পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুন্দু ল মাল ন হল। ঐ সব সভায় মাড়োয়ারী বণিকেরা যোগ 1 (a) আসাম ব্রিটিশ অধিকারভুক্ত হইবার পবেই মাড়োয়ারীরা ব্ৰহমপত্রের উৎপত্তিস্থান সদিয়া পৰ্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য করিতেছিল। তার পর এক শতাব্দীরও বেশী অতীত হইয়াছে এবং বতমানে মাড়োয়ারীরা আসামের সবত্র নিজেদের ব্যবসায়, ব্যাক প্রভৃতি বিস্তার করিয়াছে। তাহারা ইয়োরোপীয় চা-বাগান গলিতেও মুলধন যোগাইতেছে, যদিও আসামীদের তাহারা টাকা দেয় না । (৮) দাজিলিং, কালিম্পং—(১) সিকিম ও ভুটান সীমান্তে, মাড়োয়ারীরা পশম, মগনাভি, ঘি, এলাচি প্রভৃতির রপ্তানী ব্যবসা করে এবং লবণ, বস্তুজাত প্রভৃতি আমদানী করে। এই সব ব্যবসায়ে তাহাদের কয়েক কোটী টাকা খাটে, এবং এ ক্ষেত্রে তাহারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বাঙালীরা এই ব্যবসায়ের ক্ষেত্র হইতে নিজেদের দোষে হঠিয়া গিয়াছে। মাড়োয়ারীরা ধীরে ধীরে প্রবেশ করিয়া আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য ও পল্লীর আর্থিক অবস্থার উপর কিরাপ প্রভাব বিস্তার করিয়াছে, কয়েকটি দষ্টান্ত দিলে তাহা পরিকার বুঝা যাইবে। কমাটার ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে স্টেশনের সন্নিকটে একটি হাট বা বাজার আছে। এখানকার সমস্ত আমদানী ও রপ্তানী বাণিজ্য মাড়োয়ারীদের হাতে। কমর্শটার হইতে প্রায় পাঁচ মাইল দরে কারো নামক একটি স্থানে একবার আমি গিয়াছিলাম। এখানেও ২। ১টি মাড়োয়ারী বণিক সমস্ত ব্যবসায় দখল করিয়া বসিয়া আছে, দেখিলাম। নিকটবতী অঞ্চলের দরিদ্র কৃষকদের টাকা ধার দিয়াও তাহারা বেশ দু’পয়সা উপাঞ্জন করিতেছে। বাংলা দেশেও অবস্থা ঠিক ঐরাপ। উত্তর বঙ্গে বগড়ার নিকটে তালোরাতে একজন মাড়োয়ারীই প্রধান চাউল ব্যবসায়ী। সে একটি চাউলের কল স্থাপন করিয়াছে। টাকা লঙ্গনীর কারবার করিয়াও সে প্রভূত উপাজন করে। খলনার দক্ষিণাংশে কপোতাক্ষী তীরে বড়দল গ্রাম। এখানে প্রতি সপ্তাহে হাট বসে এবং বহল পরিমাণে আমদানী রপ্তানীর কাজ হয়। কিন্তু এখানকার সমসত বড় বড় গদীই মাড়োয়ারীদের। বাঁকুড়ার অন্তগত বিষ্ণপের তসর বসের কেন্দ্র। কয়েক বৎসর পাবেও বাঙালীদের হাতে কাপড়ের ব্যবসা ছিল। কিন্তু উদ্যোগী মাড়োয়ারীরা এখন বাঙালীদের এই ব্যবসা হইতে বহিস্কৃত করিয়াছে। মশিদাবাদ ও মালদহের রেশম কাপড়ের ব্যবসাও মাড়োয়ারী ও ভাটিয়া ব্যবসায়ীদের দাদনের টাকায় চলিতেছে। তাহারাই প্রধানতঃ এই রেশমের বসাজাত রপ্তানী করে। (৭) “প্রাপ্ত বিবরণ হইতে বঝো যায়, রংপরে থাকিবার সময়েই রামমোহন বন্ধবেগদের সঙ্গে মিলিত হইয়া ধম সবন্ধে আলোচনা করিতেন,—পৌত্তলিকতা তাঁহাদের বিশেষ আলোচ্য বিষয় ছিল। রংপরে তখন জনবহুল সহর এবং একটি ব্যবসা কেন্দ্র ছিল—বহ জৈন ধমাবলম্বী মাড়োয়ারী এখানে ; এই সব মাড়োয়ারীদের মধ্যে কেহ কেহ রামমোহনের সভায় যোগ দিতেন। মিঃ লিওনাড বলেন যে, তাঁহাদের জন্য রামমোহনকে ও অন্যান্য জৈন্য ধমের গ্রন্থ পড়িতে gèassin or Life and Letters of Ram Mohan Ray, London (1900) by Miss Collet. (৮) গেট সাহেবের “আসাম” গ্রন্থে আছে,—“১৮৩৫ খৃস্টাব্দে আমরা দেখিতে পাই অধ্যবসায়ী মাড়োয়ারী বণিকেরা আসামে তাঁহাদের ব্যবসায় চালাইতেছেন, তাঁহাদের মধ্যে কেহ কেহ সদিয়া পর্যন্ত যাইয়াও কারবার করিতেন। এই সময়ে গোয়ালপাড়া হইতে কলিকাতা আসিতে ২৫। ৩০ দিন লাগিত এবং কলিকাতা হইতে গোয়ালপাড়া বাইতে ৮০ দিনেরও বেশী লাগিত।” রপ্তানী কিন্তু তাঁহারা সকলেই সরকারী অফিসার, কেরাণী প্রভৃতি। '