পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিমাণের উপরে কোম্পানীর প্রধান কর্মচারীদের যোগ্যতা নিভর করিত। ভারতের দারিদ্র্যের ইহাই ছিল প্রধান কারণ, অথচ ইহাকেই তাহার ঐশ্বষের লক্ষণ বলিয়া মনে করা দুইত। অসংখ্য বাণিজ্য পোত ভারতের মুল্যবান পণ্যসম্ভারে পণ হইয়া প্রতি বৎসর ইংলন্ডে আসিত এবং জনসাধারণের চোখের সম্মুখে ঐ ঐশবষের দশ্য প্রদশিত হইত। লাকে মনে করিত, ষে দেশ হইতে এমন সব মল্যবান পণ্যসম্ভার রপ্তানী হইয়া আসিতে পারে, তাহা না জানি কতই ঐশবষশালী ও সেখানকার অধিবাসীরা কত সখী! এই রপ্তানী পণ্যের দ্বারা এরপও মনে হইতে পারিত যে, প্রতিদানে ইংলণ্ড হইতেও পণ্য সম্ভার ভারতে রপ্তানী হয় এবং সেখানকার ব্যবসায়ীদের মলধন বধি পায়। কিন্তু ইহা প্রকৃতপক্ষে বাণিজ্যসভার নয়, ভারতের পক্ষ হইতে প্ৰভু ইংলণ্ডকে দেয় বাষিক কর মাত্র, এবং তাহাই লোকের মনে ঐশ্বষের মিথ্যা মায়া সস্টি করিত।” বাংলার ঐশ্ববষ সরাসরি বিলাতে যাইত অথবা অন্য উপায়ে পরোক্ষভাবে বিলাতে পেপছিত,—উহার ফল বাংলার পক্ষে একই প্রকার। হাণ্টার বলেন – “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্যবসাদার হিসাবে প্রতি বৎসর প্রায় ২ই লক্ষ পাউণ্ড বাংলা হইতে চীনে লইত ; মাদ্রাজ তাহার মুলধনের জন্য বাংলা হইতে অথ সংগ্ৰহ করিত; এবং বোম্বাই তাহার শাসন ব্যয় যোগাইতে পারিত না, বাংলা হইতেই ঐ ব্যয় যোগাইতে হইত। কাউন্সিল সবাদা এই অভিযোগ করিতেন যে, একদিকে অন্তবাণিজ্য চালাইবার মত মাদ্রা দেশে থাকিত না, অন্যদিকে দেশ হইতে ক্ৰমাগত অজস্র রৌপ্য বাহিরে রপ্তানী হইত।” ১৭৮০ খৃঃ প্রধান সেনাপতি স্যার আয়ার কুট সপরিষদ গবণর জেনারেলকে নিম্নলিখিত পত্র লিখেনঃ– “মাদ্রাজের ধনভান্ডার শন, অথচ ফোট সেন্ট জজের ব্যয়ের জন্য মাসিক ৭ লক্ষ টাকার বেশী আশর প্রয়োজন। ইহার প্রত্যেক কড়ি বাংলা হইতে সংগ্রহ করিতে হইবে, অন্য কোন সথান হইতে এক পয়সাও পাইবার সম্পভাবনা আমি দেখিতেছি না।” ১৭৯২ খৃস্টাব্দে প্রধান সেনাপতি বিলাতের ইন্ডিয়া হাউসে লিখেন,—“রাজ্যের অধিবাসী ও সৈন্য সকলকেই প্রধানতঃ বাংলার অর্থেই পোষণ করিতে হইতেছে।” হাস্টার লিখিয়াছেন—“মারাঠা যন্ধ চালাইবার জন্য কলিকাতার ধনভান্ডার শান্য করা হইয়াছিল।......১৭৯o খস্টোব্দের শেষে টিপ সালতানের সঙ্গে যন্ধের ফলে কোম্পানীর ধনভান্ডার শোষিত হইয়াছিল।” r লড ওয়েলেসলি মারাঠাদের সঙ্গে প্রবল সংগ্রাম আরম্ভ করিয়াছিলেন এবং তাহার ফলে শেষ পর্যন্ত মারাঠা শক্তি ধবংস হইয়াছিল। কিন্তু এই যন্ধের ব্যয় বাংলাকেই যোগাইতে হইয়াছিল। স্মরণাতীত কাল হইতে পলাশীর যন্ধে পর্যন্ত বাংলাই ছিল ভারতের মহাজন । (২) পলাশী শোষণ এই অধ্যায়ের প্রথমে দিল্লী কর্তৃক বাংলার ধনশোষণের কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু এই শোষণের সহিত পলাশী শোষণ রপে যাহা পরিচিত, তাহার যথেষ্ট প্রভেদ আছে; যে আথিক শোষণের ফলে বাংলার ধন ক্ৰমাগত ইংলন্ডে চলিয়া যাইতেছে, তাহারই নাম পলাশী শোষণ । “১৭০৮ খঃ–১৭৫৬ খৃঃ পৰ্যন্ত বাংলায় ইংরাজ কোম্পানীর আমদানী পণ্যের শতকরা ৭৪ ভাগই ছিল বপ এবং ইহার পরিমাণ ছিল ৬৪,o৬,০২৩ পাউণ্ড। ইংরাজ কোম্পানীর