞ্চলে প্রচলিত ছিল। ইহাও প্রায় লপ্ত হইয়া গিয়াছে। “চিনি ও গড় শিল্প –বহ বৎসর পবে রংপর বাংলার অন্যতম প্রধান গড় উৎপাদনকারী জেলা ছিল। চিনির কারখানার চিহ্ন এখনও দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু এই সব কারখানায় কখনও কল ব্যবহত হইত না। চিনি এখন অলপ পরিমাণে তৈরী হয় এবং প্রজা পাবণ প্রভৃতিতে ঐ চিনি ব্যবহত হয়। বিদেশ হইতে আমদানী সস্তা চিনি রংপরের চিনি শিল্পকে লোপ করিয়া দিয়াছে। *. | "রংপরের লোকসংখ্যা ২৩ লক্ষ এবং ইহা কৃষিপ্রধান জেলা। মিঃ জে. এন. গাত এম. এ. আই. সি. এস. কমিশনারের হিসাব মতে এই জেলার কৃষিজাত সম্পদের মল্যে প্রায় ৯ই কোটী টাকা। সতরাং এখানকার অধিবাসীদের বার্ষিক আয় মাথা পিছ প্রায় ৪০, টাকা, মাসে ৩.০ এবং দৈনিক প্রায় ৭ পয়সা। জমির উপর চাপ কুমেই বধি পাইতেছে এবং এই চাপ কমাইবার জন্য শিল্পের উন্নতি ও প্রসার-বিশেষ প্রয়োজন। অন্যথা জমি লইয়া বিবাদ বিসবাদ, মামলা মোকদ্দমা সবাদা হইতে থাকিবে।" বাংলাদেশে বৈদেশিক শাসন প্রত্যেক কুটীর শিল্পকে লোপ করিবার জন্য যথাসাধ্য করিয়াছে, কেননা হোম হইতে কলের তৈরী জিনিষ এদেশে আমদানী করিতে হইবে – পক্ষান্তরে, জাপান কুটীর শিল্পের উন্নতি করিবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছে ও করিতেছে। উদ্ধত বিবরণ হইতে বাবা যাইবে ঘে, সভ্য বৈদেশিক শাসনে বৈজ্ঞানিক উন্নতি এবং সবত্র রেল ও টীমারে যাতায়াতের সুবিধা হওয়াতেও কৃষকদের অবস্থার কোন উন্নতি হয় নাই। র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড রাষ্ট্রনীতিকের দরদটি লইয়া এই অবস্থা যথার্থ’রপে উপলব্ধি করিয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন, “পাশ্চাত্য প্রাচ্যদেশে বিষম শ্ৰম করিতেছে।"অ্যাডাম স্মিথ ও রিকাডোর গ্রন্থ হইতে ধার করা মতামত একটি সরল প্রাচীনপন্থী জাতির ঘাড়ে চাপাইলে, ফল শোচনীয় হয়। আমাদের দেশেও তাহাই ঘটিয়াছে।