পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সদাগরের কেরাণী ভুলিয়া যায় যে, খটি ভারতীয় ফামেও (যথা বোম্বাইয়ে) কেরাণীদের বাজার দর অনুসারে অতি সামান্য বেতন দেওয়া হয় এবং ব্যবসায়ীরা তাহাদের কাজে খাটাইয়া নিজেরা ধনী হয়। দশ বৎসর পাবে (১৯২২, জানয়ারী ২৫শে) ইংলিশম্যান ভবিষ্যৎবাণী করিয়াছিলেন যে, বাঙালী কেরাণী লোপ পাইবে। कर्गजकाठाव्र भब्रिबज्र नभौल छनज२था উপরোক্ত শিরোনামায় একটি প্রবন্ধে ইংলিশম্যান’ লিখিয়াছিলেন বাঙালীরা কিরপে তাহাদের কার্যসন্ধান হইতে ক্রমশই বে-দখল হইতেছে — “লোকে যখন বলে যে, গত ২০ বৎসরে কলিকাতার লোকসংখ্যার প্রভূত পরিবতন হইয়াছে, তখন তাহারা সাধারণতঃ কলিকাতার যে সব উন্নতি হইয়াছে, জীবনযাত্রার বাচ্ছদ্য বধি পাইয়াছে, রাস্তা ঘাট, দালান কোঠা, আলো ও সবাস্থ্যের ব্যবস্থা উন্নততর হইয়াছে, সেই সব কথাই ভাবে। তাহারা সবাপেক্ষা যে বড় পরিবতন তাহাই লক্ষ্য করে না। কলিকাতা কুমেই অ-বাঙালী সহর হইয়া দাঁড়াইতেছে, এবং প্রতি বৎসরই অজস্র বিদেশী কলিকাতায় আমদানী হইতেছে—উহাদের উদ্দেশ্য কলিকাতায় বসবাস করিয়া জীবিকাজন করা। ইহারা যে কেবল ভারতের অন্যান্য প্রদেশ হইতে আসে, তাহা নয়, পথিবীর সমগ্র অঞ্চল হইতেই আসে। যন্ধের সময় ভারতের বাহির হইতে লোক আসা বন্ধ হইয়াছিল, কিন্তু যন্ধের পর হইতে উহাদের সংখ্যা দ্রুতবেগে বাড়িয়া যাইতেছে। একথা সত্য যে, জামানেরা ভারত হইতে একেবারে বিদায় হইয়াছে, কিন্তু তাহাদের পরিবতে আমেরিকাবাসীরা আসিতেছে। তাহারাও জামানদের মতই কমশক্তিসম্পন্ন এবং কলিকাতায় বাস করিবার জন্য দঢ়সকল্প। আর এক সতরে ভূমধ্যসাগরের তীরবতী স্থান সমুহ হইতে আগত লোকদের ধরিতে হইবে, উহারা বাঙালী দোকানদারদের সঙ্গে রীতিমত প্রতিযোগিতা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। তৃতীয় শ্রেণীর লোক মধ্য এসিয়া ও আমেনিয়া হইতে আগত, উহারাও কলিকাতায় বাঙালীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়া অন্ন সংস্থান করিয়া লইতেছে। চীনা পাড়াতেও লোক বাড়িতেছে এবং জুতা তৈরী ও ছতারের কাজ বাঙালী মিস্ত্রীদের নিকট হইতে তাহারা প্রায় সম্পণেরপে বে-দখল করিয়াছে। “কিন্তু ভারতের অন্যান্য প্রদেশের লোকের সঙ্গে প্রতিযোগিতাতেই বাঙালী হিন্দ ও মুসলমান বেশী মার খাইতেছে। ২০ বৎসর পাবেও কলিকাতা সহরের ঘন বসতিপণ জায়গা গলি বাঙালীদের দ্বারা পণ ছিল। কিন্তু বৰ্তমানে কলিকাতার কোন অঞ্চল সম্বন্ধেই এমন কথা আর বলা যায় না। যন্ধের পর্ব হইতেই অবশ্য মাড়োয়ারীদের আমদানী হইয়া আসিতেছে, কিন্তু এখনও উহা পঞ্চাশ বৎসরের বেশী হয় নাই। তৎপশ্চাবে তুলিতেছিল, তাহারা সকলেই ছিল বাঙালী। বড়বাজার বাঙালী কেন্দ্র ছিল এবং সেখান হইতেই সহরের ব্যবসা বাণিজ্য চারি দিকে বিস্তৃত হইয়া পড়িত। বতমানে বড়বাজারের কথা বলিলেই মাড়োয়ারীদের কথা বঝোয়। মাড়োয়ারীরা কলিকাতার বড় বড় অর্থনীতিক সমস্যার মীমাংসা করে, এবং শেয়ার বাজারে, পাইকারী বাজারে সবত্রই তাহাদের প্রভাব। খুচরা দোকানদারীতেও পাঞ্জাবী বেনিয়া এবং হিন্দুস্থানী মদাঁদের আমদানী হইয়াছে। উহারা অলি গলির মধ্যে নিজেদের ভাষায় লিখিত সাইনবোড়ী টাঙাইয়া পরম উৎসাহে ব্যবসা করিতেছে। কলিকাতার বিদেশী বস্ত্ৰ বজনের সযোগ লইয়া বোম্বাইরে বোরা এবং পাঠান